আজ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৩৯%

সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ রায়গঞ্জের চৌধুরী ঘুঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:28:39 pm, Tuesday, 29 September 2026
  • 14

সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ রায়গঞ্জের চৌধুরী ঘুঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধুবিল ইউনিয়নের চৌধুরী ঘুঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ঘরগুলোর বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, নষ্ট হয়ে গেছে দরজা-জানালা ও টিনের অংশ।

কোথাও কোথাও চালা থেকে নির্মাণসামগ্রী খসে পড়ছে। এতে ঝুঁকি ও নানা দুর্ভোগের মধ্যেই বসবাস করছেন আশ্রয়ণের সুবিধাভোগী পরিবারগুলো। চৌধুরী ঘুঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, সেখানে মোট ৭০টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে অনেক ঘরের অবস্থাই নাজুক। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে টিনে মরিচা ধরেছে। কোথাও টিন ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরে পড়ছে। আবার কোনো কোনো ঘরের খুঁটি ও মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে।

দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রাতে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা। আশ্রয়ণের বাসিন্দা মো. হবিবর রহমান বলেন, ‘এখানে মোট ৭০টি ঘর রয়েছে। একসময় নতুন ঘর পেয়ে আমরা স্বস্তি পেয়েছিলাম। মাথা গোঁজার ঠাঁই হওয়ায় পরিবার নিয়ে নিরাপদে বসবাসের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই ঘরগুলোর বিভিন্ন অংশ নষ্ট হতে শুরু করে।

নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ছোটখাটো মেরামত করলেও বড় ধরনের সংস্কার করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ’ আরেক বাসিন্দা মো. আব্দুল লতিফ ও আবু সাইদ বলেন, ঘর পাওয়ার পর তারা অনেক খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু এখন ঘরের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে এবং মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব মেরামত করছেন তারা।

সরকারি উদ্যোগে ঘরগুলো সংস্কার করা হলে উপকার হবে বলে জানান তারা। বাসিন্দা রহিমা ও আয়শা বলেন, ঘরের টিন ও কাঠের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরে পানি পড়ে বিছানা, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে যায়। অনেক সময় শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে রাত জেগে থাকতে হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো নির্মাণের পর নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।

ফলে ছোটখাটো ত্রুটি সময়মতো মেরামত না হওয়ায় সেগুলো ধীরে ধীরে বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে অনেক ঘরই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ভূমি ও গৃহহীন মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা। সেই উদ্দেশ্যে ঘর পেলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অনেক পরিবার নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, শুধু ঘর নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়; ঘরগুলো দীর্ঘদিন বসবাসের উপযোগী রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও প্রয়োজন। বিশেষ করে জরাজীর্ণ ঘরগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে বর্ষাকালে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ বিষয়ে ধুবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অনেক ঘরই এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

এতে বসবাসকারী পরিবারগুলো নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলে আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। ’ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আশ্রয়ণের বাসিন্দারা জরাজীর্ণ ঘরগুলো দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন তারা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

পাঁচ জেলায় আনসার ও ভিডিপির বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি পালন

সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ রায়গঞ্জের চৌধুরী ঘুঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো

Update Time : 11:28:39 pm, Tuesday, 29 September 2026

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধুবিল ইউনিয়নের চৌধুরী ঘুঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ঘরগুলোর বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, নষ্ট হয়ে গেছে দরজা-জানালা ও টিনের অংশ।

কোথাও কোথাও চালা থেকে নির্মাণসামগ্রী খসে পড়ছে। এতে ঝুঁকি ও নানা দুর্ভোগের মধ্যেই বসবাস করছেন আশ্রয়ণের সুবিধাভোগী পরিবারগুলো। চৌধুরী ঘুঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, সেখানে মোট ৭০টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে অনেক ঘরের অবস্থাই নাজুক। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে টিনে মরিচা ধরেছে। কোথাও টিন ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরে পড়ছে। আবার কোনো কোনো ঘরের খুঁটি ও মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে।

দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রাতে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা। আশ্রয়ণের বাসিন্দা মো. হবিবর রহমান বলেন, ‘এখানে মোট ৭০টি ঘর রয়েছে। একসময় নতুন ঘর পেয়ে আমরা স্বস্তি পেয়েছিলাম। মাথা গোঁজার ঠাঁই হওয়ায় পরিবার নিয়ে নিরাপদে বসবাসের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই ঘরগুলোর বিভিন্ন অংশ নষ্ট হতে শুরু করে।

নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ছোটখাটো মেরামত করলেও বড় ধরনের সংস্কার করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। ’ আরেক বাসিন্দা মো. আব্দুল লতিফ ও আবু সাইদ বলেন, ঘর পাওয়ার পর তারা অনেক খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু এখন ঘরের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে এবং মেঝেতে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব মেরামত করছেন তারা।

সরকারি উদ্যোগে ঘরগুলো সংস্কার করা হলে উপকার হবে বলে জানান তারা। বাসিন্দা রহিমা ও আয়শা বলেন, ঘরের টিন ও কাঠের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতরে পানি পড়ে বিছানা, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে যায়। অনেক সময় শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে রাত জেগে থাকতে হয়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো নির্মাণের পর নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।

ফলে ছোটখাটো ত্রুটি সময়মতো মেরামত না হওয়ায় সেগুলো ধীরে ধীরে বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে অনেক ঘরই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ভূমি ও গৃহহীন মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা। সেই উদ্দেশ্যে ঘর পেলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অনেক পরিবার নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, শুধু ঘর নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়; ঘরগুলো দীর্ঘদিন বসবাসের উপযোগী রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও প্রয়োজন। বিশেষ করে জরাজীর্ণ ঘরগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে বর্ষাকালে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ বিষয়ে ধুবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় অনেক ঘরই এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

এতে বসবাসকারী পরিবারগুলো নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলে আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। ’ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আশ্রয়ণের বাসিন্দারা জরাজীর্ণ ঘরগুলো দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন তারা।