আজ শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯০%

কক্সবাজারে ২ লাখ ৯৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি আটক

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:58:30 pm, Friday, 4 September 2026
  • 4

কক্সবাজারে ২ লাখ ৯৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি আটক

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কক্সবাজারে মাদকবিরোধী পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ২ লাখ ৯৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দসহ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ২ জনকে আটক করেছে। এসব অভিযানে ইয়াবা পাচারের কাজে ব্যবহৃত ১টি পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি ও ১টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক রাত ২ টার দিকে বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ পালংখালী বিওপির বিশেষ টহলদল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী আঞ্জুমানপাড়ার ফাইসা খাল এলাকায় অবস্থান নেয়।

প্রায় রাত আড়াইটার সময় জেলের ছদ্মবেশে মাছের ঝুড়ি হাতে মায়ানমার দিক থেকে একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করেন। পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার হাতে থাকা মাছের ঝুড়ি তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ৫০,০০০ পিস ইয়াবা, একটি বাটন মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তি উখিয়ার বালুখালী নলবুনিয়া গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. ইমরান (৩৪)। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০.২০টার দিকে খারাংখালী বিওপির টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী বিএসপি পোস্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত আনুমানিক ১০.৪০ টার সময় ২ জন ব্যক্তিকে মায়ানমার থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে।

বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দুটি পোটলা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পোটলা দুটি তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ২,০০,০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এদিকে, পালংখালী বিওপির টহলদল বৃহস্পতিবার আনুমানিক বিকেল ৫.৩০ টার দিকে নিয়মিত পোস্ট ডিউটি চলাকালে পূর্ব ক্যারেঙ্গাঘোনা এলাকায় মাঝির ছদ্মবেশে মায়ানমার থেকে একটি নৌকায় করে একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখতে পায়।

বিজিবি টহলদল তাকে চ্যালেঞ্জ করলে সে নৌকা থেকে লাফ দিয়ে সাঁতরে মায়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে নৌকাটি তল্লাশি করে পাটাতনের নিচে অভিনব কায়দায় লুকানো একটি ব্যাগ থেকে ৪০,০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাচারের কাজে ব্যবহৃত নৌকাটিও জব্দ করা হয়। এছাড়া, বৃহস্পতিবার আনুমানিক বিকেল ৩.৪০ টার দিকে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি শীলখালী চেকপোস্টে পৌঁছালে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা ও বিজিবি ডগ হেনরি (নারকোটিক্স) গাড়িটিতে তল্লাশি চালান।

এ সময় ডগ হেনরির সহায়তায় গাড়ির চালকের স্টিয়ারিংয়ের নিকটে অভিনব কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৪,০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গাড়ির চালক মো. ওমর ফারুককে (১৯) আটক করা হয়। আটককৃত ওমর ফারুক কক্সবাজার সদরের পিএমখালী তুতখালী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। একই সঙ্গে মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত চাঁদের গাড়ি ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মো. ইমরান মায়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে অধিক দামে বিক্রয়ের উদ্দেশে বহন করার কথা স্বীকার করেছে। অপরদিকে, মো. ওমর ফারুক টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কক্সবাজারে বেশি দামে বিক্রয়ের উদ্দেশে নিয়ে যাচ্ছিল বলে জানায়। উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানান, মাদক সরবরাহকারী ও এর সঙ্গে জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে মাদকসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবারও দেখা যেতে পারে মেসিকে: সংবাদমাধ্যমের দাবি

কক্সবাজারে ২ লাখ ৯৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি আটক

Update Time : 06:58:30 pm, Friday, 4 September 2026

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কক্সবাজারে মাদকবিরোধী পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ২ লাখ ৯৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দসহ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ২ জনকে আটক করেছে। এসব অভিযানে ইয়াবা পাচারের কাজে ব্যবহৃত ১টি পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি ও ১টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক রাত ২ টার দিকে বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ পালংখালী বিওপির বিশেষ টহলদল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী আঞ্জুমানপাড়ার ফাইসা খাল এলাকায় অবস্থান নেয়।

প্রায় রাত আড়াইটার সময় জেলের ছদ্মবেশে মাছের ঝুড়ি হাতে মায়ানমার দিক থেকে একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করেন। পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার হাতে থাকা মাছের ঝুড়ি তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ৫০,০০০ পিস ইয়াবা, একটি বাটন মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তি উখিয়ার বালুখালী নলবুনিয়া গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. ইমরান (৩৪)। এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০.২০টার দিকে খারাংখালী বিওপির টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী বিএসপি পোস্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত আনুমানিক ১০.৪০ টার সময় ২ জন ব্যক্তিকে মায়ানমার থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে।

বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দুটি পোটলা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পোটলা দুটি তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ২,০০,০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এদিকে, পালংখালী বিওপির টহলদল বৃহস্পতিবার আনুমানিক বিকেল ৫.৩০ টার দিকে নিয়মিত পোস্ট ডিউটি চলাকালে পূর্ব ক্যারেঙ্গাঘোনা এলাকায় মাঝির ছদ্মবেশে মায়ানমার থেকে একটি নৌকায় করে একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখতে পায়।

বিজিবি টহলদল তাকে চ্যালেঞ্জ করলে সে নৌকা থেকে লাফ দিয়ে সাঁতরে মায়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে নৌকাটি তল্লাশি করে পাটাতনের নিচে অভিনব কায়দায় লুকানো একটি ব্যাগ থেকে ৪০,০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাচারের কাজে ব্যবহৃত নৌকাটিও জব্দ করা হয়। এছাড়া, বৃহস্পতিবার আনুমানিক বিকেল ৩.৪০ টার দিকে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি শীলখালী চেকপোস্টে পৌঁছালে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা ও বিজিবি ডগ হেনরি (নারকোটিক্স) গাড়িটিতে তল্লাশি চালান।

এ সময় ডগ হেনরির সহায়তায় গাড়ির চালকের স্টিয়ারিংয়ের নিকটে অভিনব কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৪,০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গাড়ির চালক মো. ওমর ফারুককে (১৯) আটক করা হয়। আটককৃত ওমর ফারুক কক্সবাজার সদরের পিএমখালী তুতখালী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। একই সঙ্গে মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত চাঁদের গাড়ি ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মো. ইমরান মায়ানমার সীমান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে অধিক দামে বিক্রয়ের উদ্দেশে বহন করার কথা স্বীকার করেছে। অপরদিকে, মো. ওমর ফারুক টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কক্সবাজারে বেশি দামে বিক্রয়ের উদ্দেশে নিয়ে যাচ্ছিল বলে জানায়। উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানান, মাদক সরবরাহকারী ও এর সঙ্গে জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে মাদকসহ যেকোনো ধরনের অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।