আজ শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৪%

রক্তপাত ছাড়াই প্লাসেন্টা প্রিভিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন, ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদারের সাফল্য

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:48:38 pm, Saturday, 26 September 2026
  • 8

রক্তপাত ছাড়াই প্লাসেন্টা প্রিভিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন, ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদারের সাফল্য

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সেন্ট্রাল প্লাসেন্টা প্রিভিয়া অস্ত্রোপচারে মারাত্মক রক্তপাতের আশঙ্কা এবং মা ও শিশুর জীবনসংকটের ঝুঁকি থাকে। এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারটি কোনো প্রকার রক্তপাত ছাড়াই সফলভাবে সম্পন্ন করে পুনরায় অনন্য সাফল্য দেখিয়েছেন যশোরের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদার।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন প্রসূতি সোনিয়া রীতা (৩৫)। জানা গেছে, ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার ক্যাম্পপাড়ার জিলহজ আলীর স্ত্রী সোনিয়া রীতা গর্ভাবস্থায় সেন্ট্রাল প্লাসেন্টা প্রিভিয়ায় আক্রান্ত হন। এ জটিলতা ধরা পড়ার পর একাধিক গাইনি সার্জনের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া হলেও অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিতে কেউ আগ্রহী হননি।

পরে তাকে যশোরে ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদারের কাছে নিয়ে আসা হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর যশোর শহরের কিংস মেডিকেল সার্ভিসেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সোনিয়া রীতাকে। ওই দিন প্রথম ধাপে অস্ত্রোপচার করে জরায়ু ও গর্ভফুল ভেতরে রেখেই সন্তানকে বের করে আনা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর ২২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়। এ সময় গর্ভফুল অপসারণসহ বাকি চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়।

দুই ধাপের অস্ত্রোপচারেই উল্লেখযোগ্য রক্তপাত ছাড়াই চিকিৎসা সম্পন্ন হয়। ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদার বলেন, প্লাসেন্টা প্রিভিয়া গর্ভাবস্থার একটি মারাত্মক জটিল অবস্থা। প্রায় ২০০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে একজনের এ সমস্যা হতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় গর্ভফুল জরায়ুর ওপরের দিকে থাকে। কিন্তু প্লাসেন্টা প্রিভিয়া হলে গর্ভফুল নিচের দিকে চলে এসে জরায়ুর মুখে অবস্থান করে।

ফলে সন্তান প্রসবের সময় এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় অস্ত্রোপচারও তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। জরায়ুর মুখ খোলার সময় প্লাসেন্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জরায়ু থেকে আলাদা হয়ে যেতে পারে। এতে মারাত্মক রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে, যা মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতেই সোনিয়া রীতার ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদার।

তিনি বলেন, নিজস্ব চিন্তা-চেতনা থেকে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করেছি। প্রথম ধাপে জরায়ু ও গর্ভফুল ভেতরে রেখে শুধু সন্তানকে বের করে আনা হয়। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে গর্ভফুল অপসারণসহ বাকি কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে রক্তপাত ছাড়াই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদার জানান, এর আগেও তিনি একাধিক সেন্ট্রাল প্লাসেন্টা প্রিভিয়ার রোগীর অস্ত্রোপচারে সফল হয়েছেন।

২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর যশোর শহরের নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়ার টনি মাহমুদের স্ত্রী মনিরা খাতুন (২৬)-এর সেন্ট্রাল প্লাসেন্টা প্রিভিয়ার অস্ত্রোপচার করে তিনি প্রথমবারের মতো সাফল্য পান। এরপর বিকল্প পদ্ধতিতে রক্তপাত ছাড়াই এ ধরনের অস্ত্রোপচার করে আসছেন। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মাহাবুব হোসেনের স্ত্রী নীরা বেগম (২৫)-এর প্লাসেন্টা প্রিভিয়ার অস্ত্রোপচারেও তিনি সফল হন।

সোনিয়া রীতার স্বামী জিলহজ আলী বলেন, স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার পর একাধিক গাইনী সার্জনের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছিল। সেন্ট্রাল প্লাসেন্টা প্রিভিয়া ধরা পড়ার পর অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিয়ে কেউ এগোতে চাননি। শেষ পর্যন্ত ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদারের কাছে নিয়ে আসা হয়। এখন স্ত্রী ও সন্তান দুজনই সুস্থ আছেন। রক্তপাত ছাড়াই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ায় তারা খুবই খুশি।

রোগীর ননদ ফারজানা খাতুন বলেন, এটি তার ভাবির দ্বিতীয় সন্তান। অস্ত্রোপচারের আগে তারা সবাই খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তবে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর সেই ভয় কেটে গেছে। রক্তপাত ছাড়াই জটিল অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় তারা সবাই স্বস্তি পেয়েছেন। সোনিয়া রীতা বলেন, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় তিনি অনেক খুশি। সন্তানকে বুকে জড়িয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারছেন—এটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।

এ জন্য তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নিউইয়র্কে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক বৈঠক

