প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করেও এখন পর্যন্ত কোনো সুফল পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র মূল ভূখণ্ড-সংযুক্ত সাবেক ছিটমহল দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা, যা তিনবিঘা করিডোর নামেও পরিচিত।
দীর্ঘদিন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সীমিত সময়ের জন্য এ এলাকায় যাতায়াতের সুযোগ ছিল। প্রথমে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে করিডোর খুলে রাখা হতো। পরে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির আওতায় তিনবিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টার জন্য উন্মুক্ত করা হয়। দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসানের পর তৎকালীন সরকার দহগ্রামকে ইউনিয়নে উন্নীত করে এবং সেখানে একটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে।
১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয়টিতে বিষয়ভিত্তিক ২৫ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। তবে জাতীয়করণের সময় মাত্র সাতজন শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত হন। পরবর্তীতে ছয়জন শিক্ষক অবসরে গেলে বর্তমানে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন মাত্র একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক।
প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে একমাত্র শিক্ষক প্রতিদিন সর্বোচ্চ পাঁচটি ক্লাস নিতে পারছেন। ফলে অধিকাংশ শ্রেণির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। এ পরিস্থিতির অবসান এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা।
তাদের একমাত্র দাবি—অবিলম্বে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। চারদিকে ভারতের সীমান্তবেষ্টিত দহগ্রাম ইউনিয়নের উপজেলা শহরের সঙ্গে সংযোগের একমাত্র পথ তিনবিঘা করিডোর। ফলে উপজেলা সদরে গিয়ে পড়াশোনা করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। উপজেলা সদর থেকে দহগ্রামের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।
তাই স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। শিক্ষার্থী শাহারিয়ার বলেন, একসঙ্গে পাঁচটি শ্রেণির ক্লাস চলে। কিন্তু শিক্ষক আছেন মাত্র একজন। তিনি কোন ক্লাস নেবেন, আর অফিসের কাজই বা কীভাবে করবেন? ফলে পাঠদান কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত শিক্ষক পদায়ন করা হোক। অভিভাবক আজিজুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষক দিয়ে একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কীভাবে পরিচালিত হবে?
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ে না এলেও কাগজপত্র দেখলেই বুঝতে পারবেন এখানে কী অবস্থায় পাঠদান চলছে। অবহেলিত এই জনপদের শিক্ষার্থীরা এখনও বঞ্চিত। বিদ্যালয়ের একমাত্র সহকারী প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম বলেন, একাধিকবার শিক্ষক চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একাই পুরো প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত শিক্ষক পদায়নের দাবি জানাচ্ছি। শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, নন-ক্যাডার থেকে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















