আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৬%

লামার ডিএফও মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে গাছ পাচার ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:44:48 pm, Wednesday, 23 September 2026
  • 17

লামার ডিএফও মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে গাছ পাচার ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বান্দরবানের লামা বন বিভাগে বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই উঠেছে বন উজাড়, জোত ও ট্রানজিট পারমিটের আড়ালে গাছ পাচার, বদলি-পদায়নে অর্থ লেনদেন, বিভিন্ন চেকস্টেশনে মাসোহারা আদায় এবং বনায়ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ।

এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমান। সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা, কাঠ ব্যবসায়ী ও একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্রগুলোর দাবি, জোত পারমিট অনুমোদন থেকে শুরু করে রেঞ্জ, বিট ও চেকস্টেশনে পদায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ লেনদেনের একটি অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ফরেস্টার রনি পারভেজকে বনবিভাগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আরও ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে আব্দুল মালেক নামে এক ফরেস্টারকে লামা সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রনি পারভেজ বর্তমানে লামা বন আদালতের এফসিসিও, বমুবিলছড়ি বিট, বিশেষ টহল দল, লামা রেঞ্জ ও লামামুখ চেকস্টেশনের দায়িত্বে রয়েছেন।

একই ব্যক্তির হাতে একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকায় বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ পাচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। লামা বন বিভাগের বমুবিলছড়ি রিজার্ভ এলাকায় বসতি স্থাপন নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে নতুন করে ঘর তুলতে প্রতি ঘরে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এই অর্থ সরকারি কোন খাতে ব্যয় হয় কিংবা কোনো সরকারি অনুমোদনের ভিত্তিতে তা আদায় করা হয় কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

মাতামুহুরী রেঞ্জে বনায়ন নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ৮০ হেক্টর এলাকায় বাগান সৃজনের বিপরীতে বাস্তবে মাত্র ৩০ হেক্টর বাগান করা হয়েছে। বাকি ৫০ হেক্টরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলেও বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেছেন।

ডলুছড়ি রেঞ্জ নিয়েও রয়েছে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, বিভিন্ন বেকারিতে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের কথিত অনিয়মের ক্ষেত্রে ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আলতাফ হোসেন ও ফরেস্টার রনি পারভেজ ক্যাশিয়ারের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ।

আলতাফ হোসেন প্রায় দেড় বছর লামার চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের পর প্রায় আট মাস আগে ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আলতাফ হোসেন ফাইতং সড়কটি কাঠ চোরাকারবারিদের কাছে মাসিক চুক্তিতে অঘোষিতভাবে লিজ দিয়েছেন। এর ফলে ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সেগুন, গর্জনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পাচার হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এ কে এম আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন এবং টাকা দিয়ে কোনো পদায়নও নেননি। তৈন রেঞ্জ থেকেও ব্যাপক হারে গাছ পাচার অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি। তাদের দাবি, জোত ও ট্রানজিট পারমিটের আড়ালে বনাঞ্চলের গাছ পাচারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে বিশেষ টহল দলের ওসি ফরেস্টার রনি পারভেজ সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে লামা বন বিভাগে জোত পারমিট ও ট্রানজিট পারমিট ব্যবহার করে বন উজাড়ের অভিযোগ নিয়ে তদন্তের আদেশ হলেও তা মাঝপথে থেমে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। লামা বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জে প্রতি মাসে বিপুলসংখ্যক জোত অনুমোদন দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব জোত থেকে কাঠ পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুটে ৪০ টাকা করে ডিএফও মোস্তফিজের নামে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

এছাড়া লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জের ট্রানজিট পারমিট (টিপি চলাচল পাশ) শাখায় গত প্রায় ১০ বছর ধরে মো. সেলিম নামে একজন দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, লামা বন বিভাগে প্রতি মাসে আড়াই শতাধিক ট্রানজিট পারমিট (টিপি) পাশ হয়। প্রতিটি টিপির বিপরীতে ১০ হাজার টাকা করে ডিএফওর জন্য আদায় করেন সেলিম, এমন অভিযোগও রয়েছে। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের ট্রানজিট পারমিট (টিপি) শাখায় সরকারি কর্মচারীর পরিবর্তে একজন বেসরকারি ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন দায়িত্বে রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থ আদায়ের বাইরে কথিতভাবে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলকে ঘনফুটপ্রতি পাঁচ টাকা দেওয়ার একটি বিষয় স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত রয়েছে। লামা বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ, বিট ও চেকস্টেশনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টিং ও বদলিতেও লাখ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ডিএফও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্টদের দাবি, পছন্দের কর্মস্থলে পদায়ন পেতে অর্থ দিতে হয় ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানকে।

তবে এ অভিযোগও উঠে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। অভিযোগ রয়েছে, লামা বন বিভাগে ছয়জন আউটসোর্সিং কর্মচারী রয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে সরকারিভাবে প্রায় ১৮ হাজার টাকা করে মাসিক বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি কাজে ব্যবহার না করে এসব আউটসোর্সিং কর্মচারীদেরকে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে লামা বন বিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।

তবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে খুদে বার্তার মাধ্যমে জোত পারমিট, গাছ পাচার, বদলি-পদায়ন, চাঁদাবাজি, বনায়ন প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য চাওয়া হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট জোত পারমিট, ট্রানজিট পারমিট, বনায়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের নথি, পোস্টিং-বদলির আদেশ, টিপি শাখার রেকর্ড এবং বিভিন্ন চেকস্টেশনের আদায়সংক্রান্ত হিসাব পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন বিভাগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং বনজ সম্পদ পাচারের সঙ্গে কারা জড়িত, পুরো সিন্ডিকেটের তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

