মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১৪ বছর বয়সী এক গৃহপরিচারিকাকে অপহরণের পর দিনভর আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখ করে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় আটককৃতরা হলেন উপজেলার ইছবপুর এলাকার সাদিক মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া (৩১), শহরের মিশন রোডের তাউল মিয়ার ছেলে মো. জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল (২৬) ও সোনার বাংলা রোডের মমিনুল ইসলাম এর ছেলে আল আমিন ইসলাম (২০)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার সময় ভুক্তভোগী কিশোরী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উকিল বাড়ি রোডের এক বাসা থেকে গৃহপরিচারিকার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
পথিমধ্যে আসামিরা সিএনজি অটোরিকশাযোগে এসে তার পথরোধ করে এবং জোরপূর্বক তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আসামিরা কিশোরীকে শ্রীমঙ্গল ইউপির ইছবপুর এলাকায় আসামি দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৭ ঘটিকা পর্যন্ত আসামিরা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে।
ঘটনার পর ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯ টার দিকে আসামিরা তাকে শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে খবর পেয়ে রেল স্টেশন থেকে আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরী মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি জানতে পেরে ও চিকিৎসকের পরামর্শে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা বিলম্ব হলেও,৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৯(৩) ধারায় (গণধর্ষণ) একটি মামলা রুজু করেন (মামলা নং: ৪১/২৭৭)।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সরকার আবদুল্লাহ আল মামুন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, থানার পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো.আবদুর রাজ্জাককে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বুধবার অভিযান চালিয়ে এজহারনামীয় ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান।



















