ভারতের বিহার থেকে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) মুর্শিদাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার শচীন মক্কার এ তথ্য জানান। পুলিশের জব্দ তালিকা অনুযায়ী, অভিযানে মোট ১০টি পিস্তল, সাতটি খালি ম্যাগাজিন ও ২১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা পিস্তলের মধ্যে দুটি ৯ এমএম, ছয়টি ৭ এমএম এবং দুটি দেশি তৈরি পিস্তল রয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে পলাতক ছিলেন মুর্শিদাবাদের তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতা পাপাই ঘোষ।
সম্প্রতি জেলা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশ হেফাজতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বহরমপুর থানার পুলিশ পাপাই ঘোষের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে সাতটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ম্যাগাজিন ও ১৭০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি এলাকায় অভিযান চালায় শক্তিপুর থানার পুলিশ।
সেখানে আরও পাঁচটি পিস্তল ও ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা গেছে, এসব অস্ত্র বিহার থেকে কেনা হয়েছিল এবং বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে মুর্শিদাবাদে আনা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, চলতি মাসে বাংলাদেশে পাচারের আগে মুর্শিদাবাদ ও উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা থেকে আরও কয়েক দফা আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
গত ১২ আগস্ট মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ থেকে সাতটি ৭ এমএম পিস্তল, ১০টি খালি ম্যাগাজিন ও ৩৫টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এর পরদিন ১৩ আগস্ট পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।






















