আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে ১৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:48:53 pm, Wednesday, 23 September 2026
  • 18

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে ১৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জুনিয়র শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিং, বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি ও সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১৯ শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই ঘটনায় র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে বিভিন্ন বিভাগের আরও ৮০ শিক্ষার্থীকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বিষয়টি তাদের অভিভাবকদেরও জানাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার ডিসিপ্লিনারি বোর্ড ও সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১০ মে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরুর পর থেকে প্রক্টর দপ্তরসহ বিভিন্ন বিভাগে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অন্তত ১৮টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ১০টি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু করে বোর্ড। তদন্ত শেষে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৫ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে ৩ জন এবং গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের দায়ে আরও ১ জনসহ মোট ১৯ শিক্ষার্থীকে দুই সেমিস্টার বা এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়।

সিন্ডিকেট সভায় সেই সুপারিশ অনুমোদিত হয়। বহিষ্কৃত এসব শিক্ষার্থীর সিট বাতিলসহ ভবিষ্যতে তাঁদের হলে থাকার অনুপযোগী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাদের অপরাধ তুলনামূলক কম, এমন ৮০ জনকে সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার। ১৭-১৮টি বিভাগ থেকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ এসেছিল। এর মধ্যে গুরুতর অপরাধীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। ’ তিনি আরও জানান, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শাস্তি পাওয়া অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পরিবারকেও চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে শক্ত ও লঘু—উভয় ধরনের শাস্তি দিয়েছি। ফলে আমাদের দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং চলছে। বর্তমানে আমরা এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে আছি। আমাদের আরও কিছু অভিযোগের তদন্ত চলমান আছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বিশ্বশক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনে এশিয়ার উত্থান ও চীনের নতুন বৈশ্বিক প্রস্তাব

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে ১৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

Update Time : 07:48:53 pm, Wednesday, 23 September 2026

জুনিয়র শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিং, বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতি ও সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১৯ শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই ঘটনায় র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে বিভিন্ন বিভাগের আরও ৮০ শিক্ষার্থীকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বিষয়টি তাদের অভিভাবকদেরও জানাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার ডিসিপ্লিনারি বোর্ড ও সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিনারি বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১০ মে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরুর পর থেকে প্রক্টর দপ্তরসহ বিভিন্ন বিভাগে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অন্তত ১৮টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ১০টি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু করে বোর্ড। তদন্ত শেষে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ১৫ জন, লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে ৩ জন এবং গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধরের দায়ে আরও ১ জনসহ মোট ১৯ শিক্ষার্থীকে দুই সেমিস্টার বা এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়।

সিন্ডিকেট সভায় সেই সুপারিশ অনুমোদিত হয়। বহিষ্কৃত এসব শিক্ষার্থীর সিট বাতিলসহ ভবিষ্যতে তাঁদের হলে থাকার অনুপযোগী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাঁদের বিরুদ্ধেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাদের অপরাধ তুলনামূলক কম, এমন ৮০ জনকে সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।

’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার। ১৭-১৮টি বিভাগ থেকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ এসেছিল। এর মধ্যে গুরুতর অপরাধীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। ’ তিনি আরও জানান, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শাস্তি পাওয়া অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পরিবারকেও চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে শক্ত ও লঘু—উভয় ধরনের শাস্তি দিয়েছি। ফলে আমাদের দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং চলছে। বর্তমানে আমরা এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে আছি। আমাদের আরও কিছু অভিযোগের তদন্ত চলমান আছে।