আজ বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৬%

‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি কি একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ’

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:14:42 pm, Wednesday, 23 September 2026
  • 12

‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি কি একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ’

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইতিহাস আড়াল ও বিকৃতির ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও বিএনপির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ। তার মতে, কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তি পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট দেখতে পাবেন যে এই দুই দল ইতিহাস বিকৃতিতে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে করা পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

পাঠকদের জন্য সোহেল তাজের করা ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ইতিহাস আড়াল আর বিকৃতি করার বিষয়ে যদি কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তি পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে তার কাছে স্পষ্ট ভাবে প্রতীয়মান হবে যে এই দুই দল রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন ব্যক্তিকে বড় করার জন্য, সর্বশ্রেষ্ঠ বানাবার জন্য গোয়েবেলসিও কায়দায় নানাভাবে ব্যাপক অপতৎপরতা চালায়, যার মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি করা।

আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও আরও অনেকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার আমলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী, তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতা (বাংলাদেশের প্রথম সরকার- মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য আড়াল এবং ছোট করা হয়েছে), জেনারেল ওসমানী এবং অন্যান্যদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে ছোট করা হয়েছে বা আড়াল করা হয়েছে।

এমনকি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিক জিয়াউর রহমান, যিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন (পরবর্তীতে সংশোধন করে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে পুনরায় ঘোষণা করেন) এবং বীরত্বের সাথে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন তাকে পর্যন্ত রাজাকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের কাছে বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা আছে।

কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম যে ইতিহাস আড়াল আর বিকৃতির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয় নাই। সেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের মতো পাঠ্য পুস্তকে আবার আরেক ধারায় ইতিহাস আড়াল আর বিকৃতি শুরু হয়েছে, এটা খুব নিন্দনীয় এবং দুর্ভাগ্যজনক। আমি এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একটি দেশের ইতিহাস থেকে নতুন প্রজন্ম অনেক ইতিবাচক জিনিস জানতে পারে শিখতে পারে এবং অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তীতে তারাই সেই দেশটাকে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

তাই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব হচ্ছে নিরপেক্ষভাবে ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কার্যকলাপ রাজনীতির বাইরে রেখা নতুন প্রজন্মের কাছে পরিবেশন করা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি কি একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ’

Update Time : 10:14:42 pm, Wednesday, 23 September 2026

ইতিহাস আড়াল ও বিকৃতির ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও বিএনপির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ। তার মতে, কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তি পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট দেখতে পাবেন যে এই দুই দল ইতিহাস বিকৃতিতে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে করা পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

পাঠকদের জন্য সোহেল তাজের করা ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ইতিহাস আড়াল আর বিকৃতি করার বিষয়ে যদি কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তি পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে তার কাছে স্পষ্ট ভাবে প্রতীয়মান হবে যে এই দুই দল রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নেমেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন ব্যক্তিকে বড় করার জন্য, সর্বশ্রেষ্ঠ বানাবার জন্য গোয়েবেলসিও কায়দায় নানাভাবে ব্যাপক অপতৎপরতা চালায়, যার মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি করা।

আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও আরও অনেকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার আমলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, মাওলানা ভাসানী, তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতা (বাংলাদেশের প্রথম সরকার- মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য আড়াল এবং ছোট করা হয়েছে), জেনারেল ওসমানী এবং অন্যান্যদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে ছোট করা হয়েছে বা আড়াল করা হয়েছে।

এমনকি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিক জিয়াউর রহমান, যিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন (পরবর্তীতে সংশোধন করে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে পুনরায় ঘোষণা করেন) এবং বীরত্বের সাথে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন তাকে পর্যন্ত রাজাকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের কাছে বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা আছে।

কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম যে ইতিহাস আড়াল আর বিকৃতির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয় নাই। সেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের মতো পাঠ্য পুস্তকে আবার আরেক ধারায় ইতিহাস আড়াল আর বিকৃতি শুরু হয়েছে, এটা খুব নিন্দনীয় এবং দুর্ভাগ্যজনক। আমি এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একটি দেশের ইতিহাস থেকে নতুন প্রজন্ম অনেক ইতিবাচক জিনিস জানতে পারে শিখতে পারে এবং অনুপ্রাণিত হয়ে পরবর্তীতে তারাই সেই দেশটাকে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

তাই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব হচ্ছে নিরপেক্ষভাবে ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কার্যকলাপ রাজনীতির বাইরে রেখা নতুন প্রজন্মের কাছে পরিবেশন করা।