আজ রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ৭ বন্ধ স্টেশন ভূতুড়ে রূপ নিয়েছে, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:25:56 am, Sunday, 30 August 2026
  • 17
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জনবল সংকটসহ নানা কারণে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত সাতটি রেলওয়ে স্টেশন প্রায় স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। মৌলভীবাজারে পাঁচটি, হবিগঞ্জে একটি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে একটি রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে।

এক যুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা রেলওয়ে স্টেশনগুলো জনমানবশূন্য হয়ে অনেকটা ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় স্টেশনগুলোর কোটি কোটি টাকার মূল্যবান জায়গা দখল হচ্ছে। এছাড়াও বন্ধ স্টেশনগুলোর এলাকার বাসিন্দাদের(যাত্রীদের) বাড়তি টাকা ব্যয় করে অটোরিকশা বা বাসে চড়ে দূরের স্টেশনে গিয়ে রেলসেবা নিতে হচ্ছে। এতে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এসব স্টেশনের স্থানীয়যাত্রীরা বলেন, এক সময় ট্রেন থামত। স্টেশনগুলো ছিল এসব এলকার প্রাণকেন্দ্র। এসব স্টেশনে মেইল ট্রেইন ও লোকাল ট্রেন যাত্রাবিরতি করত। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বিভিন্নভাবে রেলওয়ে স্টেশন এলাকার মূল্যবান জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। এসব রেলওয়ে স্টেশন চালু করে দিনে অন্তত একটি রেলের স্টপেজ দিলে সাধারণ মানুষের উপকার হতো। জানা গেছে, শমশেরনগর-কুলাউড়ার মধ্যবর্তী স্থানে মনু, টিলাগাঁও, ভাটেরা,লংলা ও ছকাপন ছাড়াও হবিগঞ্জের লস্করপুর ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ রেলস্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

স্টেশনমাস্টার, সিগন্যাল, অবকাঠামো ও লাইনের সংকটে এক যুগের বেশি সময় বন্ধ। বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বলছে, জনবল সংকট থাকায় এসব স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে অবকাঠামো ঠিক করে ফের কিছু স্টেশন চালু করার ভাবনা রয়েছে। এ রুটের ট্রেন যাত্রীরা বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত বেশ কিছু স্টেশন বন্ধ থাকায় ক্রসিং সিস্টেমও বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে ওয়ানওয়ে লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। সবচেয়ে বেশি ক্রসিং বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোকে। স্টেশন চালু থাকা অবস্থায় যেকোনো ট্রেন শমশেরনগর থেকে ছেড়ে এলে এবং কুলাউড়া থেকে ছেড়ে যাওয়া যেকোনো ট্রেনকে মধ্যবর্তী স্টেশনে দাঁড় করিয়ে ক্রসিং দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শমশেরনগর অথবা কুলাউড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে ক্রসিং নিতে হয়।

এতে করে প্রতিদিন ক্রসিং সমস্যা নিয়ে সময় নষ্ট হচ্ছে যাত্রীদের। টিলাগাঁও রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা মাহবুব আহমেদ বলেন,স্টেশন চালু না থাকায় বাসে করে দূরবর্তী গন্তব্যে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে ট্রেনের জন্য সিলেটে যেতে হয়। স্টেশন চালু হলে পুরো এলাকায় প্রাণ ফিরে আসবে। এই অঞ্চলের যাত্রীদের কষ্ট লাঘব হবে। টিলাগাঁও এলাকার বাসিন্দা সোলেমান আহমেদ ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, মেইল ট্রেন চালু থাকা অবস্থায় এখানে থামত।

তবে এ ট্রেন ইঞ্জিন সংকটে বন্ধ হওয়ার পর আর কোনো ট্রেন থামেনি। জনবল সংকট দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। মনু এলাকার মাকিন আহমেদ বলেন, ট্রেন না থামায় অনেকেই জায়গা দখল করে নিয়েছেন। এসব জায়গা উচ্ছেদ অভিযানে কেউ আসেননা। কুলাউড়া স্টেশনমাস্টার রুমান আহমেদ ও শমশেরনগর স্টেশনমাস্টার রজত কুমার রায় বলেন, আখাউড়া-সিলেট রেলপথে বেশকিছু বন্ধ রেলস্টেশন রয়েছে।

এগুলো বি ক্যাটাগরিতে আছে। কবে চালু করা হবে তা জানা নেই। এ ছাড়া কিছু স্টেশনে সিগন্যাল বাতি ও লাইনে সমস্যা রয়েছে। রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, জনবল সংকটের কারণেসিলে ট-আখাউড়া রেলপথের বেশকিছু স্টেশন বন্ধ রয়েছে। জনবল নিয়োগ হলে পর্যায়ক্রমে বন্ধ স্টেশনগুলো চালু করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ৭ বন্ধ স্টেশন ভূতুড়ে রূপ নিয়েছে, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