লামার ডিএফও মোস্তাফিজুরের বিরুদ্ধে গাছ পাচার ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ

Update Time : 06:44:48 pm, Wednesday, 23 September 2026

বান্দরবানের লামা বন বিভাগে বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই উঠেছে বন উজাড়, জোত ও ট্রানজিট পারমিটের আড়ালে গাছ পাচার, বদলি-পদায়নে অর্থ লেনদেন, বিভিন্ন চেকস্টেশনে মাসোহারা আদায় এবং বনায়ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ।

এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমান। সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা, স্থানীয় বাসিন্দা, কাঠ ব্যবসায়ী ও একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্রগুলোর দাবি, জোত পারমিট অনুমোদন থেকে শুরু করে রেঞ্জ, বিট ও চেকস্টেশনে পদায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ লেনদেনের একটি অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ফরেস্টার রনি পারভেজকে বনবিভাগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আরও ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে আব্দুল মালেক নামে এক ফরেস্টারকে লামা সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রনি পারভেজ বর্তমানে লামা বন আদালতের এফসিসিও, বমুবিলছড়ি বিট, বিশেষ টহল দল, লামা রেঞ্জ ও লামামুখ চেকস্টেশনের দায়িত্বে রয়েছেন।

একই ব্যক্তির হাতে একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকায় বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ পাচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। লামা বন বিভাগের বমুবিলছড়ি রিজার্ভ এলাকায় বসতি স্থাপন নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে নতুন করে ঘর তুলতে প্রতি ঘরে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এই অর্থ সরকারি কোন খাতে ব্যয় হয় কিংবা কোনো সরকারি অনুমোদনের ভিত্তিতে তা আদায় করা হয় কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

মাতামুহুরী রেঞ্জে বনায়ন নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ৮০ হেক্টর এলাকায় বাগান সৃজনের বিপরীতে বাস্তবে মাত্র ৩০ হেক্টর বাগান করা হয়েছে। বাকি ৫০ হেক্টরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলেও বন বিভাগের সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেছেন।

ডলুছড়ি রেঞ্জ নিয়েও রয়েছে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, বিভিন্ন বেকারিতে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের কথিত অনিয়মের ক্ষেত্রে ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আলতাফ হোসেন ও ফরেস্টার রনি পারভেজ ক্যাশিয়ারের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ।

আলতাফ হোসেন প্রায় দেড় বছর লামার চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের পর প্রায় আট মাস আগে ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আলতাফ হোসেন ফাইতং সড়কটি কাঠ চোরাকারবারিদের কাছে মাসিক চুক্তিতে অঘোষিতভাবে লিজ দিয়েছেন। এর ফলে ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সেগুন, গর্জনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পাচার হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এ কে এম আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন এবং টাকা দিয়ে কোনো পদায়নও নেননি। তৈন রেঞ্জ থেকেও ব্যাপক হারে গাছ পাচার অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি। তাদের দাবি, জোত ও ট্রানজিট পারমিটের আড়ালে বনাঞ্চলের গাছ পাচারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে বিশেষ টহল দলের ওসি ফরেস্টার রনি পারভেজ সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে লামা বন বিভাগে জোত পারমিট ও ট্রানজিট পারমিট ব্যবহার করে বন উজাড়ের অভিযোগ নিয়ে তদন্তের আদেশ হলেও তা মাঝপথে থেমে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। লামা বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জে প্রতি মাসে বিপুলসংখ্যক জোত অনুমোদন দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব জোত থেকে কাঠ পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনফুটে ৪০ টাকা করে ডিএফও মোস্তফিজের নামে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

এছাড়া লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জের ট্রানজিট পারমিট (টিপি চলাচল পাশ) শাখায় গত প্রায় ১০ বছর ধরে মো. সেলিম নামে একজন দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, লামা বন বিভাগে প্রতি মাসে আড়াই শতাধিক ট্রানজিট পারমিট (টিপি) পাশ হয়। প্রতিটি টিপির বিপরীতে ১০ হাজার টাকা করে ডিএফওর জন্য আদায় করেন সেলিম, এমন অভিযোগও রয়েছে। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের ট্রানজিট পারমিট (টিপি) শাখায় সরকারি কর্মচারীর পরিবর্তে একজন বেসরকারি ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন দায়িত্বে রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থ আদায়ের বাইরে কথিতভাবে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলকে ঘনফুটপ্রতি পাঁচ টাকা দেওয়ার একটি বিষয় স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত রয়েছে। লামা বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ, বিট ও চেকস্টেশনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টিং ও বদলিতেও লাখ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ডিএফও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্টদের দাবি, পছন্দের কর্মস্থলে পদায়ন পেতে অর্থ দিতে হয় ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানকে।

তবে এ অভিযোগও উঠে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। অভিযোগ রয়েছে, লামা বন বিভাগে ছয়জন আউটসোর্সিং কর্মচারী রয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে সরকারিভাবে প্রায় ১৮ হাজার টাকা করে মাসিক বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি কাজে ব্যবহার না করে এসব আউটসোর্সিং কর্মচারীদেরকে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে লামা বন বিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।

তবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে খুদে বার্তার মাধ্যমে জোত পারমিট, গাছ পাচার, বদলি-পদায়ন, চাঁদাবাজি, বনায়ন প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য চাওয়া হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট জোত পারমিট, ট্রানজিট পারমিট, বনায়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের নথি, পোস্টিং-বদলির আদেশ, টিপি শাখার রেকর্ড এবং বিভিন্ন চেকস্টেশনের আদায়সংক্রান্ত হিসাব পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন বিভাগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং বনজ সম্পদ পাচারের সঙ্গে কারা জড়িত, পুরো সিন্ডিকেটের তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।