নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ‘কালো জাদু’ করার ভয় দেখিয়ে এক পরিবারের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বড় পাঁকা গ্রামের বাসিন্দা মো. আকছেদ আলীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে বাগাতিপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আকছেদ আলী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আকছেদ আলীর ছেলে মো. সিহাব আলী (২২) অসুস্থতার কারণে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সোমবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তি তাদের বাড়ির সামনে গিয়ে মাহফিলের কথা বলে টাকা দাবি করেন। এ সময় সিহাব তাদের ২০ টাকা দিলে তারা এক গ্লাস পানি দিতে বলেন।
পরে পানি না দেওয়ায় তারা সিহাবকে তার মাকে ডাকতে বলেন। অভিযোগে বলা হয়, সিহাবের মা বাইরে এলে ওই দুই ব্যক্তি তার ছেলেকে দেখিয়ে ‘কালো জাদু’ করার কথা বলেন। এতে ওই নারী কান্না শুরু করলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা এক গ্লাস পানি আনতে বলেন এবং ওই পানিতে কিছু করার পর তা পান করতে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার এনে ওই পানিতে ডুবিয়ে দিতে বলা হয়। অভিযুক্তদের কথায় আকছেদ আলীর স্ত্রী স্বর্ণালংকার এনে পানিতে ডুবিয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সিহাবকে বাইরে থেকে একটি খেজুরের কাঁটা নিয়ে আসতে বলেন। সিহাব বাইরে যাওয়ার পর তার স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে ‘হিপনোটাইজ’ করে বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন আকছেদ আলী।
অভিযোগকারীর দাবি, এ সময় একটি স্বর্ণের আংটি, একটি স্বর্ণের চেইন ও এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সিহাব বাড়িতে ফিরে এলে অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা স্বর্ণালংকার খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে ওই রাতেই বাগাতিপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আকছেদ আলী।
আকছেদ আলী জানান, ঘটনার সাক্ষ্য হিসেবে অভিযুক্তদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি সুমন চন্দ্র দাস বলেন, অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















