একসময় ভারত ও মিয়ানমার থেকে ফেনসিডিল এবং ইয়াবা আসলেও, বর্তমানে রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকাতেই তৈরি হচ্ছে ইয়াবাসহ নানা মাদক। চলতি বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্তত ৬টি মাদক কারখানার সন্ধান পেয়েছে। এছাড়া গত ৫ বছরে এমন ১০টি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে।
সাম্প্রতিক অভিযানে মিলেছে, আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে তৈরি হচ্ছে বিদেশি মাদক কুশ, কেটামিন, ইয়াবা ও ভেজাল মদ। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো বলছে, এসব মাদকই ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীতে। আর এসবের পেছনে রয়েছে দেশি-বিদেশি চক্র।
রাজধানীর ওয়ারীর একটি বাসায় ছিল কুশ চাষের বিশেষ ল্যাব। আড়ালে রাখতে ব্যবহার হয় কৃত্রিম আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। তদন্তে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক ব্যক্তি, প্রযুক্তির মাধ্যমে ল্যাবটি তদারকি করতেন।
অপরদিকে বসুন্ধরা আবাসিকে পাওয়া যায় ভেজাল মদের কারবার। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে নানা ব্র্যান্ডের মদ তৈরি, বোতলজাত ও সংরক্ষণের কাজ চলে।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে মেলে ইয়াবার কারখানা। জব্দ করা হয় কাঁচামাল ও নানা সরঞ্জাম। আর মার্চে উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে অভিযানে কেটামিনের ল্যাবের সন্ধান পায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সেখানে এক চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার হন। জব্দ করা হয় ৬ কেজির বেশি কেটামিন।
জুলাই ও আগস্টে কেরানীগঞ্জের দুই এলাকায় ইয়াবা কারখানার সন্ধান পায় র‍্যাব। সেখানে যন্ত্রপাতি বসিয়ে তৈরি হয় মাদক। চক্রের সদস্যরা যন্ত্রাংশ আমদানি করে, দেশেই বানায় এসব যন্ত্র। এই দুই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় কয়েকজনকে।
ঢাকায় মাদক তৈরির এমন কর্মযজ্ঞে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও হতবাক। অতিরিক্ত ডিআইজি ও র‍্যাব- ১০ অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, মাদক প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে আগের চেয়ে কয়েকগুণ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, এখন বাড়তি নজর থাকছে সন্দেহভাজন বিদেশীদের ওপর। যারা বিদেশে বসে মাদক তৈরি ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অভিযানে নামবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

















