যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন মামলায় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দ্দারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ মো. নজরুল ইসলাম জামিন আবেদনের শুনানি শেষে স্থায়ী জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট শেখ আলমগীর আশরাফ। বিজয় কুমার জোয়ার্দ্দার মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার ছোনগাছা গ্রামের পরিমল জোয়ার্দ্দারের ছেলে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, মাগুরা জেলা সদরের রক্কুরপাড়া গ্রামের গোপাল সরকারের মেয়ে মুক্তা সরকারের সাথে বিজয়ের বিয়ে হয়। অভিযোগ ওঠে, বিয়ের কিছুদিন পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বিজয়। এমনকি স্ত্রীর অজান্তে তাকে ভারতে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে ওই নারীর সাথে অবস্থান করতে থাকেন তিনি। মুক্তা সরকার ভারতে অবস্থানকালে বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত দেশে ফেরেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর কাছে ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে শারীরিক নির্যাতন করে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘরে আটকে রাখা হয়। পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ৪ মার্চ স্বামী বিজয় জোয়ার্দ্দার, পরিবারের সদস্য ও অভিযুক্ত নারীসহ কয়েকজনকে আসামি করে আশাশুনি থানায় মামলা দায়ের করেন মুক্তা।
বিজয় জোয়ার্দ্দার পূর্বে হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে পরবর্তীতে নিম্ন আদালতে আপস-মীমাংসার শর্তে অস্থায়ী জামিনে মুক্ত ছিলেন। এরই মধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাশিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। বিভাগীয় পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে তাকে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাময়িক বদলিও করা হয়েছিল।
সোমবার আদালতে আসামিপক্ষ স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ মীমাংসার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে বিচারক আবেদন নামঞ্জুর করে বিজয়কে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (বিএসআর) পার্ট-১ এর বিধি ৭৩ অনুযায়ী, বিজয়ের ক্ষেত্রে নিচের আইনি বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে।
সাময়িক বরখাস্ত: ফৌজদারি মামলায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার বা আটক হলে, আটকের তারিখ থেকেই তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত (Suspension) বলে গণ্য হবেন।


















