জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের নির্ধারিত মেনু অনুযায়ী নাড়িভুঁড়ি বাদ দিয়ে প্রতি পিস মাছের ওজন এক কেজি হওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে মাথা, লেজ ও নাড়িভুঁড়িসহ মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের মাছ।
বিষয়টি নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের জন্য রান্নার প্রস্তুতি হিসেবে একটি পাত্রে ছোট আকারের মাছ রাখা হয়েছে। রান্নাঘরের পাশের ওজন মাপার যন্ত্রে মাছগুলো ওজন করলে প্রতিটির ওজন ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের মধ্যে পাওয়া যায়। সেখানে মোট প্রায় ১২ থেকে ১৪ কেজি মাছ ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত ওজনের মাছ বাজারে না পাওয়া গেলে কম ওজনের মাছ সরবরাহ করার সুযোগ নেই। বিধি অনুযায়ী সে ক্ষেত্রে মেনু পরিবর্তন করে বিকল্প খাবার দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সাংবাদিকদের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
বিষয়টি জানার পর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. ফজলে রাব্বি রাকিব তাৎক্ষণিকভাবে রান্নাঘরে গিয়ে মাছের ওজন পরীক্ষা করেন। নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম পাওয়ায় তিনি পুরো চালান বাতিল করে রোগীদের জন্য মেনু পরিবর্তন করে মুরগির মাংস দেওয়ার নির্দেশ দেন। রোগীর স্বজন সজল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের খাবারের মান দীর্ঘদিন ধরেই নিম্নমানের।
মাছের দিন ছোট আকারের মাছ দেওয়া হয়, এমনকি মাথা ও লেজও পরিবেশন করা হয়, যা নির্ধারিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ বলেন, তিনি ছুটিতে থাকলেও বিষয়টি জানার পরপরই ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের মেনু পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

