Update Time : 10:25:56 am, Sunday, 30 August 2026

জনবল সংকটসহ নানা কারণে সিলেট-আখাউড়া রেলপথের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত সাতটি রেলওয়ে স্টেশন প্রায় স্থায়ীভাবে বন্ধ রয়েছে। মৌলভীবাজারে পাঁচটি, হবিগঞ্জে একটি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে একটি রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে।

এক যুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা রেলওয়ে স্টেশনগুলো জনমানবশূন্য হয়ে অনেকটা ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় স্টেশনগুলোর কোটি কোটি টাকার মূল্যবান জায়গা দখল হচ্ছে। এছাড়াও বন্ধ স্টেশনগুলোর এলাকার বাসিন্দাদের(যাত্রীদের) বাড়তি টাকা ব্যয় করে অটোরিকশা বা বাসে চড়ে দূরের স্টেশনে গিয়ে রেলসেবা নিতে হচ্ছে। এতে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এসব স্টেশনের স্থানীয়যাত্রীরা বলেন, এক সময় ট্রেন থামত। স্টেশনগুলো ছিল এসব এলকার প্রাণকেন্দ্র। এসব স্টেশনে মেইল ট্রেইন ও লোকাল ট্রেন যাত্রাবিরতি করত। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বিভিন্নভাবে রেলওয়ে স্টেশন এলাকার মূল্যবান জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। এসব রেলওয়ে স্টেশন চালু করে দিনে অন্তত একটি রেলের স্টপেজ দিলে সাধারণ মানুষের উপকার হতো। জানা গেছে, শমশেরনগর-কুলাউড়ার মধ্যবর্তী স্থানে মনু, টিলাগাঁও, ভাটেরা,লংলা ও ছকাপন ছাড়াও হবিগঞ্জের লস্করপুর ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ রেলস্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

স্টেশনমাস্টার, সিগন্যাল, অবকাঠামো ও লাইনের সংকটে এক যুগের বেশি সময় বন্ধ। বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বলছে, জনবল সংকট থাকায় এসব স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে অবকাঠামো ঠিক করে ফের কিছু স্টেশন চালু করার ভাবনা রয়েছে। এ রুটের ট্রেন যাত্রীরা বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত বেশ কিছু স্টেশন বন্ধ থাকায় ক্রসিং সিস্টেমও বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে ওয়ানওয়ে লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। সবচেয়ে বেশি ক্রসিং বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোকে। স্টেশন চালু থাকা অবস্থায় যেকোনো ট্রেন শমশেরনগর থেকে ছেড়ে এলে এবং কুলাউড়া থেকে ছেড়ে যাওয়া যেকোনো ট্রেনকে মধ্যবর্তী স্টেশনে দাঁড় করিয়ে ক্রসিং দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শমশেরনগর অথবা কুলাউড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে ক্রসিং নিতে হয়।

এতে করে প্রতিদিন ক্রসিং সমস্যা নিয়ে সময় নষ্ট হচ্ছে যাত্রীদের। টিলাগাঁও রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা মাহবুব আহমেদ বলেন,স্টেশন চালু না থাকায় বাসে করে দূরবর্তী গন্তব্যে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে ট্রেনের জন্য সিলেটে যেতে হয়। স্টেশন চালু হলে পুরো এলাকায় প্রাণ ফিরে আসবে। এই অঞ্চলের যাত্রীদের কষ্ট লাঘব হবে। টিলাগাঁও এলাকার বাসিন্দা সোলেমান আহমেদ ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, মেইল ট্রেন চালু থাকা অবস্থায় এখানে থামত।

তবে এ ট্রেন ইঞ্জিন সংকটে বন্ধ হওয়ার পর আর কোনো ট্রেন থামেনি। জনবল সংকট দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। মনু এলাকার মাকিন আহমেদ বলেন, ট্রেন না থামায় অনেকেই জায়গা দখল করে নিয়েছেন। এসব জায়গা উচ্ছেদ অভিযানে কেউ আসেননা। কুলাউড়া স্টেশনমাস্টার রুমান আহমেদ ও শমশেরনগর স্টেশনমাস্টার রজত কুমার রায় বলেন, আখাউড়া-সিলেট রেলপথে বেশকিছু বন্ধ রেলস্টেশন রয়েছে।

এগুলো বি ক্যাটাগরিতে আছে। কবে চালু করা হবে তা জানা নেই। এ ছাড়া কিছু স্টেশনে সিগন্যাল বাতি ও লাইনে সমস্যা রয়েছে। রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, জনবল সংকটের কারণেসিলে ট-আখাউড়া রেলপথের বেশকিছু স্টেশন বন্ধ রয়েছে। জনবল নিয়োগ হলে পর্যায়ক্রমে বন্ধ স্টেশনগুলো চালু করা হবে।