আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

মরিয়মের ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন বাবা মাসুম বিল্লাহ

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:38:55 pm, Tuesday, 22 September 2026
  • 22

মরিয়মের ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন বাবা মাসুম বিল্লাহ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ জানিয়েছেন, গত ১৩ জুলাই মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ওবায়দুর রহমান (মরিয়মের মামা) তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন।

টাকা না দেওয়ায় ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। মরিয়মের বাবা বলেন, মেয়ের মৃত্যুর জন্য মামা ওবায়দুর রহমান দায়ী। তাকে গ্রেপ্তার করা হলে এই ঘটনার সব সত্য বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর থেকেই আমার মেয়ে আমাদের দেখে ভেউ ভেউ করে কাঁদত।

ওবায়দুল্লাহ শুরু না করলে আজকে তো এমনটা হতো না। ও-ই তো শুরু করছে, ও-ই তো আমার মেয়েটারে নিয়ে খেলা করছে। মাসুম বিল্লাহ আরও বলেন, গত ১৩ জুলাই মরিয়মকে ঘরবন্দি করে রাখার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তিনি মেয়েকে তার আপন মামা ওবায়দুর রহমানের কাছে যেতে দিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্য হিসেবে ওবায়দুরকে বিশ্বাস করলেও সেই সুযোগ নিয়ে তিনি মরিয়মের ভিডিও ধারণ করেন।

ওই দিন সন্ধ্যায় ফোনকল করে ওবায়দুর তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মাসুম বিল্লাহ বলেন, ওবায়দুল্লাহ শুরু না করলে আজকে তো এমনটা হতো না। ও-ই তো শুরু করছে, ও-ই তো আমার মেয়েটারে নিয়ে খেলা করছে। মাসুম বিল্লাহর দাবি, টাকা না দেওয়ায় ২০ জুলাই রাতে মরিয়ম ও গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে ভিডিওগুলো ব্যবহার করে তার মেয়েকে ও পরিবারকে ব্ল্যাকমেলের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মেয়ের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মরিয়ম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। বাবা-মায়ের সঙ্গে লজ্জায় ঠিকমতো কথা বলত না। তাকে দেখলে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ত। তিনি আরও বলেন, সারাক্ষণ, আমার সঙ্গে মেয়ে লজ্জায় কথাই বলত না।

আমার সঙ্গে, ওর মায়ের সঙ্গে লজ্জায় কথাই বলত না। আমি গেলে আমার পা জড়ায় ধরে ভেউ ভেউ করে কাঁদত। ওবায়দুরকে পরিবারের সদস্য হিসেবে বিশ্বাস করার কথা উল্লেখ করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ওর মামা বলে ওরে বিশ্বাস করছিলাম। একটা মানুষ ঘরবন্দি থাকতে পারবে না— এই বিশ্বাস করে ওর কাছে মেয়েটারে দিছিলাম বাইরে বের হতে। কিন্তু সে ভিডিও করে এভাবে ছড়িয়ে দেবে, জানলে জীবনেও দিতাম না।

মাসুম বিল্লাহ আরও দাবি করেন, ১৩ জুলাই ওবায়দুরের ফোনকলের রেকর্ড যাচাই করলে ১০ লাখ টাকা চাওয়ার বিষয়টি পাওয়া যাবে। ওর কল রেকর্ড এখনো চেক করেননি। ডিবি এখনো চেক করলে পাবে। মাসুম বিল্লাহ আরও বলেন, ইজ্জতের ভয়ে ওরে কোনো কিছুই বলিনি, ওর নামে একটা মামলাও করিনি। যখন টাকা দিলাম না, যখন সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে দিলাম, তখনই ও এই ভিডিওগুলো সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিল।

মামাকে বিশ্বাস করে মেয়েটি প্রতারিত হয়েছে দাবি করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, মেয়েটির বয়স তখন মাত্র ১৮ বছর ছিল। কোনো ভুল করলেও একজন মামার উচিত ছিল তাকে রক্ষা করা, ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া নয়। শেষে ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি তো সেই প্রথম দিন থেকে চাই যে, ওরে ফাঁসি দেয় না কেন?

