আজ বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

দলের স্থবিরতা কাটাতে সাংগঠনিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:34:34 pm, Thursday, 3 September 2026
  • 5

দলের স্থবিরতা কাটাতে সাংগঠনিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটাতে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সাংগঠনিক সংস্কারের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আগামীতে কমিটিতে বড় ধরনের রদবদল আসছে, যেখানে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বহুল আলোচিত এক ব্যক্তি এক পদ নীতি।

আরামদায়ক চেয়ারের রাজনীতি চিরতরে বিদায় করে রাজপথের পরীক্ষিত তরুণ ও লড়াকু মুখগুলোকে মূল নেতৃত্বে নিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে দলটি। শুদ্ধি অভিযান ও ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি : বিএনপির বর্তমান কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে একই নেতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে থাকার প্রবণতা চলে আসছে। ফলে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ এবং দলের ভেতরে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা ব্যাহত হচ্ছিল।

হাইকমান্ডের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো নেতাই যুগপৎভাবে দলীয় পদ এবং সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ বা প্রভাবশালী পদ ধরে রাখতে পারবেন না। এই শুদ্ধি অভিযানের ফলে দীর্ঘদিন ধরে পদ আঁকড়ে থাকা অনেক প্রভাবশালী ও প্রবীণ নেতা বাদ পড়তে পারেন বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে। সংস্কার নিয়ে হাইকমান্ডের কঠোর বার্তা : সংস্কারের এই রূপরেখা প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে সময়ের চাহিদা মিটাতে হয়।

আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় দল এখন আরও সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। অতীতে কে কী ছিলেন সেটি বড় কথা নয়, এখন থেকে মাঠের আন্দোলন এবং দলের প্রতি নিঃস্বার্থ আনুগত্যই হবে মূল্যায়নের একমাত্র মাপকাঠি। কোনো অলস বা আরামপ্রিয় নেতার জন্য কমিটিতে স্থান হবে না। দলের স্থায়ী কমিটির একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলের মধ্যে স্থবিরতা কাটানোর বিকল্প নেই।

আমরা এমন একটি নেতৃত্ব চাই যারা শুধু কাগজ-কলমে নেতা নন, বরং রাজপথে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকবেন। ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতির কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও দায়িত্বের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে যাচ্ছি। সাংগঠনিক কাঠামোর পুনর্বিন্যাস : নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, সাংগঠনিক দায়িত্ব কমিয়ে নেতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোতেও আসবে আমূল পরিবর্তন। এ বিষয়ে দলের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা দূর করতে আমরা কাজ করছি। যারা নিষ্ক্রিয় তাদের বাদ দিয়ে রাজপথের লড়াকু ও ত্যাগী তরুণদের মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তরুণ ও রাজপথের লড়াকুদের প্রাধান্য : গত কয়েক বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সরব থাকা তরুণ প্রজন্মকে দলীয় নীতিনির্ধারণী ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়ে আসাই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য।

প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের অভিজ্ঞতাকে দলের পরামর্শক বা মুরুব্বি হিসেবে সম্মান জানানো হলেও নির্বাহী পদগুলোতে নতুন মুখের জয়জয়কার দেখা যাবে। এই পরিবর্তনের ফলে দলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্রুপিং ও বলয় রাজনীতির অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা : বিএনপি মনে করে, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও শৃঙ্খলার ঘাটতি দূর না করলে জাতীয় সংকটে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়।

তাই এই শুদ্ধি অভিযান ও সাংগঠনিক সংস্কারের মাধ্যমে দলটি কেবল নিজেদের ঘর গোছাচ্ছে না, বরং আগামীর রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য নিজেদের পুনর্গঠন করছে। খুব শিগগিরই দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এবং অঙ্গসংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক, দীর্ঘ লড়াইয়ে পরীক্ষিত ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল।

সময়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে এবং দলকে সময়ের উপযোগী করে তুলতে সংগঠনের ভেতরে সংস্কার ও পুনর্গঠন একটি অবিচ্ছেদ্য রুটিন প্রক্রিয়া। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পর থেকেই আমরা দলকে আরও বেশি শক্তিশালী, গতিশীল এবং জনমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দলে কেবল তারাই মূল্যায়িত হবেন যারা যোগ্য, ত্যাগী এবং রাজপথে সক্রিয়। কোনোভাবেই নিষ্ক্রিয়দের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রেখে আন্দোলন বা দেশ পরিচালনা সম্ভব হতে পারে না।

