আজ শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৫ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৮%

নানা আয়োজনে উদযাপিত হলো ‘কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং’ এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:25:39 pm, Friday, 18 September 2026
  • 10

নানা আয়োজনে উদযাপিত হলো ‘কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং’ এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে শিক্ষার আলো পৌঁছানোর সংগ্রামে পরম মমতায় জ্ঞানের মশাল জ্বেলে চলেছে ‘কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরি’। খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম বড়থলি এলাকায় অবস্থিত এই সামাজিক ও শিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠানটি সাফল্যের সাথে পথচলার ছয় বছর পূর্ণ করেছে।

ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দিনব্যাপী গ্রহণ করা হয় নানা মানবিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বড়থলি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধন করা হয়।

কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দিনভর ছিল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ, কুইজ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সংবর্ধনা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরির সভাপতি তানিমং মারমা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিশু আইসিইউ বেবি কেয়ার হাসপাতালের সাবেক মেডিকেল অফিসার ডা. রোনেক্স চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লাইব্রেরির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অংসাচিং মারমা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. রোনেক্স চৌধুরী বলেন, পাহাড়ের এমন দুর্গম অঞ্চলে লাইব্রেরি কেন্দ্রিক সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সত্যিই প্রশংসনীয়।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সমাজকে বদলে দেওয়া সম্ভব, কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরি সেই পথেই হেঁটে চলেছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা ও অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাঠাগার সম্পাদক থৈঅংপ্রু মারমা, বড়থলি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উসাগ্য মারমা, বিএমসি খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অংগ্য মারমা, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাঠ সংগঠক মংসানু মারমা, এইচএনসি অ্যান্ড ইউএসএনআই ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত তঞ্চগ্যা এবং সামাজিক সংগঠক আহ্লুরা মারমা।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক অংচিং মারমা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় অভিভাবকবৃন্দ। অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। ক্যাম্পে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন।

একই সাথে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে খাতা-কলমসহ নানা শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয় এবং পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীরা প্রায়শই অনেক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে শিক্ষার প্রসার ঘটানো, স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২শত জনকে চিকিৎসা সেবা, গাছের চারা বিতরণ ও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সংবর্ধনা। এ ধরণের জনকল্যাণমূলক আয়োজনের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত অভিভাবক ও এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা মনে করেন, বই পড়ার চর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এই লাইব্রেরিটি আগামী দিনে পাহাড়ে আলোর বার্তা পৌঁছে দিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কোন ২৩ জনকে নিয়ে আসিয়ান কাপে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ?

নানা আয়োজনে উদযাপিত হলো ‘কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং’ এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

Update Time : 05:25:39 pm, Friday, 18 September 2026

পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে শিক্ষার আলো পৌঁছানোর সংগ্রামে পরম মমতায় জ্ঞানের মশাল জ্বেলে চলেছে ‘কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরি’। খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম বড়থলি এলাকায় অবস্থিত এই সামাজিক ও শিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠানটি সাফল্যের সাথে পথচলার ছয় বছর পূর্ণ করেছে।

ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দিনব্যাপী গ্রহণ করা হয় নানা মানবিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বড়থলি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধন করা হয়।

কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দিনভর ছিল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ, কুইজ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সংবর্ধনা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরির সভাপতি তানিমং মারমা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিশু আইসিইউ বেবি কেয়ার হাসপাতালের সাবেক মেডিকেল অফিসার ডা. রোনেক্স চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লাইব্রেরির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অংসাচিং মারমা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. রোনেক্স চৌধুরী বলেন, পাহাড়ের এমন দুর্গম অঞ্চলে লাইব্রেরি কেন্দ্রিক সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সত্যিই প্রশংসনীয়।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি সমাজকে বদলে দেওয়া সম্ভব, কইংগ্রী পঞ্ঞা আরং লাইব্রেরি সেই পথেই হেঁটে চলেছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা ও অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাঠাগার সম্পাদক থৈঅংপ্রু মারমা, বড়থলি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উসাগ্য মারমা, বিএমসি খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অংগ্য মারমা, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাঠ সংগঠক মংসানু মারমা, এইচএনসি অ্যান্ড ইউএসএনআই ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্ট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত তঞ্চগ্যা এবং সামাজিক সংগঠক আহ্লুরা মারমা।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক অংচিং মারমা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় অভিভাবকবৃন্দ। অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। ক্যাম্পে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করেন।

একই সাথে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে খাতা-কলমসহ নানা শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয় এবং পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছের চারা। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীরা প্রায়শই অনেক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে শিক্ষার প্রসার ঘটানো, স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করা এবং পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২শত জনকে চিকিৎসা সেবা, গাছের চারা বিতরণ ও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীদের বিশেষ সংবর্ধনা। এ ধরণের জনকল্যাণমূলক আয়োজনের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি জনপদের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপস্থিত অভিভাবক ও এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা মনে করেন, বই পড়ার চর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এই লাইব্রেরিটি আগামী দিনে পাহাড়ে আলোর বার্তা পৌঁছে দিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।