ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কুমারুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক মো. খালেকুজামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষক খালেকুজামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রোববার ও সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) টানা দুই দিন ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এ সময় তারা বিদ্যালয়সংলগ্ন আঞ্চলিক সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করায় পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো হয়।
এ ঘটনায় ছাত্রীর পরিবার কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাঁন মিয়া বাদী হয়ে সহকারী শিক্ষক মো. খালেকুজামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলার পর গত শুক্রবার দুপুরে পুলিশ খালেকুজামানকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে শিক্ষক খালেকুজামানের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
ছাত্রীর বাবা থানায় লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের সঙ্গে ওই সহকারী শিক্ষকের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাঁর অভিযোগ, পরিবারের সম্মতি ছাড়া প্রধান শিক্ষক নিজে বাদী হয়ে মামলা করায় তাঁদের পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সম্মানহানি হয়েছে। ছাত্রীর বাবা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে সোমবার ওই ছাত্রী নিজে আদালতে উপস্থিত হয়ে অ্যাফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমানের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমানকেও ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করায় এমন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
’


