দলের ময়মনসিংহ বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ এ প্রসঙ্গে বলেন, কেন্দ্রের এই সময়োপযোগী ও কঠোর সিদ্ধান্তকে আমরা তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরা সাধুবাদ জানাই। দীর্ঘদিন ধরে কিছু নেতার একচ্ছত্র আধিপত্য ও আজীবন পদ আঁকড়ে থাকার সংস্কৃতি দলের তৃণমূলের ভেতরে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি করেছিল। অনেকেই হয়তো ব্যক্তিগত পদ হারাতে পারেন, কিন্তু দলীয় বৃহত্তর স্বার্থে এতে দল অনেক বেশি উপকৃত হবে।

আমরা চাই, প্রকৃত ত্যাগী ও লড়াকু কর্মীরা নেতৃত্বে আসুক, যাতে যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমরা আরও বেশি জোরালো ভূমিকা রাখতে পারি। কুমিল্লা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া যোগ করে বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক নেতার কাজের সুনির্দিষ্ট পরিধি ও জবাবদিহিতা থাকা উচিত। একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলে কোনো কাজই ঠিকমতো বা সুচারুভাবে করা সম্ভব হয় না।

আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার অত্যন্ত দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্বে দলকে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে চান। অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাপক সংস্কার : এসব বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম যদি সঠিকভাবে সফল হয়।

তবে দলটি কেবল সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালীই হবে না, বরং সাধারণ মানুষের মাঝেও একটি অত্যন্ত ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা যাবে। পহেলা সেপ্টেম্বরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আসন্ন কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে দলটি নিজেদের একটি নতুন ও আধুনিক রূপে আত্মপ্রকাশের যে সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, তা দেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিষ্ক্রিয়দের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা : গত কয়েক বছরে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু নেতার নিষ্ক্রিয়তা, সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে দলীয় হাইকমান্ড। বিএনপির চেয়ারম্যানের সরাসরি নির্দেশনা : দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরো সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

এসব বিষয়ে এর আগে বর্তমান রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির সাবেক মহাসচিবের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সময়ের চাহিদায় দলকে যুগোপযোগী করতে সংস্কার একটি রুটিন প্রক্রিয়া এবং কাউন্সিলে কেবল যোগ্য ও ত্যাগীরাই মূল্যায়িত হবেন। তবে এসব বিষয়ে সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির কঠোর অবস্থান নিয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো জ্যেষ্ঠ নেতারা স্পষ্ট করেছেন, পদ কোনো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নয় এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থরা পদ হারাতে পারেন।

এসব বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আমাদের দলীয় সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ কারাবাস, মুক্তি আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ সংগ্রামে যারা নিজেদের জীবন ও সময় উৎসর্গ করেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ কাউন্সিলে সাংগঠনিক দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হচ্ছে মূলত কাজের পরিধি সুনির্দিষ্ট করতে এবং প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে।

কেউ যদি পদ নিজের দখলে রাখেন অথচ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করেন, তবে সেই পদে অন্য কোনো যোগ্য কর্মীকে সুযোগ দেওয়াটাই স্বাভাবিক রাজনৈতিক চর্চা। স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও কঠোর ও স্পষ্ট সুরে বলেন, রাজনীতিতে অলস বা আরামদায়ক চেয়ার আঁকড়ে থাকার দিন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। বিগত দিনে রাজপথের কঠিন লড়াইয়ে কে কেমন ভূমিকা রেখেছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন দলের হাইকমান্ডের টেবিলে রয়েছে।

পদ-পদবি কোনো পৈতৃক বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নয়। নির্দিষ্ট দায়িত্ব নিতে না পারলে বা মাঠে-ময়দানে সক্রিয় থেকে জনগণের পাশে না থাকলে সেই পদ ধরে রাখার কোনো নৈতিক বা দলীয় অধিকার কারো নেই।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার ১৩ হাজার ৬৭৯

