রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (টিএসসিসি) একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার এই সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে এবং সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের একাডেমিক ভবনে এই সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রাত ১২টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরাই নিজ নিজ বিভাগের সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান করছিলেন এবং ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীরা হলেন— রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসান, সাজিদুর, নোমান ও সামিন।
তাঁদের মধ্যে ফেরদৌস ও সাজিদুরের অবস্থা গুরুতর। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের অতিরিক্ত প্রধান চিকিৎসক সাজিদ হাফিজ বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুজনের মাথায় ও চোখে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ’ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টিএসসিসিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বসার চেয়ার নিয়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। এর একপর্যায়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান।
এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হন। এই ঘটনার জের ধরে রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ অবস্থিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় ওই ভবনের ওপরতলা থেকে ম্যানেজমেন্টের শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে রসায়ন বিভাগের আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হন। পরে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থীরা রসায়ন বিভাগের একাডেমিক ভবন জাবির ইবনে হাইয়ান ভবনেও হামলা ও ভাঙচুর চালান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে রসায়ন বিভাগের কয়েকজন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।



