রক্তপাত ছাড়াই প্লাসেন্টা প্রিভিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন, ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদারের সাফল্য

Update Time : 12:48:38 pm, Saturday, 26 September 2026

সেন্ট্রাল প্লাসেন্টা প্রিভিয়া অস্ত্রোপচারে মারাত্মক রক্তপাতের আশঙ্কা এবং মা ও শিশুর জীবনসংকটের ঝুঁকি থাকে। এই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারটি কোনো প্রকার রক্তপাত ছাড়াই সফলভাবে সম্পন্ন করে পুনরায় অনন্য সাফল্য দেখিয়েছেন যশোরের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদার।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন প্রসূতি সোনিয়া রীতা (৩৫)। জানা গেছে, ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার ক্যাম্পপাড়ার জিলহজ আলীর স্ত্রী সোনিয়া রীতা গর্ভাবস্থায় সেন্ট্রাল প্লাসেন্টা প্রিভিয়ায় আক্রান্ত হন। এ জটিলতা ধরা পড়ার পর একাধিক গাইনি সার্জনের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া হলেও অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিতে কেউ আগ্রহী হননি।

পরে তাকে যশোরে ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদারের কাছে নিয়ে আসা হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর যশোর শহরের কিংস মেডিকেল সার্ভিসেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সোনিয়া রীতাকে। ওই দিন প্রথম ধাপে অস্ত্রোপচার করে জরায়ু ও গর্ভফুল ভেতরে রেখেই সন্তানকে বের করে আনা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর ২২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়। এ সময় গর্ভফুল অপসারণসহ বাকি চিকিৎসা সম্পন্ন করা হয়।

দুই ধাপের অস্ত্রোপচারেই উল্লেখযোগ্য রক্তপাত ছাড়াই চিকিৎসা সম্পন্ন হয়। ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদার বলেন, প্লাসেন্টা প্রিভিয়া গর্ভাবস্থার একটি মারাত্মক জটিল অবস্থা। প্রায় ২০০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে একজনের এ সমস্যা হতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় গর্ভফুল জরায়ুর ওপরের দিকে থাকে। কিন্তু প্লাসেন্টা প্রিভিয়া হলে গর্ভফুল নিচের দিকে চলে এসে জরায়ুর মুখে অবস্থান করে।

ফলে সন্তান প্রসবের সময় এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় অস্ত্রোপচারও তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। জরায়ুর মুখ খোলার সময় প্লাসেন্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জরায়ু থেকে আলাদা হয়ে যেতে পারে। এতে মারাত্মক রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে, যা মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ঝুঁকি এড়াতেই সোনিয়া রীতার ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদার।

তিনি বলেন, নিজস্ব চিন্তা-চেতনা থেকে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করেছি। প্রথম ধাপে জরায়ু ও গর্ভফুল ভেতরে রেখে শুধু সন্তানকে বের করে আনা হয়। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে গর্ভফুল অপসারণসহ বাকি কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে রক্তপাত ছাড়াই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদার জানান, এর আগেও তিনি একাধিক সেন্ট্রাল প্লাসেন্টা প্রিভিয়ার রোগীর অস্ত্রোপচারে সফল হয়েছেন।

২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর যশোর শহরের নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়ার টনি মাহমুদের স্ত্রী মনিরা খাতুন (২৬)-এর সেন্ট্রাল প্লাসেন্টা প্রিভিয়ার অস্ত্রোপচার করে তিনি প্রথমবারের মতো সাফল্য পান। এরপর বিকল্প পদ্ধতিতে রক্তপাত ছাড়াই এ ধরনের অস্ত্রোপচার করে আসছেন। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মাহাবুব হোসেনের স্ত্রী নীরা বেগম (২৫)-এর প্লাসেন্টা প্রিভিয়ার অস্ত্রোপচারেও তিনি সফল হন।

সোনিয়া রীতার স্বামী জিলহজ আলী বলেন, স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার পর একাধিক গাইনী সার্জনের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছিল। সেন্ট্রাল প্লাসেন্টা প্রিভিয়া ধরা পড়ার পর অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিয়ে কেউ এগোতে চাননি। শেষ পর্যন্ত ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদারের কাছে নিয়ে আসা হয়। এখন স্ত্রী ও সন্তান দুজনই সুস্থ আছেন। রক্তপাত ছাড়াই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ায় তারা খুবই খুশি।

রোগীর ননদ ফারজানা খাতুন বলেন, এটি তার ভাবির দ্বিতীয় সন্তান। অস্ত্রোপচারের আগে তারা সবাই খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তবে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর সেই ভয় কেটে গেছে। রক্তপাত ছাড়াই জটিল অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় তারা সবাই স্বস্তি পেয়েছেন। সোনিয়া রীতা বলেন, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় তিনি অনেক খুশি। সন্তানকে বুকে জড়িয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারছেন—এটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।

এ জন্য তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক ডা. নিকুঞ্জ বিহারী গোলদারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।