আজ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪১%

‘সেরা পাঠক’ খোঁজার লড়াই: বই পড়ার পরীক্ষায় অংশ নিল ৩৫৩ শিক্ষার্থী

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:30:54 pm, Wednesday, 30 September 2026
  • 10

‘সেরা পাঠক’ খোঁজার লড়াই: বই পড়ার পরীক্ষায় অংশ নিল ৩৫৩ শিক্ষার্থী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সকাল থেকেই নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। কারও হাতে ছিল নির্ধারিত বই, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে পড়া বিষয়গুলো ঝালিয়ে নিচ্ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই একঝাঁক শিক্ষার্থী পরীক্ষার কক্ষে বসে অপেক্ষা করতে শুরু করে।

পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই পড়ে জ্ঞান ও চিন্তার জগৎ আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা নিয়ে বুধবার তারা অংশ নেয় ‘সেরা পাঠকের খোঁজে’ বইপড়া কর্মসূচির উপজেলা পর্যায়ের বাছাই পর্বে। এতে উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও মাদ্রাসার ৩৫৩ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ‘বই পড়ি, দেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞান ও চিন্তার বিকাশ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পাঠসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বুধবার সকালে নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপজেলা পর্যায়ের বাছাই পর্বে নির্ধারিত বইয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়া হয়। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ওই পর্বে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর না রেখে বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি সৃজনশীলতা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করাই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। শুধু পাঠ্যবই নয়, জ্ঞানমূলক, সৃজনশীল ও মননশীল বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের চিন্তার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

একই সঙ্গে তাদের জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটবে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নেওয়া এই কর্মসূচির চারটি মূল লক্ষ্য হলো—নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞান-চিন্তা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন এবং পাঠসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা। এ লক্ষ্য সামনে রেখে কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবীনগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পড়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অনেকাংশে পাঠ্যবই ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত পাঠ্যসূচির বাইরে বই পড়ার সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বিষয় জানার কৌতূহল বাড়বে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেই আগ্রহ আরও বাড়ানো সম্ভব। তবে এ ধরনের উদ্যোগের বড় অর্জন হবে প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখা।

উপজেলা পর্যায়ের বাছাইয়ে যারা উত্তীর্ণ হবে, তারা পরবর্তী ধাপে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। ফলে উপজেলা পর্যায়ের এ আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের দৃষ্টিতে শুধু সেরা পাঠক নির্বাচন নয়, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বই পড়ার সঙ্গে যুক্ত করাই কর্মসূচির বড় উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন, নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওয়াজেদ উল্লাহ জসিম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাজহারুল হুদা, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজর হাসনাত জাহান, সহকারী প্রোগ্রামার (ব্যানবেইস) রাজিবুল ইসলাম, নবীনগর প্রেসক্লাবের সহসাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

‘সেরা পাঠকের খোঁজে’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিযোগিতার বাইরেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার একটি স্থায়ী অভ্যাস গড়ে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিয়মিত পাঠাভ্যাস তৈরি হলে তা শুধু পরীক্ষার ফল নয়, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, চিন্তা, সৃজনশীলতা ও মননশীলতার বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান ও মেয়রসহ ৩৩ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

‘সেরা পাঠক’ খোঁজার লড়াই: বই পড়ার পরীক্ষায় অংশ নিল ৩৫৩ শিক্ষার্থী

Update Time : 01:30:54 pm, Wednesday, 30 September 2026

সকাল থেকেই নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। কারও হাতে ছিল নির্ধারিত বই, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে পড়া বিষয়গুলো ঝালিয়ে নিচ্ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই একঝাঁক শিক্ষার্থী পরীক্ষার কক্ষে বসে অপেক্ষা করতে শুরু করে।

পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই পড়ে জ্ঞান ও চিন্তার জগৎ আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা নিয়ে বুধবার তারা অংশ নেয় ‘সেরা পাঠকের খোঁজে’ বইপড়া কর্মসূচির উপজেলা পর্যায়ের বাছাই পর্বে। এতে উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও মাদ্রাসার ৩৫৩ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ‘বই পড়ি, দেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞান ও চিন্তার বিকাশ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পাঠসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বুধবার সকালে নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপজেলা পর্যায়ের বাছাই পর্বে নির্ধারিত বইয়ের ওপর পরীক্ষা নেওয়া হয়। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ওই পর্বে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর না রেখে বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি সৃজনশীলতা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করাই এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। শুধু পাঠ্যবই নয়, জ্ঞানমূলক, সৃজনশীল ও মননশীল বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীদের চিন্তার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

একই সঙ্গে তাদের জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটবে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নেওয়া এই কর্মসূচির চারটি মূল লক্ষ্য হলো—নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞান-চিন্তা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন এবং পাঠসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা। এ লক্ষ্য সামনে রেখে কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবীনগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পড়ার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অনেকাংশে পাঠ্যবই ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত পাঠ্যসূচির বাইরে বই পড়ার সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন বিষয় জানার কৌতূহল বাড়বে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেই আগ্রহ আরও বাড়ানো সম্ভব। তবে এ ধরনের উদ্যোগের বড় অর্জন হবে প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখা।

উপজেলা পর্যায়ের বাছাইয়ে যারা উত্তীর্ণ হবে, তারা পরবর্তী ধাপে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। ফলে উপজেলা পর্যায়ের এ আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের দৃষ্টিতে শুধু সেরা পাঠক নির্বাচন নয়, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বই পড়ার সঙ্গে যুক্ত করাই কর্মসূচির বড় উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মামুন, নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওয়াজেদ উল্লাহ জসিম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাজহারুল হুদা, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজর হাসনাত জাহান, সহকারী প্রোগ্রামার (ব্যানবেইস) রাজিবুল ইসলাম, নবীনগর প্রেসক্লাবের সহসাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

‘সেরা পাঠকের খোঁজে’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিযোগিতার বাইরেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার একটি স্থায়ী অভ্যাস গড়ে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিয়মিত পাঠাভ্যাস তৈরি হলে তা শুধু পরীক্ষার ফল নয়, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, চিন্তা, সৃজনশীলতা ও মননশীলতার বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।