3:53 am, Monday, 3 August 2026

জেনে নিন মস্তিষ্কের ঘোলাটে ভাব দূর করার সহজ কৌশল

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:37:19 am, Monday, 3 August 2026
  • 3
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ব্যস্ত জীবনে প্রায়ই দেখা যায়, একটি রুমে গিয়ে ভুলে যান কেন আসা হয়েছিল, কথা বলার মাঝে খেই হারিয়ে ফেলা কিংবা খুব সাধারণ কোনো কাজেও মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট হয়। বিশেষ করে ছুটির দিন বা সাপ্তাহিক ছুটির পর কাজে ফেরার সময় এই ধরনের মানসিক অস্পষ্টতা বা ক্লান্তি বেশি দেখা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ব্রেইন ফগ’ বা ‘মস্তিষ্কের ঘোলাটে ভাব’। এটি কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং মনোযোগের অভাব, ভুলে যাওয়া ও ভাবনার গতি ধীর হয়ে যাওয়ার মতো কয়েকটি লক্ষণ বা উপসর্গের সমষ্টি। সাধারণত অতিরিক্ত মানসিক চাপ, পেরিমেনোপজ বা মেনোপজ, লং কোভিড কিংবা লুপাসের মতো অটোইমিউন রোগের কারণে ব্রেইন ফগ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এটি কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা বা সক্ষমতার অভাব নয়; বরং এটি হলো মস্তিষ্কের ক্লান্তি ও অতিরিক্ত চাপের সংকেত। ব্রেইন ফগ সাময়িক একটি বিষয়। তাই এমন হলে নিজের সম্পর্কে সচেতন থাকা, কাজের গতি কিছুটা কমানো এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দৈনন্দিন জীবনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ বা ‘ডিসিশন ফ্যাটিগ’ কমাতে সুনির্দিষ্ট রুটিন বা অভ্যাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত কার্যকরী। দিনের একটি নির্দিষ্ট ছন্দ থাকলে মস্তিষ্কের ওয়ার্কিং মেমোরির ওপর থেকে বাড়তি চাপ কমে যায়। সকালে ও রাতে একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা, যেমন পরদিনের পোশাক আগে থেকে গুছিয়ে রাখা বা প্রাতঃরাশের প্রস্তুতি আগে থেকে করে রাখা মস্তিষ্ককে অপ্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি দেয়। এর পাশাপাশি একটি কাজের পর আরেকটি কাজে ঝাঁপিয়ে না পড়ে মাঝখানে কিছুটা বিরতি নেওয়া জরুরি। টানা কাজ বা একের পর এক মিটিং মানসিক ক্লান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিটি কাজের মধ্যে অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিটের ছোট ছোট বিরতি নিয়ে একটু হাঁটা, জল পান করা বা শান্ত হয়ে বসে থাকা উচিত। এতে মস্তিষ্ক আগের কাজের চাপ কাটিয়ে উঠে পরবর্তী কাজের জন্য সতেজ হওয়ার সুযোগ পায়। তথ্য মনে রাখার মানসিক চাপ কমাতে আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ডিজিটাল ক্যালেন্ডার ও রিমাইন্ডার ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কাজ কিংবা বাজারের তালিকা মাথার মধ্যে জমিয়ে না রেখে ফোনে বা ক্যালেন্ডারে নোট করে রাখলে ব্রেইনের ওপর চাপ অনেক কমে। এ ছাড়া দৈনিক দুপুরের খাবার কিংবা সাপ্তাহিক বিল পরিশোধের মতো নিয়মিত কাজগুলো ক্যালেন্ডারে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখলে ‘এরপর কী করতে হবে’– এই চিন্তা থেকে মস্তিষ্ক মুক্ত থাকে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে ও ব্রেইন ফগ কাটাতে চিকিৎসকরা ‘সোয়ানস’ নামে একটি বিশেষ কৌশল মেনে চলার পরামর্শ দেন। এর মধ্যে রয়েছে– প্রথমত, পর্যাপ্ত ঘুম, অর্থাৎ রাতে অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো। এটা স্মৃতি গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, হাইড্রেটেড থাকা, কারণ শরীরে পানির সামান্য ঘাটতিও মনোযোগ বিঘ্নিত করতে পারে। তৃতীয়ত, শারীরিক সক্রিয়তা, যা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়িয়ে ভাবনায় স্বচ্ছতা আনে। চতুর্থত, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে ডিম, মাছ ও বাদামের মতো পুষ্টিকর খাবার, যা মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে। সবশেষে চাপ নিয়ন্ত্রণ, কারণ অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে চিন্তা করার ক্ষমতা ঘোলাটে করে দেয়। এ ছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, মেডিটেশন বা নিজের শখের চর্চায় ব্রেইন ফগ কাটিয়ে মস্তিষ্ক তীক্ষ্ণ ও সচল হয়ে উঠতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

