চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান। শিল্প সচিব বলেন, জাহাজে অতিমাত্রায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই বিষাক্ত গ্যাসই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, এর প্রকৃত কারণ কী এবং কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না—সব বিষয় তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটিগুলোকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কারও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ভেতরে এখনও বিষাক্ত গ্যাস জমে রয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এসব গ্যাস অপসারণ করা হবে। গ্যাস অপসারণের সময় যাতে নতুন করে কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি না ঘটে, সে জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনের সময় শিল্প সচিবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের কমিটিতে রয়েছেন ১১ সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের কমিটিতে রয়েছেন ৯ সদস্য। এদিকে, ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে শনিবার সকাল ১১টার দিকে নিহত কয়েকজন শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে ঘটনার বিষয়ে কথা বলেছেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
স্বজনদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।



















