আজ সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৮ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৯%

অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ, ডিসেম্বর ঘিরে বড় নাশকতার ছক: গোয়েন্দা তথ্য

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:40:55 pm, Sunday, 20 September 2026
  • 12

অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ, ডিসেম্বর ঘিরে বড় নাশকতার ছক: গোয়েন্দা তথ্য

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, দলটির আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা আগামী ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগসহ ঝটিকা মিছিল এই নাশকতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে সরকার বলছে, যেকোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক বা স্যাবোটাজ কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, আগামীতে তারা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়াবেন।

তবে রাজনীতি বিশ্লেষকেরা এখনই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না। এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে হরতাল, লকডাউনসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা করছে। অবশ্য এর আগেও বহুবার এমন কর্মসূচি ঘোষণা করেও বাস্তবায়ন করতে পারেনি দলটি। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই নাশকতা চালানো হচ্ছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের যেকোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক বা স্যাবোটাজ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকিদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তারা দেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চায়নি। তাই এ দেশে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাংলাদেশের মানুষ কখনো দেবে না। তিনি বলেন, তারা বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে, চিৎকার-চেঁচামেচি করতে পারে, তবে আমরা এসবকে আর গুরুত্ব দিচ্ছি না।

গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংস কর্মকাণ্ড করেছে নিষিদ্ধ দল ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো। এদিকে তাদের একাধিক ঝটিকা মিছিল থেকে কয়েকশ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত শনিবার রাজধানীর পল্লবী এলাকায় একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। গতকাল রোববার রাজধানীর লালবাগ থানাধীন আজিমপুর ম্যাটার্নিটির ওভারব্রিজের নিচে রাখা ভিআইপি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টাকালে আমিনুল ইসলাম শাওন (৪০) নামে একজন আটক হয়।

পাশাপাশি রাজধানীর হাইকোর্ট, যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, মহাখালী, আগারগাঁও, বাবুবাজার, মগবাজার, রামপুরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এরই মধ্যে রাজধানীতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে চালানো হচ্ছে তল্লাশি। সম্প্রতি গুলশান-১ এলাকায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের সভা-সমাবেশ করার কোনো অধিকার নেই। দলটি কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, তারা বেআইনি সংগঠন, নিষিদ্ধ সংগঠন; আদালত তাদের নিষিদ্ধ করেছেন।

সুতরাং বেআইনি যে সংগঠন, তারা প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে দেখবে এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে। তথ্য অনুসারে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আওয়ামী লীগ নতুন করে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হবে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে তিনি না ফিরলে দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

তাই সব ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ঘোষিত সময়েই শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন বলে আশাবাদী তারা। এ বিষয়ে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া তার সঙ্গে আরও অনেক নেতাকর্মী দেশে ফিরবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে ডিসেম্বরে নিষিদ্ধ দলটি ‘অসহিংস কর্মসূচি’র ঘোষণা দিয়েছে।

কিন্তু নেতাকর্মীরা তা পুরোপুরি মানবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন শীর্ষ নেতারা। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা সত্য, নাকি দলকে চাঙা রাখার কৌশল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিদ্যমান বাস্তবতায় তার প্রত্যাবর্তনের পথ অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে আগাম ঘোষণা দিয়ে তিনি দেশে না ফিরলে দলে তৈরি হবে আস্থার সংকট।

এটা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে নিছক ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, অবশ্য এর অন্তরালে কোনো মহল গভীর ষড়যন্ত্রেও লিপ্ত থাকতে পারে, যার লক্ষ্য হবে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। বর্তমান পরিস্থিতি ও আওয়ামী লীগ বিষয়ে সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগ তোলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তবে রূপালী বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদীদের এ দেশের মাটিতে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি নেতারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনায় শেখ হাসিনার উচিত ছিল অনুশোচনা ও দুঃখ প্রকাশ করা। তা না করে এখনো তার বক্তব্যে জেদ ও দমন-পীড়নের মনোভাব ফুটে উঠছে। এই মনোভাব নিয়ে দেশে ফিরে দল গোছানোর চিন্তা অলীক কল্পনামাত্র। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, দলটি রাজনীতিতে ফিরতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে।

এর অংশ হিসেবে কম বিতর্কিত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের নিয়ে একটি অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, সাকিব আল হাসান, অভিনেতা ফেরদৌস প্রমুখ। এ ছাড়া জেলা থেকে উপজেলাসহ সব স্থানে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা সব সময় যা বলেন, তা-ই বাস্তবায়ন করেন। দেশের আপামর জনগণ ও কোটি কর্মী এখনো তার দূরদর্শী নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের রাজনৈতিক কৌশল ও পরিকল্পনায় ডিসেম্বর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘টাইমস্টপ’।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার অনুপস্থিতিতেই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এদিকে দলটির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ওপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও বলেছেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে।

’ প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে দেশে ফিরতে হলে তার ট্রাভেল পাস লাগবে; অন্যথায় জোর করে দেশে ঢুকতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে যা জানাল জামায়াত

অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া আওয়ামী লীগ, ডিসেম্বর ঘিরে বড় নাশকতার ছক: গোয়েন্দা তথ্য

Update Time : 11:40:55 pm, Sunday, 20 September 2026

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, দলটির আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা আগামী ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগসহ ঝটিকা মিছিল এই নাশকতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তবে সরকার বলছে, যেকোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক বা স্যাবোটাজ কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলছেন, আগামীতে তারা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়াবেন।

তবে রাজনীতি বিশ্লেষকেরা এখনই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা দেখছেন না। এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে হরতাল, লকডাউনসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা করছে। অবশ্য এর আগেও বহুবার এমন কর্মসূচি ঘোষণা করেও বাস্তবায়ন করতে পারেনি দলটি। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই নাশকতা চালানো হচ্ছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের যেকোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক বা স্যাবোটাজ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকিদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। তারা দেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চায়নি। তাই এ দেশে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাংলাদেশের মানুষ কখনো দেবে না। তিনি বলেন, তারা বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে উঁকিঝুঁকি দিতে পারে, চিৎকার-চেঁচামেচি করতে পারে, তবে আমরা এসবকে আর গুরুত্ব দিচ্ছি না।

গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংস কর্মকাণ্ড করেছে নিষিদ্ধ দল ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো। এদিকে তাদের একাধিক ঝটিকা মিছিল থেকে কয়েকশ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত শনিবার রাজধানীর পল্লবী এলাকায় একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। গতকাল রোববার রাজধানীর লালবাগ থানাধীন আজিমপুর ম্যাটার্নিটির ওভারব্রিজের নিচে রাখা ভিআইপি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টাকালে আমিনুল ইসলাম শাওন (৪০) নামে একজন আটক হয়।

পাশাপাশি রাজধানীর হাইকোর্ট, যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, মহাখালী, আগারগাঁও, বাবুবাজার, মগবাজার, রামপুরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এরই মধ্যে রাজধানীতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে চালানো হচ্ছে তল্লাশি। সম্প্রতি গুলশান-১ এলাকায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের সভা-সমাবেশ করার কোনো অধিকার নেই। দলটি কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, তারা বেআইনি সংগঠন, নিষিদ্ধ সংগঠন; আদালত তাদের নিষিদ্ধ করেছেন।

সুতরাং বেআইনি যে সংগঠন, তারা প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে দেখবে এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে। তথ্য অনুসারে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আওয়ামী লীগ নতুন করে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হবে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে তিনি না ফিরলে দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

তাই সব ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ঘোষিত সময়েই শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন বলে আশাবাদী তারা। এ বিষয়ে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া তার সঙ্গে আরও অনেক নেতাকর্মী দেশে ফিরবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে ডিসেম্বরে নিষিদ্ধ দলটি ‘অসহিংস কর্মসূচি’র ঘোষণা দিয়েছে।

কিন্তু নেতাকর্মীরা তা পুরোপুরি মানবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন শীর্ষ নেতারা। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা সত্য, নাকি দলকে চাঙা রাখার কৌশল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিদ্যমান বাস্তবতায় তার প্রত্যাবর্তনের পথ অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে আগাম ঘোষণা দিয়ে তিনি দেশে না ফিরলে দলে তৈরি হবে আস্থার সংকট।

এটা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে নিছক ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, অবশ্য এর অন্তরালে কোনো মহল গভীর ষড়যন্ত্রেও লিপ্ত থাকতে পারে, যার লক্ষ্য হবে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। বর্তমান পরিস্থিতি ও আওয়ামী লীগ বিষয়ে সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের অভিযোগ তোলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তবে রূপালী বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদীদের এ দেশের মাটিতে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি নেতারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনায় শেখ হাসিনার উচিত ছিল অনুশোচনা ও দুঃখ প্রকাশ করা। তা না করে এখনো তার বক্তব্যে জেদ ও দমন-পীড়নের মনোভাব ফুটে উঠছে। এই মনোভাব নিয়ে দেশে ফিরে দল গোছানোর চিন্তা অলীক কল্পনামাত্র। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, দলটি রাজনীতিতে ফিরতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে।

এর অংশ হিসেবে কম বিতর্কিত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের নিয়ে একটি অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, সাকিব আল হাসান, অভিনেতা ফেরদৌস প্রমুখ। এ ছাড়া জেলা থেকে উপজেলাসহ সব স্থানে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা সব সময় যা বলেন, তা-ই বাস্তবায়ন করেন। দেশের আপামর জনগণ ও কোটি কর্মী এখনো তার দূরদর্শী নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল। দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের রাজনৈতিক কৌশল ও পরিকল্পনায় ডিসেম্বর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘টাইমস্টপ’।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার অনুপস্থিতিতেই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এদিকে দলটির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ওপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও বলেছেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে।

’ প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে দেশে ফিরতে হলে তার ট্রাভেল পাস লাগবে; অন্যথায় জোর করে দেশে ঢুকতে হবে।