আজ রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:27:01 pm, Saturday, 22 August 2026
  • 20

শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ধানখেতে জমে থাকা পানিতে ফুটেছিল শাপলা। সেই শাপলা তুলতে নেমেছিল কয়েকজন শিশু। তাদের চোখে ছিল আনন্দ, হাতে শাপলা তোলার ব্যস্ততা। কিন্তু মুহূর্তেই সেই আনন্দ পরিণত হলো কান্নায়। পানিতে ডুবে যেতে থাকা ইয়াসমিনকে বাঁচাতে ছুটে গিয়েছিল জিসান।

শেষ পর্যন্ত দুজনের কেউই আর বাড়ি ফিরতে পারেনি। শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের হাজরাকাঠি গ্রামের দাসপাড়া মোড়সংলগ্ন জলাবদ্ধ ধানখেতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো হাজরাকাঠি গ্রামের ওলিয়ার রহমানের মেয়ে ইয়াসমিন খাতুন (৬) এবং মফিজুর রহমানের ছেলে জিসান হোসেন (১০)। ইয়াসমিন ও জিসান স্থানীয় হাজরাকাঠি মহিলা আলীম মাদ্রাসার প্রথম ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন জানান, শনিবার সকালে পারখাজুরা বাঁওড়ের আগাড়ে হাজরাকাঠি দাসপাড়া মোড়সংলগ্ন জলাবদ্ধ ধানখেতে কয়েকজন শিশু শাপলা তুলতে নামে। একপর্যায়ে ইয়াসমিন পানিতে ডুবে যেতে থাকলে তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে যায় জিসান। কিন্তু পানির গভীরে দুজনই ডুবে যায়। পরে আর কেউ তাদের পানির ওপর দেখতে পায়নি। স্বজনরা ইয়াসমিনকে উদ্ধার করে দ্রুত কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জিসানও পানিতে ডুবে মারা যায়। হাজরাকাঠি মহিলা আলীম মাদ্রাসার গণিত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাত্র ছয় বছরের ইয়াসমিন আর দশ বছরের জিসানের যে বয়সে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, চোখে থাকার কথা ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন, সেই বয়সেই একটি দুর্ঘটনা থামিয়ে দিল তাদের জীবন। আমাদের প্রতিষ্ঠানের দুই শিশু শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতে আমরা শোকাহত।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুই শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে হাজরাকাঠি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। যে শাপলা তুলতে গিয়ে দুই শিশুর মুখে হাসি ফুটে ওঠার কথা ছিল, সেই শাপলাই যেন আজ হয়ে উঠেছে এক মর্মান্তিক স্মৃতির সাক্ষী।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

রাজশাহীতে সারের জন্য কৃষক হয়রানি: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বদলি

শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

Update Time : 06:27:01 pm, Saturday, 22 August 2026

ধানখেতে জমে থাকা পানিতে ফুটেছিল শাপলা। সেই শাপলা তুলতে নেমেছিল কয়েকজন শিশু। তাদের চোখে ছিল আনন্দ, হাতে শাপলা তোলার ব্যস্ততা। কিন্তু মুহূর্তেই সেই আনন্দ পরিণত হলো কান্নায়। পানিতে ডুবে যেতে থাকা ইয়াসমিনকে বাঁচাতে ছুটে গিয়েছিল জিসান।

শেষ পর্যন্ত দুজনের কেউই আর বাড়ি ফিরতে পারেনি। শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের হাজরাকাঠি গ্রামের দাসপাড়া মোড়সংলগ্ন জলাবদ্ধ ধানখেতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো হাজরাকাঠি গ্রামের ওলিয়ার রহমানের মেয়ে ইয়াসমিন খাতুন (৬) এবং মফিজুর রহমানের ছেলে জিসান হোসেন (১০)। ইয়াসমিন ও জিসান স্থানীয় হাজরাকাঠি মহিলা আলীম মাদ্রাসার প্রথম ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন জানান, শনিবার সকালে পারখাজুরা বাঁওড়ের আগাড়ে হাজরাকাঠি দাসপাড়া মোড়সংলগ্ন জলাবদ্ধ ধানখেতে কয়েকজন শিশু শাপলা তুলতে নামে। একপর্যায়ে ইয়াসমিন পানিতে ডুবে যেতে থাকলে তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে যায় জিসান। কিন্তু পানির গভীরে দুজনই ডুবে যায়। পরে আর কেউ তাদের পানির ওপর দেখতে পায়নি। স্বজনরা ইয়াসমিনকে উদ্ধার করে দ্রুত কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জিসানও পানিতে ডুবে মারা যায়। হাজরাকাঠি মহিলা আলীম মাদ্রাসার গণিত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাত্র ছয় বছরের ইয়াসমিন আর দশ বছরের জিসানের যে বয়সে হাতে থাকার কথা ছিল বই-খাতা, চোখে থাকার কথা ছিল ভবিষ্যতের স্বপ্ন, সেই বয়সেই একটি দুর্ঘটনা থামিয়ে দিল তাদের জীবন। আমাদের প্রতিষ্ঠানের দুই শিশু শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতে আমরা শোকাহত।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুই শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে হাজরাকাঠি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। যে শাপলা তুলতে গিয়ে দুই শিশুর মুখে হাসি ফুটে ওঠার কথা ছিল, সেই শাপলাই যেন আজ হয়ে উঠেছে এক মর্মান্তিক স্মৃতির সাক্ষী।