আজ রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:17:24 am, Saturday, 19 September 2026
  • 18

যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশ্বজুড়ে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। নিজ দেশের সীমানা না পেরিয়েও কোটি কোটি মানুষ বাড়িঘর, জীবিকা ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে।

২০২৪ সালের শেষে বিশ্বজুড়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৮ কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৪০ লাখ মানুষ। দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরও প্রায় ৯০ লাখ। এক দশকে পরিস্থিতির অবনতি স্পষ্ট। ২০১৫ সালে বিশ্বে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ।

২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে নজিরবিহীন ৮ কোটি ৩০ লাখে। শুধু ওই এক বছরেই বিশ্বজুড়ে ৬ কোটি ৬০ লাখ অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সংঘাত ও সহিংসতার কারণে হয়েছে ২ কোটি এবং দুর্যোগের কারণে ৪ কোটি ৬০ লাখ স্থানান্তর। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছে উপসাহারীয় আফ্রিকায়। সেখানে সংখ্যাটি প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ।

এর মধ্যে ৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ সংঘাত ও সহিংসতার কারণে ঘরছাড়া। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ; এর মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ সংঘাত ও সহিংসতার শিকার। বাস্তুচ্যুতির সংকটের সবচেয়ে কঠিন দিক হলো, একজন মানুষকে একই বছরে একাধিকবার ঘর ছাড়তে হতে পারে। সংঘাত থেকে পালিয়ে কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পর সেখানে হামলা হলে কিংবা বন্যা, ভূমিকম্প বা অন্য কোনো দুর্যোগ আঘাত হানলে আবারও তাকে নিরাপদ জায়গার সন্ধানে বের হতে হয়।

গাজা উপত্যকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। এতে মানুষের নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তেমনি নতুন করে জীবন গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীভাঙনও বাংলাদেশের বাস্তুচ্যুতির বড় কারণ। জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি বছর গড়ে ৩ হাজার ৫০০টির বেশি পরিবার এবং ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নদীভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুত বা উদ্বাস্তু হয়।

তবে গত দুই দশকে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মোট পরিবার এবং বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের কতজন সরকারি পুনর্বাসন বা আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। ইয়েমেনে যুদ্ধের আগুনে নতুন বাস্তুচ্যুতি : বাংলাদেশের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতির প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে সশস্ত্র সংঘাত।

সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে লড়াই তীব্র হওয়ায় জুলাই থেকে অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটও তীব্র হচ্ছে। তাইজ প্রদেশে বাস্তুচ্যুতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। ওই এলাকার বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।

একই সময়ে ইয়েমেন থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ পাশের দেশ জিবুতিতে পালিয়ে গেছে। জিবুতির একজন মন্ত্রী জানিয়েছেন, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ওই দেশটিতে ইয়েমেন থেকে অন্তত ১ হাজার ৪০০ শরণার্থী পৌঁছেছে। এদিকে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তাইজের পশ্চিমে গত ২৪ ঘণ্টার সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় ৩০ হুতি যোদ্ধা নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

সরকারি বাহিনী হুতিদের সামরিক অবস্থান ও রসদ সরবরাহব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্রের দাবি, সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান গত ২৪ ঘণ্টায় তাইজ ও হাজ্জাহ প্রদেশের বেসামরিক এলাকায় ৩৭টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব ও হুতিদের পাল্টাপাল্টি হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবরও এসেছে।

তেল সরবরাহেও বাড়ছে চাপ : ইয়েমেন সংঘাতের প্রভাব শুধু মানুষের জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর প্রভাব পড়ছে জ¦ালানি সরবরাহেও। হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাইপলাইনটি দ্রুত চালু করা না গেলে সৌদি আরবের রপ্তানিযোগ্য তেলের মজুত কয়েক দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিল্পের কয়েকটি সূত্র।

সৌদি আরব এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাতে পারত, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ। পাইপলাইন বন্ধ থাকায় ওই বন্দরের মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি : বাস্তুচ্যুতি কেবল মানবিক সংকট নয়; এটি অর্থনীতি, উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতারও বড় চ্যালেঞ্জ।

ঘরবাড়ি হারানোর সঙ্গে মানুষ হারায় জীবিকা, সামাজিক সম্পর্ক, পরিচিত পরিবেশ ও বহু বছরের স্মৃতি। দুর্যোগের পর পুনর্বাসনের সুযোগ না থাকলে বাস্তুচ্যুত মানুষ শহরমুখী হয় এবং বস্তি এলাকায় আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন, টেকসই বাঁধ ও নদীশাসন, আগাম সতর্কবার্তা, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি।

সংঘাতপূর্ণ এলাকায় প্রয়োজন শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত মানুষের নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাস্তুচ্যুতি যত বাড়ছে, নিষ্ক্রিয় থাকার মানবিক ও অর্থনৈতিক মূল্যও তত বাড়ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

যুদ্ধ ও সংঘাতের মধ্যে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা

Update Time : 06:17:24 am, Saturday, 19 September 2026

যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশ্বজুড়ে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। নিজ দেশের সীমানা না পেরিয়েও কোটি কোটি মানুষ বাড়িঘর, জীবিকা ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে।

২০২৪ সালের শেষে বিশ্বজুড়ে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৮ কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৪০ লাখ মানুষ। দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরও প্রায় ৯০ লাখ। এক দশকে পরিস্থিতির অবনতি স্পষ্ট। ২০১৫ সালে বিশ্বে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ।

২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে নজিরবিহীন ৮ কোটি ৩০ লাখে। শুধু ওই এক বছরেই বিশ্বজুড়ে ৬ কোটি ৬০ লাখ অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সংঘাত ও সহিংসতার কারণে হয়েছে ২ কোটি এবং দুর্যোগের কারণে ৪ কোটি ৬০ লাখ স্থানান্তর। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছে উপসাহারীয় আফ্রিকায়। সেখানে সংখ্যাটি প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ।

এর মধ্যে ৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ সংঘাত ও সহিংসতার কারণে ঘরছাড়া। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ; এর মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ সংঘাত ও সহিংসতার শিকার। বাস্তুচ্যুতির সংকটের সবচেয়ে কঠিন দিক হলো, একজন মানুষকে একই বছরে একাধিকবার ঘর ছাড়তে হতে পারে। সংঘাত থেকে পালিয়ে কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পর সেখানে হামলা হলে কিংবা বন্যা, ভূমিকম্প বা অন্য কোনো দুর্যোগ আঘাত হানলে আবারও তাকে নিরাপদ জায়গার সন্ধানে বের হতে হয়।

গাজা উপত্যকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। এতে মানুষের নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তেমনি নতুন করে জীবন গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীভাঙনও বাংলাদেশের বাস্তুচ্যুতির বড় কারণ। জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি বছর গড়ে ৩ হাজার ৫০০টির বেশি পরিবার এবং ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নদীভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুত বা উদ্বাস্তু হয়।

তবে গত দুই দশকে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মোট পরিবার এবং বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের কতজন সরকারি পুনর্বাসন বা আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। ইয়েমেনে যুদ্ধের আগুনে নতুন বাস্তুচ্যুতি : বাংলাদেশের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতির প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে সশস্ত্র সংঘাত।

সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে লড়াই তীব্র হওয়ায় জুলাই থেকে অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটও তীব্র হচ্ছে। তাইজ প্রদেশে বাস্তুচ্যুতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। ওই এলাকার বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৮ হাজার ৩০০ পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।

একই সময়ে ইয়েমেন থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ পাশের দেশ জিবুতিতে পালিয়ে গেছে। জিবুতির একজন মন্ত্রী জানিয়েছেন, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ওই দেশটিতে ইয়েমেন থেকে অন্তত ১ হাজার ৪০০ শরণার্থী পৌঁছেছে। এদিকে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তাইজের পশ্চিমে গত ২৪ ঘণ্টার সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় ৩০ হুতি যোদ্ধা নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

সরকারি বাহিনী হুতিদের সামরিক অবস্থান ও রসদ সরবরাহব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। অন্যদিকে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্রের দাবি, সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান গত ২৪ ঘণ্টায় তাইজ ও হাজ্জাহ প্রদেশের বেসামরিক এলাকায় ৩৭টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব ও হুতিদের পাল্টাপাল্টি হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবরও এসেছে।

তেল সরবরাহেও বাড়ছে চাপ : ইয়েমেন সংঘাতের প্রভাব শুধু মানুষের জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর প্রভাব পড়ছে জ¦ালানি সরবরাহেও। হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাইপলাইনটি দ্রুত চালু করা না গেলে সৌদি আরবের রপ্তানিযোগ্য তেলের মজুত কয়েক দিনের মধ্যে ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিল্পের কয়েকটি সূত্র।

সৌদি আরব এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাতে পারত, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ। পাইপলাইন বন্ধ থাকায় ওই বন্দরের মজুত দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি : বাস্তুচ্যুতি কেবল মানবিক সংকট নয়; এটি অর্থনীতি, উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতারও বড় চ্যালেঞ্জ।

ঘরবাড়ি হারানোর সঙ্গে মানুষ হারায় জীবিকা, সামাজিক সম্পর্ক, পরিচিত পরিবেশ ও বহু বছরের স্মৃতি। দুর্যোগের পর পুনর্বাসনের সুযোগ না থাকলে বাস্তুচ্যুত মানুষ শহরমুখী হয় এবং বস্তি এলাকায় আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন, টেকসই বাঁধ ও নদীশাসন, আগাম সতর্কবার্তা, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি।

সংঘাতপূর্ণ এলাকায় প্রয়োজন শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত মানুষের নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাস্তুচ্যুতি যত বাড়ছে, নিষ্ক্রিয় থাকার মানবিক ও অর্থনৈতিক মূল্যও তত বাড়ছে।