আজ বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
১১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

প্রাথমিকের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে মিলল সুখবর

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:34:00 pm, Wednesday, 26 August 2026
  • 13

প্রাথমিকের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে মিলল সুখবর

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষক শূন্যপদ পূরণে অবশেষে সুখবর মিলেছে। দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে ছিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক শূন্যপদ।

এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। জানা গেছে, সম্প্রতি মাঠপর্যায়ে গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তালিকা যাচাই-বাছাই ও অভিযোগ নিষ্পত্তির পর তা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে। পিএসসির অনুমোদন পাওয়া গেলে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

প্রক্রিয়াটি প্রায় তিন মাসের মধ্যে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, মামলার জটিলতা ছিল। সেই মামলার জটিলতা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বাকি কাজ শিগগির শেষ হবে। পদোন্নতি আটকা ছিল যে মামলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা দীর্ঘদিনের।

শূন্যপদ থাকলেও এসব পদে বড় পরিসরে পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছিল না। এর পেছনে ছিল জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে আইনি জটিলতা। ২০১৩ সালে সারাদেশে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর তাদের চাকরিকাল, জ্যেষ্ঠতা এবং পদোন্নতি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

এ সংক্রান্ত বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির বিধান চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হয়। মামলার কারণে কারা জ্যেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কারা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও আটকে ছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ২ জুলাই আপিল বিভাগ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন।

এর ফলে আগে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কারণে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার অবসান হয় এবং প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ খুলে যায়। রায় হলেও সরাসরি পদোন্নতি নয় আদালতের রায় হওয়ার পরও সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। প্রথমে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে গ্রেডেশন তালিকা তৈরি হবে। এরপর তালিকা নিয়ে কারও আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা নিষ্পত্তির সুযোগ থাকবে।

অভিযোগ না থাকলে তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আসবে। গ্রেডেশন তালিকা হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ধাপে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে। পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, গ্রেডেশন তালিকা আমরা অনলাইনে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। এখন বিভিন্ন ইউনিটে এটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তালিকা তৈরির পর একটি নোটিশ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ৩০ কর্মদিবস সময় দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো অভিযোগ না এলে তালিকাটি আমাদের কাছে পাঠানো হবে। এরপর আমরা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি পিএসসিতে পাঠাবো। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যাবে। ৮০ শতাংশ পদোন্নতি, ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ প্রধান শিক্ষক পদ পূরণের ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়োগবিধিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রেই বড় অংশ রাখা হয়েছে।

২০২৫ সালের সংশোধিত নিয়োগবিধি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার বিধান করা হয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক পদে অন্তত ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতাসহ নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণের শর্ত রয়েছে। বর্তমানে যে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য, তা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

রংপুরে চার খুনের অপরাধী দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে সুনাম ক্ষুণ্ন হতো: রিজভী

প্রাথমিকের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে মিলল সুখবর

Update Time : 09:34:00 pm, Wednesday, 26 August 2026

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষক শূন্যপদ পূরণে অবশেষে সুখবর মিলেছে। দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে ছিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক শূন্যপদ।

এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। জানা গেছে, সম্প্রতি মাঠপর্যায়ে গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তালিকা যাচাই-বাছাই ও অভিযোগ নিষ্পত্তির পর তা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে। পিএসসির অনুমোদন পাওয়া গেলে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

প্রক্রিয়াটি প্রায় তিন মাসের মধ্যে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, মামলার জটিলতা ছিল। সেই মামলার জটিলতা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন মাঠপর্যায়ে পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বাকি কাজ শিগগির শেষ হবে। পদোন্নতি আটকা ছিল যে মামলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যতা দীর্ঘদিনের।

শূন্যপদ থাকলেও এসব পদে বড় পরিসরে পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছিল না। এর পেছনে ছিল জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে আইনি জটিলতা। ২০১৩ সালে সারাদেশে বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর তাদের চাকরিকাল, জ্যেষ্ঠতা এবং পদোন্নতি কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

এ সংক্রান্ত বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির বিধান চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হয়। মামলার কারণে কারা জ্যেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কারা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সুযোগ পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও আটকে ছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের ২ জুলাই আপিল বিভাগ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন।

এর ফলে আগে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কারণে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার অবসান হয় এবং প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ খুলে যায়। রায় হলেও সরাসরি পদোন্নতি নয় আদালতের রায় হওয়ার পরও সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে না। প্রথমে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে গ্রেডেশন তালিকা তৈরি হবে। এরপর তালিকা নিয়ে কারও আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা নিষ্পত্তির সুযোগ থাকবে।

অভিযোগ না থাকলে তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আসবে। গ্রেডেশন তালিকা হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ধাপে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে। পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, গ্রেডেশন তালিকা আমরা অনলাইনে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। এখন বিভিন্ন ইউনিটে এটি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তালিকা তৈরির পর একটি নোটিশ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ৩০ কর্মদিবস সময় দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো অভিযোগ না এলে তালিকাটি আমাদের কাছে পাঠানো হবে। এরপর আমরা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি পিএসসিতে পাঠাবো। সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যাবে। ৮০ শতাংশ পদোন্নতি, ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ প্রধান শিক্ষক পদ পূরণের ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়োগবিধিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রেই বড় অংশ রাখা হয়েছে।

২০২৫ সালের সংশোধিত নিয়োগবিধি অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার বিধান করা হয়েছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক পদে অন্তত ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতাসহ নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণের শর্ত রয়েছে। বর্তমানে যে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য, তা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে।