বিদেশ থেকে দারুণ ফ্রি-কিক নেওয়ার ভিডিও পাঠালেই বা ইউরোপের কোনো লিগে খেললেই জাতীয় দলে জায়গা মিলবে না। বাংলাদেশের নতুন কোচ থমাস ডুলির বার্তা পরিষ্কার, জাতীয় দলের জার্সি পেতে হলে মাঠে পারফরম্যান্স প্রমাণ করতে হবে।
প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে দেশে যখন উন্মাদনা চলছে, তখনই ডুলি সাফ জানিয়ে দিলেন, তার কাছে পরিচয়ের চেয়ে পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছেন ডুলি। তাঁর কথা, ‘বাইরে থেকে কেউ এলেই আমাদের সাহায্য করতে পারবে, ব্যাপারটা এমন নয়। আমাদের দেশেও ভালো খেলোয়াড় আছে। যাদের সামর্থ্যের আমরা বিশ্বাস রাখতে পারি।‘
শুধু দল নির্বাচন নয়, ডুলি প্রশ্ন তুলেছেন গোটা সংস্কৃতি নিয়েই। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ফুটবলকে ভালোবাসে ঠিকই, কিন্তু সেই ভালোবাসা এখনো মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কোচের ভাষ্য, ‘আমাদের দেশে সবাই শুধু সমর্থক হতে জানে। এটা বদলাতে হবে। দেশটা হতে হবে ফুটবলারদের। আর সেটার পথ খুঁজে বের করতে হবে আমাদেরই।’
নভেম্বরে ঢাকায় বসবে ছেলেদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। তার আগে ডুলির প্রথম বড় পরীক্ষা ফিফা আসিয়ান কাপ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ায় শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের জন্য ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে জাতীয় দলের প্রস্তুতি। প্রথম ধাপে ঘোষণা করা হয়েছে ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দল। যেখানে রাখা হয়েছে শুধু দেশের ঘরোয়া ফুটবলারদের। বিদেশি লিগে খেলা ফুটবলাররা পরে যোগ দেবেন ক্যাম্পে।
হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, তারিক কাজী, জায়ান আহমেদ ও ফাহমিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগ হতে পারেন ফারহান আলী ওয়াহিদ, জায়ান হাকিমসহ আরও কয়েকজন প্রবাসী ফুটবলার। তবে ডুলির নীতি একটাই— শুধু প্রবাসী পরিচয়ে নয়, যোগ্য হলে মিলবে সুযোগ।
এর আগেও ডুলি জানিয়েছিলেন, নাম, যশ কিংবা খ্যাতি দিয়ে জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া যাবে না। অনুশীলন ও ম্যাচে যে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন, জাতীয় দলের দরজা খুলবে তার জন্যই। এমনকি প্রবাসী ফুটবলারদের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ খরচের বিষয়েও সতর্ক এই কোচ। ডুলি বলেছেন, বিদেশ থেকে ২-৩ হাজার ডলার খরচ করে এমন কাউকে আনার কোনো মানে নেই, যে দলের বেঞ্চেই বসে থাকবে। বরং সেই অর্থ স্থানীয় খেলোয়াড়দের উন্নয়নে ব্যবহার করলে তারাই আরও ভালো করতে পারবেন।
এর আগে ফেডারেশন জানিয়েছিল, ফারহান ও জায়ান হাকিমসহ আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার যুক্ত হতে পারেন দলে। অর্থাৎ প্রবাসী স্রোত থামছে না। কিন্তু ডুলির কথায় স্পষ্ট, দরজা খোলা থাকলেও ভেতরে ঢোকার শর্ত বদলে গেছে।
তাই বলে প্রবাসীদের দরজা বন্ধ করছেন না ডুলি। বাংলাদেশের সঙ্গে পারিবারিক যোগসূত্র আছে যাঁদের, তাঁদের সুযোগ পাওয়া উচিত বলেই মনে করেন তিনি। তবে শর্ত একটাই — স্থানীয় খেলোয়াড়দের চেয়ে ভালো খেলে জায়গাটা অর্জন করতে হবে।
প্রবাসী ফুটবলার হোক কিংবা ঘরোয়া লিগের প্রতিভা—জাতীয় দলের দরজা সবার জন্য খোলা রাখতে চান থমাস ডুলি। তবে সুযোগ পেতে হলে দেখাতে হবে সামর্থ্য। এখন দেখার, ডুলির এই কঠিন নীতি বাংলাদেশ ফুটবলে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে।
















