দেশে বিদ্যুতের কৃত্রিম ঘাটতি ঘটিয়ে জনমনে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টির লক্ষ্যে আদানি তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি একই সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের কোনো প্রতিবেশী প্রভু নয়, সবাই বন্ধু। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আদানি আমাদের বিদ্যুৎ দিত। কিন্তু দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি করে জনমনে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। প্রতিবেশী দেশের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কোনো প্রতিবেশী প্রভু নেই, আছে কেবল বন্ধু। সারের ডিলারশিপ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ডিলারশিপ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ ফ্যাসিবাদের এজেন্ট হলেও গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি।
তার দাবি, সরকারের কোনো রাজনৈতিক বিদ্বেষ নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু সারের ডিলার চড়া দামে সার বিক্রি করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছিলেন। তার ভাষায়, ‘আমরা তৎক্ষণাৎ আমাদের নেতা তারেক রহমানের দূরদর্শিতায় তা উদ্ঘাটন করেছি এবং কঠোরভাবে সংকট মোকাবিলা করেছি। ’ রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি ডিসেম্বরে আমাদের পতনের কথা বলে, আর দিল্লিতে বসে ফ্যাসিস্টের দোসররাও একই ধরনের হুমকি দিচ্ছে।
দুই অপশক্তি আজ একত্রিত হয়েছে। ’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং জাতিসংঘে তার বক্তব্যের পর বিশ্বদরবারে তার অবস্থান আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ’ কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের কয়লা নেই, আর তারা কুইক রেন্টাল করেছিল—যা মূলত ছিল ‘চোরের রেন্টাল’।
কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য কিছু গোষ্ঠীকে দিয়ে এসব করা হয়েছিল। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানিকগঞ্জসহ দেশের কোথাও কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া যাবে না এবং ফ্যাসিস্টদের যেকোনো অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে। সভায় জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আজাদ খান।
এতে আরও বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান এবং অ্যাডভোকেট এ এফ এম নূরতাজ আলম বাহারসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা।



















