2:49 pm, Monday, 3 August 2026

রোহিঙ্গাদের জন্য আড়াই কোটি ডলার সহায়তা ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:01:03 pm, Monday, 3 August 2026
  • 7

রোহিঙ্গাদের জন্য আড়াই কোটি ডলার সহায়তা ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD 25.25 million) অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২০২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এ অর্থায়ন প্রদান করা হবে, যা বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী জনগোষ্ঠী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এই অনুদানের ঘোষণা দেয়। বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা খাতে অর্থায়নের অনিশ্চয়তা ও ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই এ সহায়তা এসেছে। ফলে রোহিঙ্গা সংকটে ইউএনএইচসিআর ও এর অংশীদার সংস্থাগুলো ক্যাম্পে সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা অব্যাহত রাখতে পারবে। অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, অস্ট্রেলিয়া আমাদের অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সহনশীল করে তুলছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে সহায়তা অব্যাহত রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চান, তবে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি বলেন, প্রায় নয় বছর পর নতুন নতুন বৈশ্বিক মানবিক সংকট সামনে আসায় রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক মনোযোগ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা প্রমাণ করে যে বিশ্ব এখনও রোহিঙ্গাদের পাশে রয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউএনএইচসিআরকে দেওয়া এই সর্বশেষ অর্থায়ন নারী, কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে ব্যাপক সহিংসতা ও নির্যাতনের মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে, যাদের অধিকাংশই কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থান করছে। তাদের বেশিরভাগই দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, দীর্ঘদিনের অর্থায়ন সংকট রোহিঙ্গাদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অনেকেই উন্নত জীবনের আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করতে বাধ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ হয়েছেন বা প্রাণ হারিয়েছেন। এদিকে, ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের অনেকেই এখনও পর্যাপ্ত আশ্রয়, পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি এবং অন্যান্য মৌলিক সেবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণও জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংহতি ও সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়ার নতুন এই অর্থায়ন সেই প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫৮ বোতল মদ জব্দ, আটক ১

রোহিঙ্গাদের জন্য আড়াই কোটি ডলার সহায়তা ঘোষণা অস্ট্রেলিয়ার

Update Time : 02:01:03 pm, Monday, 3 August 2026

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ২ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD 25.25 million) অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। অস্ট্রেলিয়ার ২০২৬-২০২৮ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এ অর্থায়ন প্রদান করা হবে, যা বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী জনগোষ্ঠী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের উপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এই অনুদানের ঘোষণা দেয়। বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা খাতে অর্থায়নের অনিশ্চয়তা ও ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই এ সহায়তা এসেছে। ফলে রোহিঙ্গা সংকটে ইউএনএইচসিআর ও এর অংশীদার সংস্থাগুলো ক্যাম্পে সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা অব্যাহত রাখতে পারবে। অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, অস্ট্রেলিয়া আমাদের অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যা অঞ্চলকে আরও নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সহনশীল করে তুলছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা পূরণে সহায়তা অব্যাহত রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চান, তবে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য মিয়ানমারে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেয়িসোনি বলেন, প্রায় নয় বছর পর নতুন নতুন বৈশ্বিক মানবিক সংকট সামনে আসায় রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক মনোযোগ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তা প্রমাণ করে যে বিশ্ব এখনও রোহিঙ্গাদের পাশে রয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে অস্ট্রেলিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউএনএইচসিআরকে দেওয়া এই সর্বশেষ অর্থায়ন নারী, কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য অত্যাবশ্যক সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে ব্যাপক সহিংসতা ও নির্যাতনের মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে, যাদের অধিকাংশই কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থান করছে। তাদের বেশিরভাগই দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে প্রায় সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, দীর্ঘদিনের অর্থায়ন সংকট রোহিঙ্গাদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অনেকেই উন্নত জীবনের আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করতে বাধ্য হচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ হয়েছেন বা প্রাণ হারিয়েছেন। এদিকে, ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের অনেকেই এখনও পর্যাপ্ত আশ্রয়, পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি এবং অন্যান্য মৌলিক সেবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণও জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংহতি ও সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়ার নতুন এই অর্থায়ন সেই প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।