গাজীপুর মহানগরীর গাছা ও টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় অবৈধভাবে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে দুটি কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে র্যাব-১। অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা, মোট ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং একজনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পলিথিন ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত গাছা ও টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। র‍্যাব-১ এর সিপিসি-১ এর সদস্যদের সহযোগিতায় গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালেহুর রহমান ও নূর নাহিন নিশাদ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, গাজীপুরের পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসান অভিযানে অংশ নেন।
র‍্যাব জানায়, গাছা থানার মাদবর বাড়ি এলাকায় আব্দুল খালেক সরকারের কারখানায় অবৈধভাবে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ক) ধারা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৪৩ ধারায় মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযানে ওই কারখানা থেকে ৫৩১ কেজি পলিথিন রোল ও ৪৭৯ কেজি পলিথিনের কাঁচামাল (দানা) জব্দ করা হয়। অন্যদিকে, টঙ্গী পূর্ব থানার হকের মোড় এলাকায় মো. শহিদুল্লাহর কারখানায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে পলিথিন উৎপাদন ও বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তাকে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬(ক) ধারা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৪৩ ধারায় মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করা হয়। এ সময় ওই কারখানা থেকে ১ হাজার ৩৭২ কেজি পলিথিন রোল, ৩০২ কেজি কাঁচামাল (দানা) এবং ১৮২ কেজি পলিথিন ব্যাগ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া টঙ্গী পূর্ব থানার হকের মোড় এলাকায় ‘টিটু’ নামের এক ব্যক্তিকে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ৫০ হাজার টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫৩ ধারায় আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
র‍্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানে মোট ১ হাজার ৯০৩ কেজি পলিথিন রোল, ১৮২ কেজি পলিথিন ব্যাগ এবং ৭৮১ কেজি পলিথিনের কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা এসব পণ্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মো. শহিদুল্লাহকে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
র‍্যাব জানায়, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অবৈধ পলিথিন উৎপাদন, মজুত ও বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

















