বগুড়ার ধুনটে সরকারি নিয়ম ভেঙে চালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে পরীক্ষার ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৫০, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৫৫, তৃতীয় শ্রেণিতে ৫১, চতুর্থ শ্রেণিতে ৫৮, পঞ্চম শ্রেণিতে ৫৩ এবং প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। উপজেলার ২০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা গত ১৭ আগস্ট থেকে একযোগে শুরু হয়েছে।
পরীক্ষায় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শ্রেণিভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা করে অবৈধভাবে পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়েছে। সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষার ফি দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদ ও আরশি জানায়, তারা প্রত্যেকে ৩০ টাকা করে দিয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের কাছ থেকেও ৬০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
কয়েকজন অভিভাবকও সন্তানদের পরীক্ষার ফি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার নামে ফি নেওয়ার নিয়ম না থাকলেও তাদের সন্তানদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। শুধু পরীক্ষা ফি আদায়ই নয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেননি প্রধান শিক্ষক।
ফলে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগের মধ্যেও নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। চালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লতিফা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ে আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়েছে।
এছাড়া গাছ লাগানোর কথা স্বীকার করলেও বিদ্যালয় এলাকায় বৃক্ষরোপণের কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম দেখাতে পারেননি তিনি। ধুনট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইয়্যেদা জাহান বানু বলেন, পরীক্ষার ফি আদায় করার কোনো বিধান নেই। তারপরও এ ধরনের কাজ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন না করার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
















