দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রস্তাব সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। অনুমোদন মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সেপ্টেম্বreর দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবর থেকেই নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন চাকরিজীবীরা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের কার্যকর তারিখ ধরা হবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই। ফলে গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বর্ধিত বেতন বকেয়া হিসেবে চাকরিজীবীরা পাবেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে নতুন হারে মাসিক বেতন দেওয়া শুরু হবে।
এরপর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো বেতনের পার্থক্য হিসাব করে সেই অর্থ এককালীন পরিশোধ অথবা পরবর্তী মাসের বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশের পর প্রত্যেক গ্রেডের নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করে তিন মাসের বেতন পুনর্গণনা করা হবে। সচিব কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে জাতীয় বেতন কমিশনের প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হচ্ছে। জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ করেছিল। সরকার নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার পরিবর্তন আনা হবে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান। জাতীয় বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, তাদের সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

















