বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কেটে গেছে। এটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করেছে।
বর্তমানে এটি স্থলভাগে গভীর নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। ধীরে ধীরে আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে এটি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, গভীর নিম্নচাপটি এরই মধ্যে রাতে উপকূল অতিক্রম করায় ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা অনেকটাই কমে গেছে। তবে এর প্রভাবে শুক্রবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাজশাহী ও রংপুর বিভাগেও মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানী ঢাকায়ও হালকা বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা প্রবল অবস্থায় রয়েছে। ফলে শুক্রবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকাতেও বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতিভারি বর্ষণও হতে পারে। শুক্রবার বিকেলের পর বৃষ্টির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে পারে। শনিবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা আরও কমে দিনের তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এতে আবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। এ সময় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে মাত্র ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহও এরই মধ্যে প্রশমিত হয়েছে। সোমবার দেশের ২০টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও মঙ্গলবার তা রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারীতে সীমাবদ্ধ ছিল।
বুধবার দেশের কোথাও তাপপ্রবাহ ছিল না। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয় ফেনীতে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সোমবার শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং ঢাকায় ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল। বুধবার রাতে ঢাকায় ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এদিন দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ৪৯ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয় ভোলায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন বিভাগে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে আবহাওয়ায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। অর্থাৎ, গভীর নিম্নচাপটি ভারতের উপকূল অতিক্রম করায় বাংলাদেশে সরাসরি আঘাতের আশঙ্কা আপাতত নেই। তবে এর প্রভাবে শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর শনিবার থেকে বৃষ্টি কমে তাপমাত্রা বাড়লে আবারও ভ্যাপসা গরম ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।


















