জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত সদস্যদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও আর্থিক সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ শাখা ও ইউনিটভিত্তিক বিশেষ ভাতা, কিট ভাতা, ট্রাফিক অ্যালাউয়েন্স, খোরাকি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষাসহায়তা ও যাতায়াত ভাতাসহ বেশ কিছু সুবিধা পাবেন কনস্টেবলরা।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘চাকরি (বাংলাদেশ পুলিশ) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এ এসব সুবিধার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি আদেশ অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত ভাতার পূর্ণাঙ্গ হার ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তবে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত সময়ের জন্য কিছু ভাতা অন্তর্বর্তীকালীন হারে কার্যকর থাকবে।
বিশেষ শাখা ও ইউনিটভিত্তিক ভাতা পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত শাখা ও ইউনিটে দায়িত্ব পালনকারী কনস্টেবলদের জন্য আলাদা ভাতা রাখা হয়েছে। বিশেষ শাখা (এসবি) ও জেলা এসবিতে কর্মরত কনস্টেবলরা মাসে ৫০ টাকা বিশেষ ভাতা পাবেন। গার্ড ডিউটিতে থাকা সদস্যদের জন্যও মাসিক ৫০ টাকা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর মেট্রোপলিটন এলাকায় কর্মরত কনস্টেবলরা পাবেন মাসে ৬৬ টাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অ্যালাউয়েন্স।
সিআইডি ও পিবিআইয়ে কর্মরত কনস্টেবলদের জন্য মাসিক ৫০ টাকা বিশেষ ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। টেলিকম শাখায় কর্মরতরা পাবেন মাসে ১১০ টাকা টেলিকম অ্যালাউয়েন্স। মাউন্টেড পুলিশ ও পিবিএক্স অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীরা পাবেন ৫০ টাকা করে। কিট ভাতা এসবি, ডিএসবি, সিআইডি ও ডিটিএসে কর্মরত কনস্টেবলদের প্রারম্ভিক কিট ভাতা হিসেবে এককালীন ১ হাজার ৩৮৬ টাকা দেওয়া হবে।
প্রতি বছর নবায়ন কিট ভাতা হিসেবে পাবেন ৭৮৭ টাকা। প্রারম্ভিক কিট ভাতা পুরো চাকরিজীবনে একবারই প্রযোজ্য। তবে পদোন্নতির কারণে উচ্চতর ধাপে গেলে ভাতার পার্থক্যজনিত অর্থ পাওয়ার বিধান রয়েছে। ধোলাই, চুল কাটা ও ট্রেড ভাতা এসআই/সার্জেন্ট থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ধোলাই ও চুল কাটার ভাতা হিসেবে মাসিক ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সশস্ত্র শাখায় কর্মরত কনস্টেবলরা মাসে ১৭ টাকা সশস্ত্র শাখা ভাতা পাবেন। ট্রেডভেদে ড্রাইভার কনস্টেবল ৬৬ টাকা, ক্লিনার ৩৩ টাকা, আর্মরার ৩৩ টাকা, নার্সিং কনস্টেবল ৩৩ টাকা এবং বিউগলার কনস্টেবল ১৭ টাকা করে ভাতা পাবেন। খোরাকি ভাতা এপিবিএন সদস্য ছাড়া যেসব পুলিশ সদস্য সিঙ্গেল রেশন পান, তাঁরা জনপ্রতি মাসে ৫৬১ টাকা খোরাকি ভাতা পাবেন।
ট্রাফিক ভাতা বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের জন্য মাসিক ৩ হাজার ৯০০ টাকা ট্রাফিক অ্যালাউয়েন্স নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ১ জুলাই ২০২৬ বা তার পরে নতুন করে যোগদানকারী সদস্যদের ক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৫০ টাকা ট্রাফিক ভাতা প্রযোজ্য হবে। বাড়িভাড়া ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিবাহিত কনস্টেবলরা সরকারি বাসা বা ব্যারাকে না থাকলে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, অন্যান্য বড় শহর ও পৌর এলাকায় ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য মফস্বল এলাকায় ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। বিবাহিত হলেও ব্যারাকে বসবাসকারী সদস্যরা মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং অবিবাহিত সদস্যরা ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া পাবেন। তবে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত যে বাড়িভাড়া পাওয়া যেত, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত সেটিই কার্যকর থাকবে।
চিকিৎসা ভাতা কনস্টেবলসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। ৫০ বছরের বেশি বয়স থেকে অবসরকালীন ছুটি (পিআরএল) পর্যন্ত চিকিৎসা ভাতা হবে মাসে ৪ হাজার টাকা। শিক্ষাসহায়তা সন্তানদের জন্য শিক্ষাসহায়তা ভাতা হিসেবে সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে পাওয়া যাবে। সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসে মোট ১ হাজার টাকা এই ভাতা প্রযোজ্য হবে।
সন্তানদের বয়স ২৩ বছর পর্যন্ত এবং বয়সের সনদ সাপেক্ষে এ সুবিধা দেওয়া হবে। টিফিন ও যাতায়াত ভাতা ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সদস্যরা বিনা মূল্যে দুপুরের খাবার বা লাঞ্চ ভাতা না পেলে মাসে ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা পাবেন। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত সদস্যদের জন্য মাসে ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোবাইল ভাতা ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত সুবিধার আওতায় কনস্টেবলরা মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন।
দুর্গম ও ঝুঁকি ভাতা পার্বত্য জেলা, হাওড়, দ্বীপ ও চরাঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে দুর্গম ভাতার বিধান রাখা হয়েছে। তবে এ ভাতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত থাকবে। এ ছাড়া সরকারি বিশেষ আদেশের মাধ্যমে নির্ধারিত ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যরা আলাদাভাবে ঝুঁকি ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সব মিলিয়ে নতুন পে-স্কেলে কনস্টেবলদের মূল বেতনের পাশাপাশি দায়িত্ব, কর্মস্থল, ইউনিট ও ব্যক্তিগত অবস্থাভেদে একাধিক ভাতা পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে একজন কনস্টেবলের প্রকৃত মাসিক প্রাপ্তি নির্ভর করবে তিনি কোন ইউনিটে, কোথায় এবং কী ধরনের দায়িত্ব পালন করছেন তার ওপর।



















