হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজীবাজারে প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ছয় বছরেও উৎপাদনে যেতে পারেনি। ২০২০ সাল থেকে উৎপাদনে যাওয়ার কথা থাকলেও এখনো জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়নি কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ।
উল্টো পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে গিয়ে টারবাইনের একটি ব্লেড ভেঙে যায়। সেই ব্লেড পরিবর্তনের অপেক্ষায় কেটে গেছে দুই বছরের বেশি সময়; কিন্তু মেরামত হয়নি এবং কেন্দ্রটি উৎপাদনেও যেতে পারেনি। সূত্র জানায়, চায়না ক্যাবল করপোরেশন লিমিটেডের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ। ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ করে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০২৪ সাল পর্যন্ত। কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০২৪ সালের এপ্রিলে। এ সময় ভেঙে যায় টারবাইনের একটি ব্লেড। এরপর থেকে কেন্দ্রটিতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ ব্লেডের পরিবর্তে নতুন ব্লেড আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এ কে এম মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ব্লেডটি আমেরিকা থেকে আনা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের জুনে কেন্দ্রটি উৎপাদনে যেতে পারে। জানা গেছে, এরই মধ্যে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না কেবল করপোরেশন লিমিটেডকে। তবে কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় বাকি অর্থ আটকে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
তবে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার কারণ এবং পরীক্ষামূলক চালুর সময় ব্লেড ভেঙে যাওয়ার পর নতুন ব্লেড আনতে এত সময় লাগার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ইয়াং হিলংয়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে না আসায় জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে না সম্ভাব্য ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় প্রকল্পের ব্যয় ও কাঙ্ক্ষিত সুফল নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

