জেনে নিন মস্তিষ্কের ঘোলাটে ভাব দূর করার সহজ কৌশল

Update Time : 02:37:19 am, Monday, 3 August 2026

ব্যস্ত জীবনে প্রায়ই দেখা যায়, একটি রুমে গিয়ে ভুলে যান কেন আসা হয়েছিল, কথা বলার মাঝে খেই হারিয়ে ফেলা কিংবা খুব সাধারণ কোনো কাজেও মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট হয়। বিশেষ করে ছুটির দিন বা সাপ্তাহিক ছুটির পর কাজে ফেরার সময় এই ধরনের মানসিক অস্পষ্টতা বা ক্লান্তি বেশি দেখা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ব্রেইন ফগ’ বা ‘মস্তিষ্কের ঘোলাটে ভাব’। এটি কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং মনোযোগের অভাব, ভুলে যাওয়া ও ভাবনার গতি ধীর হয়ে যাওয়ার মতো কয়েকটি লক্ষণ বা উপসর্গের সমষ্টি। সাধারণত অতিরিক্ত মানসিক চাপ, পেরিমেনোপজ বা মেনোপজ, লং কোভিড কিংবা লুপাসের মতো অটোইমিউন রোগের কারণে ব্রেইন ফগ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এটি কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা বা সক্ষমতার অভাব নয়; বরং এটি হলো মস্তিষ্কের ক্লান্তি ও অতিরিক্ত চাপের সংকেত। ব্রেইন ফগ সাময়িক একটি বিষয়। তাই এমন হলে নিজের সম্পর্কে সচেতন থাকা, কাজের গতি কিছুটা কমানো এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দৈনন্দিন জীবনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ বা ‘ডিসিশন ফ্যাটিগ’ কমাতে সুনির্দিষ্ট রুটিন বা অভ্যাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত কার্যকরী। দিনের একটি নির্দিষ্ট ছন্দ থাকলে মস্তিষ্কের ওয়ার্কিং মেমোরির ওপর থেকে বাড়তি চাপ কমে যায়। সকালে ও রাতে একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা, যেমন পরদিনের পোশাক আগে থেকে গুছিয়ে রাখা বা প্রাতঃরাশের প্রস্তুতি আগে থেকে করে রাখা মস্তিষ্ককে অপ্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি দেয়। এর পাশাপাশি একটি কাজের পর আরেকটি কাজে ঝাঁপিয়ে না পড়ে মাঝখানে কিছুটা বিরতি নেওয়া জরুরি। টানা কাজ বা একের পর এক মিটিং মানসিক ক্লান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিটি কাজের মধ্যে অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিটের ছোট ছোট বিরতি নিয়ে একটু হাঁটা, জল পান করা বা শান্ত হয়ে বসে থাকা উচিত। এতে মস্তিষ্ক আগের কাজের চাপ কাটিয়ে উঠে পরবর্তী কাজের জন্য সতেজ হওয়ার সুযোগ পায়। তথ্য মনে রাখার মানসিক চাপ কমাতে আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ডিজিটাল ক্যালেন্ডার ও রিমাইন্ডার ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট, কাজ কিংবা বাজারের তালিকা মাথার মধ্যে জমিয়ে না রেখে ফোনে বা ক্যালেন্ডারে নোট করে রাখলে ব্রেইনের ওপর চাপ অনেক কমে। এ ছাড়া দৈনিক দুপুরের খাবার কিংবা সাপ্তাহিক বিল পরিশোধের মতো নিয়মিত কাজগুলো ক্যালেন্ডারে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখলে ‘এরপর কী করতে হবে’– এই চিন্তা থেকে মস্তিষ্ক মুক্ত থাকে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে ও ব্রেইন ফগ কাটাতে চিকিৎসকরা ‘সোয়ানস’ নামে একটি বিশেষ কৌশল মেনে চলার পরামর্শ দেন। এর মধ্যে রয়েছে– প্রথমত, পর্যাপ্ত ঘুম, অর্থাৎ রাতে অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো। এটা স্মৃতি গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, হাইড্রেটেড থাকা, কারণ শরীরে পানির সামান্য ঘাটতিও মনোযোগ বিঘ্নিত করতে পারে। তৃতীয়ত, শারীরিক সক্রিয়তা, যা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়িয়ে ভাবনায় স্বচ্ছতা আনে। চতুর্থত, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে ডিম, মাছ ও বাদামের মতো পুষ্টিকর খাবার, যা মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে। সবশেষে চাপ নিয়ন্ত্রণ, কারণ অতিরিক্ত মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোন বাড়িয়ে চিন্তা করার ক্ষমতা ঘোলাটে করে দেয়। এ ছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, মেডিটেশন বা নিজের শখের চর্চায় ব্রেইন ফগ কাটিয়ে মস্তিষ্ক তীক্ষ্ণ ও সচল হয়ে উঠতে পারে।