নাটোরের গুরুদাসপুরে পুকুর খননের নামে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। খনন করা বালু পাশের আরেকটি জমিতে স্তূপ করে রাখায় ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে আশপাশের শতাধিক বিঘা আবাদি জমি।
এ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃচিন্তা দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীরা একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযুক্তরা প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক কাদেরের ফসলি জমির মাঝখানে বসানো হয়েছে একটি বিশাল ড্রেজার মেশিন।
সেই মেশিন দিয়ে গভীর গর্ত করে বালু তোলা হচ্ছে। অভিযুক্ত চাপিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল নয়ন ও সুমন আলীর নেতৃত্বে এই বালু উত্তোলন চলছে। উত্তোলিত বালু পাশের একটি জমিতে জমা করে বিশাল স্তূপ তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে আশপাশের জমিগুলো মারাত্মক ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। বালুর স্তূপের কারণে পাশের জমিগুলোতে ফসল ফলানোও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ওরা খুব প্রভাবশালী ও ক্ষমতাশীন দলের নেতাকর্মী। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়না। চোখের সামনে আমাদের আবাদি জমি নষ্ট হওয়র হুমকিতে। পড়ছে, কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না। এই বালুর জন্য পাশের জমিতে চাষ করাও মুশকিল হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে আমাদের জমি পুকুরে ভেঙে যাবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গুরুদাসপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল ইসলাম জানান, এর আগে একবার অভিযান চালিয়ে আমরা বালু তোলা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। যদি আবার বালু তোলা শুরু হয়ে থাকে, তবে দ্রুত অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া পুকুর বা ফসলি জমি থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি।
আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