ওরে ধরে ফাঁসি দেয় না কেন? ওরে পুলিশ গ্রেপ্তার করে না কেন! গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের। তিনি সেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ওই রাতেই মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানায় ডিএমপির তেজগাঁওয়ের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মামলাটি বর্তমানে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নগর পরিবহনে ভাড়ার কারসাজি, সিএনজিচালিত বাসেও নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া

মরিয়মের ব্যক্তিগত ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন বাবা মাসুম বিল্লাহ

Update Time : 09:38:55 pm, Tuesday, 22 September 2026

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ জানিয়েছেন, গত ১৩ জুলাই মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ওবায়দুর রহমান (মরিয়মের মামা) তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন।

টাকা না দেওয়ায় ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। মরিয়মের বাবা বলেন, মেয়ের মৃত্যুর জন্য মামা ওবায়দুর রহমান দায়ী। তাকে গ্রেপ্তার করা হলে এই ঘটনার সব সত্য বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর থেকেই আমার মেয়ে আমাদের দেখে ভেউ ভেউ করে কাঁদত।

ওবায়দুল্লাহ শুরু না করলে আজকে তো এমনটা হতো না। ও-ই তো শুরু করছে, ও-ই তো আমার মেয়েটারে নিয়ে খেলা করছে। মাসুম বিল্লাহ আরও বলেন, গত ১৩ জুলাই মরিয়মকে ঘরবন্দি করে রাখার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তিনি মেয়েকে তার আপন মামা ওবায়দুর রহমানের কাছে যেতে দিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্য হিসেবে ওবায়দুরকে বিশ্বাস করলেও সেই সুযোগ নিয়ে তিনি মরিয়মের ভিডিও ধারণ করেন।

ওই দিন সন্ধ্যায় ফোনকল করে ওবায়দুর তার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মাসুম বিল্লাহ বলেন, ওবায়দুল্লাহ শুরু না করলে আজকে তো এমনটা হতো না। ও-ই তো শুরু করছে, ও-ই তো আমার মেয়েটারে নিয়ে খেলা করছে। মাসুম বিল্লাহর দাবি, টাকা না দেওয়ায় ২০ জুলাই রাতে মরিয়ম ও গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে ভিডিওগুলো ব্যবহার করে তার মেয়েকে ও পরিবারকে ব্ল্যাকমেলের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মেয়ের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মরিয়ম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। বাবা-মায়ের সঙ্গে লজ্জায় ঠিকমতো কথা বলত না। তাকে দেখলে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ত। তিনি আরও বলেন, সারাক্ষণ, আমার সঙ্গে মেয়ে লজ্জায় কথাই বলত না।

আমার সঙ্গে, ওর মায়ের সঙ্গে লজ্জায় কথাই বলত না। আমি গেলে আমার পা জড়ায় ধরে ভেউ ভেউ করে কাঁদত। ওবায়দুরকে পরিবারের সদস্য হিসেবে বিশ্বাস করার কথা উল্লেখ করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ওর মামা বলে ওরে বিশ্বাস করছিলাম। একটা মানুষ ঘরবন্দি থাকতে পারবে না— এই বিশ্বাস করে ওর কাছে মেয়েটারে দিছিলাম বাইরে বের হতে। কিন্তু সে ভিডিও করে এভাবে ছড়িয়ে দেবে, জানলে জীবনেও দিতাম না।

মাসুম বিল্লাহ আরও দাবি করেন, ১৩ জুলাই ওবায়দুরের ফোনকলের রেকর্ড যাচাই করলে ১০ লাখ টাকা চাওয়ার বিষয়টি পাওয়া যাবে। ওর কল রেকর্ড এখনো চেক করেননি। ডিবি এখনো চেক করলে পাবে। মাসুম বিল্লাহ আরও বলেন, ইজ্জতের ভয়ে ওরে কোনো কিছুই বলিনি, ওর নামে একটা মামলাও করিনি। যখন টাকা দিলাম না, যখন সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে দিলাম, তখনই ও এই ভিডিওগুলো সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিল।

মামাকে বিশ্বাস করে মেয়েটি প্রতারিত হয়েছে দাবি করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, মেয়েটির বয়স তখন মাত্র ১৮ বছর ছিল। কোনো ভুল করলেও একজন মামার উচিত ছিল তাকে রক্ষা করা, ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া নয়। শেষে ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি তো সেই প্রথম দিন থেকে চাই যে, ওরে ফাঁসি দেয় না কেন?

ওরে ধরে ফাঁসি দেয় না কেন? ওরে পুলিশ গ্রেপ্তার করে না কেন! গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের। তিনি সেখানে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ওই রাতেই মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামি মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানায় ডিএমপির তেজগাঁওয়ের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মামলাটি বর্তমানে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।