দলের স্থবিরতা কাটাতে সাংগঠনিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি

Update Time : 10:34:34 pm, Thursday, 3 September 2026

সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটাতে সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে সাংগঠনিক সংস্কারের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আগামীতে কমিটিতে বড় ধরনের রদবদল আসছে, যেখানে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বহুল আলোচিত এক ব্যক্তি এক পদ নীতি।

আরামদায়ক চেয়ারের রাজনীতি চিরতরে বিদায় করে রাজপথের পরীক্ষিত তরুণ ও লড়াকু মুখগুলোকে মূল নেতৃত্বে নিয়ে আসার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে দলটি। শুদ্ধি অভিযান ও ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি : বিএনপির বর্তমান কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে একই নেতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে থাকার প্রবণতা চলে আসছে। ফলে তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ এবং দলের ভেতরে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা ব্যাহত হচ্ছিল।

হাইকমান্ডের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো নেতাই যুগপৎভাবে দলীয় পদ এবং সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ বা প্রভাবশালী পদ ধরে রাখতে পারবেন না। এই শুদ্ধি অভিযানের ফলে দীর্ঘদিন ধরে পদ আঁকড়ে থাকা অনেক প্রভাবশালী ও প্রবীণ নেতা বাদ পড়তে পারেন বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে। সংস্কার নিয়ে হাইকমান্ডের কঠোর বার্তা : সংস্কারের এই রূপরেখা প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে সময়ের চাহিদা মিটাতে হয়।

আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় দল এখন আরও সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। অতীতে কে কী ছিলেন সেটি বড় কথা নয়, এখন থেকে মাঠের আন্দোলন এবং দলের প্রতি নিঃস্বার্থ আনুগত্যই হবে মূল্যায়নের একমাত্র মাপকাঠি। কোনো অলস বা আরামপ্রিয় নেতার জন্য কমিটিতে স্থান হবে না। দলের স্থায়ী কমিটির একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলের মধ্যে স্থবিরতা কাটানোর বিকল্প নেই।

আমরা এমন একটি নেতৃত্ব চাই যারা শুধু কাগজ-কলমে নেতা নন, বরং রাজপথে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকবেন। ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতির কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও দায়িত্বের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে যাচ্ছি। সাংগঠনিক কাঠামোর পুনর্বিন্যাস : নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, সাংগঠনিক দায়িত্ব কমিয়ে নেতাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোতেও আসবে আমূল পরিবর্তন। এ বিষয়ে দলের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা দূর করতে আমরা কাজ করছি। যারা নিষ্ক্রিয় তাদের বাদ দিয়ে রাজপথের লড়াকু ও ত্যাগী তরুণদের মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তরুণ ও রাজপথের লড়াকুদের প্রাধান্য : গত কয়েক বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সরব থাকা তরুণ প্রজন্মকে দলীয় নীতিনির্ধারণী ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়ে আসাই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য।

প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের অভিজ্ঞতাকে দলের পরামর্শক বা মুরুব্বি হিসেবে সম্মান জানানো হলেও নির্বাহী পদগুলোতে নতুন মুখের জয়জয়কার দেখা যাবে। এই পরিবর্তনের ফলে দলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্রুপিং ও বলয় রাজনীতির অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা : বিএনপি মনে করে, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও শৃঙ্খলার ঘাটতি দূর না করলে জাতীয় সংকটে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়।

তাই এই শুদ্ধি অভিযান ও সাংগঠনিক সংস্কারের মাধ্যমে দলটি কেবল নিজেদের ঘর গোছাচ্ছে না, বরং আগামীর রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য নিজেদের পুনর্গঠন করছে। খুব শিগগিরই দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এবং অঙ্গসংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক, দীর্ঘ লড়াইয়ে পরীক্ষিত ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল।

সময়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে এবং দলকে সময়ের উপযোগী করে তুলতে সংগঠনের ভেতরে সংস্কার ও পুনর্গঠন একটি অবিচ্ছেদ্য রুটিন প্রক্রিয়া। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পর থেকেই আমরা দলকে আরও বেশি শক্তিশালী, গতিশীল এবং জনমুখী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দলে কেবল তারাই মূল্যায়িত হবেন যারা যোগ্য, ত্যাগী এবং রাজপথে সক্রিয়। কোনোভাবেই নিষ্ক্রিয়দের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রেখে আন্দোলন বা দেশ পরিচালনা সম্ভব হতে পারে না।

