আজ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৪২ কনটেইনার পণ্য নিলামে তুলছে কাস্টমস

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:51:14 pm, Monday, 24 August 2026
  • 10

চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৪২ কনটেইনার পণ্য নিলামে তুলছে কাস্টমস

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চট্টগ্রাম বন্দরে চলতি মাসে মোট ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-অকেশন পদ্ধতিতে নিলামে বিক্রির ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে দুটি পৃথক ক্যাটাগরিতে এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোমবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মোপযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যমান কনটেইনার জট নিরসন, ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তাসহ জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধকল্পে কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম নিয়মিতভাবে নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারিকৃত নিলামের স্থায়ী আদেশ নং-৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩ ও বিশেষ আদেশ নং-৮২/২০২৫/কাস্টমস অনুসারে দুটি পৃথক ক্যাটাগরিতে এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এর মধ্যে বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬ এ সর্বমোট ১০১টি লট রয়েছে, যার কনটেইনার সংখ্যা ২৯০টি। পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি-যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক ওয়েস্টেজ (স্ক্র্যাপ), চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, বিভিন্ন ধরনের সুতা ও কাপড়, সোলার মডিউল, লবণ, কাগজ, টাইলস, গৃহস্থালি পণ্য এবং ৮৬টি পুরাতন খালি কনটেইনার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- পণ্যচালানের নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না।

অন্যদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ই-অকশন নং-০৯/২০২৬ এ ১০৯ লটে মোট ১৫২ কনটেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিক্স, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, কেমিক্যাল, এসি যন্ত্রাংশ, টাইলস, স্টেইনলেস স্টিল কয়েল, স্ক্যানার, ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট, এলিভেটর এবং লবণসহ অন্যান্য জরুরি পণ্য।

নিলাম কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নিলাম কার্যক্রম অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিডারদের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পণ্য সরেজমিন পরিদর্শন ও অনলাইনে বিড করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ই-অকশন নং-০৯/২০২৬ এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর এবং বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬ এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর, পর্যন্ত অফিস চলাকালে বিডারদের জন্য সরেজমিনে পরিদর্শন করার ব্যবস্থা রয়েছে।

আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই কাস্টমসের অফিসিয়াল E-Auction পোর্টালে (https://auction.bdcustoms.gov.bd) নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনের পর ই-অকশন নং-০৯/২০২৬ এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩ টা পর্যন্ত। বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬ এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩ টা পর্যন্ত অনলাইনে দাখিল করা যাবে। অনলাইন বিডিংয়ের সময় প্রস্তাবিত দরমূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মূল কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।

সর্বোচ্চ দরদাতাকে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর প্রযোজ্য শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে পণ্যসমূহ খালাস গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তীতে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ৩টায় ই-অকশন নং-০৯/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স উন্মুক্ত করা হবে এবং আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স উন্মুক্ত করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি-নির্ভর এই নিলাম কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আশা প্রকাশ করছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

গাজীপুরের জৈনা বাজারে শ্রমিকের সড়ক অবরোধে তীব্র যানজট

চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৪২ কনটেইনার পণ্য নিলামে তুলছে কাস্টমস

Update Time : 07:51:14 pm, Monday, 24 August 2026

চট্টগ্রাম বন্দরে চলতি মাসে মোট ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-অকেশন পদ্ধতিতে নিলামে বিক্রির ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে দুটি পৃথক ক্যাটাগরিতে এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোমবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মোপযোগিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যমান কনটেইনার জট নিরসন, ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তাসহ জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধকল্পে কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম নিয়মিতভাবে নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারিকৃত নিলামের স্থায়ী আদেশ নং-৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩ ও বিশেষ আদেশ নং-৮২/২০২৫/কাস্টমস অনুসারে দুটি পৃথক ক্যাটাগরিতে এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এর মধ্যে বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬ এ সর্বমোট ১০১টি লট রয়েছে, যার কনটেইনার সংখ্যা ২৯০টি। পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি-যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক ওয়েস্টেজ (স্ক্র্যাপ), চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, বিভিন্ন ধরনের সুতা ও কাপড়, সোলার মডিউল, লবণ, কাগজ, টাইলস, গৃহস্থালি পণ্য এবং ৮৬টি পুরাতন খালি কনটেইনার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- পণ্যচালানের নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না।

অন্যদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ই-অকশন নং-০৯/২০২৬ এ ১০৯ লটে মোট ১৫২ কনটেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিক্স, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, কেমিক্যাল, এসি যন্ত্রাংশ, টাইলস, স্টেইনলেস স্টিল কয়েল, স্ক্যানার, ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট, এলিভেটর এবং লবণসহ অন্যান্য জরুরি পণ্য।

নিলাম কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নিলাম কার্যক্রম অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিডারদের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পণ্য সরেজমিন পরিদর্শন ও অনলাইনে বিড করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ই-অকশন নং-০৯/২০২৬ এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর এবং বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬ এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর, পর্যন্ত অফিস চলাকালে বিডারদের জন্য সরেজমিনে পরিদর্শন করার ব্যবস্থা রয়েছে।

আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই কাস্টমসের অফিসিয়াল E-Auction পোর্টালে (https://auction.bdcustoms.gov.bd) নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনের পর ই-অকশন নং-০৯/২০২৬ এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩ টা পর্যন্ত। বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬ এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩ টা পর্যন্ত অনলাইনে দাখিল করা যাবে। অনলাইন বিডিংয়ের সময় প্রস্তাবিত দরমূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মূল কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।

সর্বোচ্চ দরদাতাকে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর প্রযোজ্য শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে পণ্যসমূহ খালাস গ্রহণ করতে হবে। পরবর্তীতে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ৩টায় ই-অকশন নং-০৯/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স উন্মুক্ত করা হবে এবং আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় বিশেষ ই-অকশন নং-১০/২০২৬ এর দরপত্র বাক্স উন্মুক্ত করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি-নির্ভর এই নিলাম কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আশা প্রকাশ করছে।