আজ শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
১৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

সীতাকুণ্ডের জলিল টেক্সটাইল মিলসের জমি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, হবে সমরাস্ত্র কারখানা

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:02:22 pm, Friday, 28 August 2026
  • 17

সীতাকুণ্ডের জলিল টেক্সটাইল মিলসের জমি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, হবে সমরাস্ত্র কারখানা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে অবস্থিত দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন এই জমিতে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় ফৌজদারহাটের জলিল টেক্সটাইল মিল প্রাঙ্গণে চুক্তি স্বাক্ষর ও হস্তান্তর অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি, সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ এবং সেনাবাহিনী প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো ও সমরাস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যেই মূলত এই জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের উচ্চপ্রযুক্তির প্ল্যান্ট স্থাপনের পাশাপাশি সামরিক লজিস্টিকস এবং সংবেদনশীল সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে। ২০২৪ সালের জুনে তৎকালীন সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল মিলটি পরিদর্শনের পর জায়গাটিকে বিওএফ সম্প্রসারণের জন্য কৌশলগতভাবে উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করে।

একই বছরের ৩১ অক্টোবর সেনাসদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) শাখা থেকে জমি হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতীকী মূল্যে জমিটি বিওএফের কাছে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন এই সামরিক উদ্যোগের ঘোষণা আসলেও সাবেক শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে তীব্র অসন্তোষ। ২০০৪ সালে মিলটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা তাদের বকেয়া পাওনার অপেক্ষায় রয়েছেন। জলিল টেক্সটাইল মিলস শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম শফিক বসাক অ্যান্ড কোংয়ের অডিট অনুযায়ী বেতন, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ শ্রমিকদের মোট ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

সিবিএ সভাপতি মসিউদ্দৌলা জানান, পাওনা টাকা পরিশোধের কোনো সুরাহা না করেই কারখানাটি হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পাকিস্তান আমলে ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত জলিল টেক্সটাইল মিল ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে জাতীয়করণ করে বিটিএমসির অধীনে নেওয়া হয়।

১২ হাজার ৪০০ স্পিন্ডলের আধুনিক স্পিনিং ইউনিট এবং পরবর্তী সময়ে উইভিং ও ডাইং বিভাগ চালুর মাধ্যমে মানসম্মত সুতা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে সুনাম কুড়ায় এবং তিনবার জাতীয় স্বর্ণপদক লাভ করে। তবে লোকসান ও অব্যবস্থাপনার কারণে ২০০৪ সালে লাভজনক এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। হাজারো শ্রমিকের মুখর সেই শিল্পপ্রাঙ্গণ এখন একসময়ের স্মৃতিচিহ্ন মাত্র, যেখানে এবার গড়ে উঠছে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের নতুন এক অধ্যায়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

নওগাঁয় একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হলো সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত প্রবাসীর জানাজা

সীতাকুণ্ডের জলিল টেক্সটাইল মিলসের জমি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, হবে সমরাস্ত্র কারখানা

Update Time : 12:02:22 pm, Friday, 28 August 2026

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে অবস্থিত দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন এই জমিতে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) সম্প্রসারণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় ফৌজদারহাটের জলিল টেক্সটাইল মিল প্রাঙ্গণে চুক্তি স্বাক্ষর ও হস্তান্তর অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি, প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি, সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ এবং সেনাবাহিনী প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো ও সমরাস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যেই মূলত এই জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের উচ্চপ্রযুক্তির প্ল্যান্ট স্থাপনের পাশাপাশি সামরিক লজিস্টিকস এবং সংবেদনশীল সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে। ২০২৪ সালের জুনে তৎকালীন সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল মিলটি পরিদর্শনের পর জায়গাটিকে বিওএফ সম্প্রসারণের জন্য কৌশলগতভাবে উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করে।

একই বছরের ৩১ অক্টোবর সেনাসদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) শাখা থেকে জমি হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতীকী মূল্যে জমিটি বিওএফের কাছে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন এই সামরিক উদ্যোগের ঘোষণা আসলেও সাবেক শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে তীব্র অসন্তোষ। ২০০৪ সালে মিলটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা তাদের বকেয়া পাওনার অপেক্ষায় রয়েছেন। জলিল টেক্সটাইল মিলস শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম শফিক বসাক অ্যান্ড কোংয়ের অডিট অনুযায়ী বেতন, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ শ্রমিকদের মোট ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

সিবিএ সভাপতি মসিউদ্দৌলা জানান, পাওনা টাকা পরিশোধের কোনো সুরাহা না করেই কারখানাটি হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পাকিস্তান আমলে ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত জলিল টেক্সটাইল মিল ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে জাতীয়করণ করে বিটিএমসির অধীনে নেওয়া হয়।

১২ হাজার ৪০০ স্পিন্ডলের আধুনিক স্পিনিং ইউনিট এবং পরবর্তী সময়ে উইভিং ও ডাইং বিভাগ চালুর মাধ্যমে মানসম্মত সুতা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে সুনাম কুড়ায় এবং তিনবার জাতীয় স্বর্ণপদক লাভ করে। তবে লোকসান ও অব্যবস্থাপনার কারণে ২০০৪ সালে লাভজনক এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। হাজারো শ্রমিকের মুখর সেই শিল্পপ্রাঙ্গণ এখন একসময়ের স্মৃতিচিহ্ন মাত্র, যেখানে এবার গড়ে উঠছে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের নতুন এক অধ্যায়।