সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির দাগ সরকারি খাস জলাশয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ইজারামূল্য, ভ্যাট ও উৎসে করসহ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া ৭৫ হাজার টাকা ফেরত এবং ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন ইজারাগ্রহীতা সুমন।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) তিনি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে সুমন উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসন পরিত্যক্ত সরকারি খাস জলাশয় ইজারা দেওয়ার জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি দাগের জমিকে খাস জলাশয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে পার্শ্ববর্তী ইজারাকৃত বিলের একটি দাগের পাশাপাশি কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির দাগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ওপর আস্থা রেখে সংশ্লিষ্ট জমি সরকারি খাস জলাশয় মনে করে ইজারা নেন। এজন্য ইজারামূল্য বাবদ ৬০ হাজার টাকা, ১৫ শতাংশ ভ্যাট ৯ হাজার টাকা এবং ১০ শতাংশ উৎসে কর ৬ হাজার টাকাসহ মোট ৭৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন। তবে পরে সরেজমিন পরিদর্শন এবং তহশিল অফিসের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন, বিজ্ঞপ্তিতে খাস হিসেবে উল্লেখ করা দাগগুলোর মধ্যে একটি পার্শ্ববর্তী ইজারাকৃত বিলের এবং অন্য কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি।
ফলে ইজারাকৃত জমি ভোগদখল ও ব্যবহার করতে পারেননি বলে আবেদনে উল্লেখ করেন। সুমনের দাবি, সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে অর্থ পরিশোধ করলেও জমির প্রকৃত মালিকানা ও শ্রেণিগত জটিলতার কারণে তিনি ইজারার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আবেদনে সংশ্লিষ্ট দাগগুলোর প্রকৃত মালিকানা ও শ্রেণি নির্ধারণ, ভূমি রেকর্ড যাচাই এবং সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিরূপণের দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির দাগ কীভাবে সরকারি খাস জলাশয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো, তা তদন্তেরও অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইজারামূল্য, ভ্যাট ও উৎসে করসহ পরিশোধ করা ৭৫ হাজার টাকা ফেরতের ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন তিনি। এ বিষয়ে মধ্যনগরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায়ের সঙ্গে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে। ভূমি রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