দলের ময়মনসিংহ বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ এ প্রসঙ্গে বলেন, কেন্দ্রের এই সময়োপযোগী ও কঠোর সিদ্ধান্তকে আমরা তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরা সাধুবাদ জানাই। দীর্ঘদিন ধরে কিছু নেতার একচ্ছত্র আধিপত্য ও আজীবন পদ আঁকড়ে থাকার সংস্কৃতি দলের তৃণমূলের ভেতরে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি করেছিল। অনেকেই হয়তো ব্যক্তিগত পদ হারাতে পারেন, কিন্তু দলীয় বৃহত্তর স্বার্থে এতে দল অনেক বেশি উপকৃত হবে।

আমরা চাই, প্রকৃত ত্যাগী ও লড়াকু কর্মীরা নেতৃত্বে আসুক, যাতে যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমরা আরও বেশি জোরালো ভূমিকা রাখতে পারি। কুমিল্লা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া যোগ করে বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক নেতার কাজের সুনির্দিষ্ট পরিধি ও জবাবদিহিতা থাকা উচিত। একই সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলে কোনো কাজই ঠিকমতো বা সুচারুভাবে করা সম্ভব হয় না।

আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার অত্যন্ত দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতৃত্বে দলকে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে চান। অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাপক সংস্কার : এসব বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম যদি সঠিকভাবে সফল হয়।

তবে দলটি কেবল সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালীই হবে না, বরং সাধারণ মানুষের মাঝেও একটি অত্যন্ত ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা যাবে। পহেলা সেপ্টেম্বরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আসন্ন কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে দলটি নিজেদের একটি নতুন ও আধুনিক রূপে আত্মপ্রকাশের যে সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, তা দেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিষ্ক্রিয়দের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা : গত কয়েক বছরে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে কিছু নেতার নিষ্ক্রিয়তা, সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে দলীয় হাইকমান্ড। বিএনপির চেয়ারম্যানের সরাসরি নির্দেশনা : দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরো সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

এসব বিষয়ে এর আগে বর্তমান রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির সাবেক মহাসচিবের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সময়ের চাহিদায় দলকে যুগোপযোগী করতে সংস্কার একটি রুটিন প্রক্রিয়া এবং কাউন্সিলে কেবল যোগ্য ও ত্যাগীরাই মূল্যায়িত হবেন। তবে এসব বিষয়ে সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির কঠোর অবস্থান নিয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো জ্যেষ্ঠ নেতারা স্পষ্ট করেছেন, পদ কোনো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নয় এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থরা পদ হারাতে পারেন।

এসব বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আমাদের দলীয় সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ কারাবাস, মুক্তি আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ সংগ্রামে যারা নিজেদের জীবন ও সময় উৎসর্গ করেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ কাউন্সিলে সাংগঠনিক দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হচ্ছে মূলত কাজের পরিধি সুনির্দিষ্ট করতে এবং প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে।

কেউ যদি পদ নিজের দখলে রাখেন অথচ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করেন, তবে সেই পদে অন্য কোনো যোগ্য কর্মীকে সুযোগ দেওয়াটাই স্বাভাবিক রাজনৈতিক চর্চা। স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও কঠোর ও স্পষ্ট সুরে বলেন, রাজনীতিতে অলস বা আরামদায়ক চেয়ার আঁকড়ে থাকার দিন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। বিগত দিনে রাজপথের কঠিন লড়াইয়ে কে কেমন ভূমিকা রেখেছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন দলের হাইকমান্ডের টেবিলে রয়েছে।

পদ-পদবি কোনো পৈতৃক বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নয়। নির্দিষ্ট দায়িত্ব নিতে না পারলে বা মাঠে-ময়দানে সক্রিয় থেকে জনগণের পাশে না থাকলে সেই পদ ধরে রাখার কোনো নৈতিক বা দলীয় অধিকার কারো নেই।