চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান জানিয়েছেন, ‘কোনো শিশু স্কুলের বাইরে থাকবে না’—এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন। এই লক্ষ্য অর্জনে মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে চট্টগ্রাম যুব ও ছাত্র ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন,শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড-এটি কেবল একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ নয়, বরং একটি জাতির অস্তিত্ব ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি।
মানুষের শরীরের মেরুদণ্ড যেমন তাকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে ও চলাফেরা করতে সাহায্য করে, তেমনি শিক্ষা একটি জাতিকে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শক্তি ও যোগ্যতা জোগায়। এ লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তন আনতে সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর তদারকি এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনা দরকার। শিশুদের বিদ্যালয়ে শেখার সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের মাধ্যমে গড়ে তোলা হচ্ছে ভবিষ্যতের দক্ষ প্রজন্ম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক কাউন্সিলর নিয়াজ মোহাম্মদ খান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, সদস্য মো. লিপু। বিশেষ অতিথি নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার মেয়েদের শিক্ষা আরও সহজ করতে স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থা বিনামূল্যে করার বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
মেয়েদের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত সর্বজনীন উপবৃত্তি চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব প্রণয়ন করতে বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়টিও চিন্তাভাবনা করছে সরকার।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাগ, ড্রেস, জুতা প্রদান করার কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান, শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম যুব ও ছাত্র ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইফাজ খান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম যুব ও ছাত্র ফোরাম অরাজনৈতিক মানবিক সংগঠন। আমরা প্রতিনিয়ত সমাজে মানবিকতা ছড়িয়ে দিতে চাই। বিশেষ করে তরুণদের নিয়ে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের অর্থনীতিতে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে তাদের ওপর নির্ভর করতে হবে সবচেয়ে বেশি।
আজকের তরুণরাই আগামী বাংলাদেশের রূপকার। তারুণ্য শুধু বয়স নয়, এটা এক অসীম শক্তি। ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে তৈরি করতে হবে, তাদের সুযোগ করে দিতে হবে, চালকের আসনে বসাতে হবে। মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত জীবন গড়া আমাদের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিম, চট্টগ্রাম মহানগর তাঁতী দলের আহ্বায়ক সেলিম হাফেজ, মহানগর বিএনপি নেতা মোহাম্মদ বুলু, ডবলমুরিং থানা বিএনপির সংগঠক মো. সুফি ইব্রাহীম, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, এস এম নাসির, সিরাজুল মোস্তফা, আব্বাস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহজাহান, আমির উদ্দিন বাবুল, হাজী ইসমাইল, মো. জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ আজিম, মো. সিরাজ, মো. মুসলিম, আব্দুল নুরু, সালে আহম্মদ, মো. আকবর, মোহাম্মদ ইসলাম, হায়দার আলী।
উপস্থিত ছিলেন ডবলমুরিং থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম আমিন, যুবদল নেতা সংগঠক মোহাম্মদ ফারুক, মুরাদ উদ্দিন, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জসিম, মোজাম্মেল মাসুদ, মোহাম্মদ আলমগীর, ওয়াসিম, মোহাম্মদ দেলোয়ার, মোহাম্মদ জাহিদ, মাহবুব, সোহাগ হোসেন, মো. সোহেল, মাইনুদ্দিন চিশতিয়া, নুর নবী, মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ আজিজ, মো. সোহেল, ফেরদৌস, বাপ্পি, মোহাম্মদ দেলোয়ার, ডবলমুরিং থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আরিফ, সদস্য সচিব ইরফান আলম অপু এবং চট্টগ্রাম যুব ও ছাত্র ফোরামের মো. শাহরিয়ার আলম তাওসিফ, রাহিবীন আলম রাতুল, মো. আব্দুল রাফি তাহাসিন, মো. নজীবুল বশর চৌধুরী নিরব, মো. ফয়সাল, মো. গালিবসহ নেতৃবৃন্দ।
শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেন অতিথিরা।



















