আজ শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

গভীর সংকটের মুখে জাতিসংঘ: বিশ্বজুড়ে কার্যকারিতা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:29:47 pm, Friday, 25 September 2026
  • 15

গভীর সংকটের মুখে জাতিসংঘ: বিশ্বজুড়ে কার্যকারিতা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বহুপাক্ষিক সংস্থা জাতিসংঘ এখন একাধিক সংকটের মুখোমুখি। যুদ্ধ, ভেটো রাজনীতি, অর্থ সংকট ও বড় শক্তিগুলোর বিভাজনে দুর্বল হচ্ছে সংস্থাটির কার্যকারিতা। এতে করে প্রশ্ন উঠছে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে। একইসাথে ইউক্রেন, গাজা ও ইরান সংকট ঘিরে বর্তমান বাস্তবতায় জাতিসংঘের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

বিশ্বনেতারা যখন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে জড়ো হয়েছেন, তখনও ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাসহ একাধিক সংকটে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে অর্থ সংকট ও বড় শক্তিগুলোর বিভাজন দুর্বল করছে সংস্থাটির প্রভাব।

জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদের অচলাবস্থা। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ভেটো ক্ষমতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত আটকে যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভেটো, গাজা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বিভাজন এবং ইরান সংকটে বড় শক্তিগুলোর বিরোধ। সব ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

গাজা যুদ্ধ জাতিসংঘের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। যুদ্ধ বন্ধ, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানালেও বাস্তবে বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি সংস্থাটি। অন্যদিকে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থ সংকট। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় দাতাদের অর্থ সহায়তা কমানো এবং বকেয়া অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তা জাতিসংঘের ত্রাণ ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে চাপে ফেলেছে। একই সময়ে বিশ্বের বড় শক্তিগুলো ব্রিকস ও অন্যান্য বিকল্প জোটে সক্রিয় হওয়ায় জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ আরও বাড়ছে।

অ্যান্তোনিও গুতেরেসের পর নতুন মহাসচিব এমন এক সময় দায়িত্ব নেবেন, যখন সংস্কারের দাবি সবচেয়ে জোরালো। জাতিসংঘকে কার্যকর রাখতে প্রয়োজন আর্থিক স্বাধীনতা, ভেটো ব্যবস্থায় আরও জবাবদিহিতা এবং শক্তিশালী নেতৃত্ব। কারণ ১৯৩টি দেশের একমাত্র বৈশ্বিক আলোচনার মঞ্চ হিসেবে জাতিসংঘ এখনো গুরুত্বপূর্ণ, তবে ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পরিবর্তনের সক্ষমতার ওপর।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

গভীর সংকটের মুখে জাতিসংঘ: বিশ্বজুড়ে কার্যকারিতা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

Update Time : 11:29:47 pm, Friday, 25 September 2026

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বহুপাক্ষিক সংস্থা জাতিসংঘ এখন একাধিক সংকটের মুখোমুখি। যুদ্ধ, ভেটো রাজনীতি, অর্থ সংকট ও বড় শক্তিগুলোর বিভাজনে দুর্বল হচ্ছে সংস্থাটির কার্যকারিতা। এতে করে প্রশ্ন উঠছে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে। একইসাথে ইউক্রেন, গাজা ও ইরান সংকট ঘিরে বর্তমান বাস্তবতায় জাতিসংঘের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

বিশ্বনেতারা যখন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে জড়ো হয়েছেন, তখনও ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাসহ একাধিক সংকটে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে অর্থ সংকট ও বড় শক্তিগুলোর বিভাজন দুর্বল করছে সংস্থাটির প্রভাব।

জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিরাপত্তা পরিষদের অচলাবস্থা। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ভেটো ক্ষমতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত আটকে যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভেটো, গাজা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বিভাজন এবং ইরান সংকটে বড় শক্তিগুলোর বিরোধ। সব ক্ষেত্রেই জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

গাজা যুদ্ধ জাতিসংঘের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। যুদ্ধ বন্ধ, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানালেও বাস্তবে বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি সংস্থাটি। অন্যদিকে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থ সংকট। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় দাতাদের অর্থ সহায়তা কমানো এবং বকেয়া অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তা জাতিসংঘের ত্রাণ ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে চাপে ফেলেছে। একই সময়ে বিশ্বের বড় শক্তিগুলো ব্রিকস ও অন্যান্য বিকল্প জোটে সক্রিয় হওয়ায় জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ আরও বাড়ছে।

অ্যান্তোনিও গুতেরেসের পর নতুন মহাসচিব এমন এক সময় দায়িত্ব নেবেন, যখন সংস্কারের দাবি সবচেয়ে জোরালো। জাতিসংঘকে কার্যকর রাখতে প্রয়োজন আর্থিক স্বাধীনতা, ভেটো ব্যবস্থায় আরও জবাবদিহিতা এবং শক্তিশালী নেতৃত্ব। কারণ ১৯৩টি দেশের একমাত্র বৈশ্বিক আলোচনার মঞ্চ হিসেবে জাতিসংঘ এখনো গুরুত্বপূর্ণ, তবে ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে পরিবর্তনের সক্ষমতার ওপর।