বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে ব্লুটুথ। ওয়্যারলেস ইয়ারবাড, স্পিকার, কিবোর্ড, গেমিং কন্ট্রোলার থেকে শুরু করে স্মার্টওয়াচ—প্রায় সব ধরনের ডিভাইসেই এখন ব্লুটুথের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।
তারবিহীন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এতে তারের ঝামেলা থাকে না। ফলে ডিভাইস বহন ও ব্যবহার করা সহজ হয়। তবে প্রায় সবকিছুর জন্য ব্লুটুথের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার কিছু অসুবিধাও রয়েছে। পুরোপুরি ওয়্যারলেস হওয়ার আগে তাই কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা দরকার। ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহারের অন্যতম বড় অসুবিধা হলোÑ এগুলোর নিজস্ব ব্যাটারি প্রয়োজন।
তারযুক্ত হেডফোন, কিবোর্ড বা মাউস সংযুক্ত ডিভাইস থেকেই প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পেতে পারে। কিন্তু ব্লুটুথ ডিভাইসের জন্য আলাদাভাবে ব্যাটারি চার্জ দিতে হয়। একাধিক ওয়্যারলেস ডিভাইস ব্যবহার করলে সবগুলোর চার্জ ঠিক রাখা অনেকের জন্য বাড়তি ঝামেলার কারণ হতে পারে। যেমন, ভ্রমণের সময় হঠাৎ ইয়ারবাডের চার্জ শেষ হয়ে যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ কাজের মাঝেও ব্লুটুথ কিবোর্ড বা মাউস বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া একাধিক ওয়্যারলেস ডিভাইস সংযুক্ত থাকলে ফোন বা কম্পিউটারের ব্যাটারিও তুলনামূলক দ্রুত শেষ হতে পারে। ব্লুটুথের মাধ্যমে অডিও পাঠাতে ডিজিটাল তথ্য তারবিহীনভাবে স্থানান্তরিত হয়। ব্যবহৃত কোডেক ও হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভর করে এ সময় অডিও সংকুচিত হতে পারে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে এর পার্থক্য খুব বেশি চোখে না পড়লেও উচ্চমানের অডিওকে যারা গুরুত্ব দেন, তারা তারযুক্ত সংযোগকে বেশি পছন্দ করতে পারেন।
এ ছাড়া অডিও পৌঁছাতে সামান্য বিলম্বও হতে পারে। বছরের পর বছর ব্লুটুথ ডিভাইস পেয়ার করার প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। তারপরও কখনো কখনো সংযোগ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। কোনো ডিভাইস ঠিকমতো সংযুক্ত না হলে সেটিংসে গিয়ে পেয়ারিং মোড চালু করা, ডিভাইসটি সরিয়ে আবার সংযুক্ত করা কিংবা নতুন করে পেয়ার করার প্রয়োজন হতে পারে।


















