আজ শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৪%

আবারও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন এরদোগান

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:39:23 pm, Friday, 18 September 2026
  • 21

আবারও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন এরদোগান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

২০২৮ সালের তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। দেশটির উপদেষ্টা মেহমেত উচুম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এরদোগানের পুনরায় প্রার্থী হওয়ার সাংবিধানিক সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ডেইলি অবজারভার। মেহমেত উচুমের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্কের ৬০০ সদস্যের পার্লামেন্টে অন্তত ৩৬০ জন আগাম নির্বাচনের পক্ষে ভোট দিলে ২০২৮ সালের এপ্রিলেই নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে তিনি ১৬ এপ্রিলের কথা উল্লেখ করেছেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, তুরস্কের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৮ সালের মে মাসে হওয়ার কথা।

তবে দেশটির সংবিধানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে আগাম নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। সংসদ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিয়ে এমন নির্বাচন হলে এরদোগানের ফের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ খুলতে পারে। বর্তমানে এরদোগানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) এবং তাদের জোটসঙ্গী ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) মিলিয়ে সংসদে ৩২৬টি আসন রয়েছে।

ফলে আগাম নির্বাচন ডাকার জন্য প্রয়োজনীয় ৩৬০ ভোট পেতে হলে তাদের আরও ৩৪ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন দরকার হবে। এর আগে তুরস্কের সরকার বারবার জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি একে পার্টির মুখপাত্র ওমের চেলিকও বলেছেন, নির্বাচন এগিয়ে আনার কোনো সরকারি পরিকল্পনা নেই। এর মধ্যেই এরদোগানের উপদেষ্টার বক্তব্যে আগাম নির্বাচন নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোগান ২০০৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন এরদোগান। টানা তিন মেয়াদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৪ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এরদোগানের শাসনামলেই তুরস্কের রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসে। সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে দেশটি প্রেসিডেন্টকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায় যায়।

এরপর ২০১৮ ও ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও জয় পান এরদোগান। ২০২৩ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর এরদোগান সেই মেয়াদকে তার শেষ প্রেসিডেন্ট মেয়াদ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। সে সময় তিনি ভোটারদের কাছেও তাকে আরেকবার দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সংবিধানের একটি বিধান আগাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।

প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদ চলাকালে সংসদ আগাম নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলে ওই প্রেসিডেন্ট পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এ কারণে ২০২৮ সালের নির্বাচন নির্ধারিত মে মাসে হবে, নাকি তার আগেই ভোট আয়োজন করা হবে—এখন তুরস্কের রাজনীতিতে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। আগাম নির্বাচন হলে এরদোগান আবার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবেন কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ভারতীয় পণ্যে শতভাগ শুল্কারোপের বিলে সই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

আবারও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন এরদোগান

Update Time : 03:39:23 pm, Friday, 18 September 2026

২০২৮ সালের তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। দেশটির উপদেষ্টা মেহমেত উচুম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এরদোগানের পুনরায় প্রার্থী হওয়ার সাংবিধানিক সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ডেইলি অবজারভার। মেহমেত উচুমের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্কের ৬০০ সদস্যের পার্লামেন্টে অন্তত ৩৬০ জন আগাম নির্বাচনের পক্ষে ভোট দিলে ২০২৮ সালের এপ্রিলেই নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে তিনি ১৬ এপ্রিলের কথা উল্লেখ করেছেন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, তুরস্কের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৮ সালের মে মাসে হওয়ার কথা।

তবে দেশটির সংবিধানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে আগাম নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। সংসদ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিয়ে এমন নির্বাচন হলে এরদোগানের ফের প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ খুলতে পারে। বর্তমানে এরদোগানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) এবং তাদের জোটসঙ্গী ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) মিলিয়ে সংসদে ৩২৬টি আসন রয়েছে।

ফলে আগাম নির্বাচন ডাকার জন্য প্রয়োজনীয় ৩৬০ ভোট পেতে হলে তাদের আরও ৩৪ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন দরকার হবে। এর আগে তুরস্কের সরকার বারবার জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি একে পার্টির মুখপাত্র ওমের চেলিকও বলেছেন, নির্বাচন এগিয়ে আনার কোনো সরকারি পরিকল্পনা নেই। এর মধ্যেই এরদোগানের উপদেষ্টার বক্তব্যে আগাম নির্বাচন নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোগান ২০০৩ সালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসেন এরদোগান। টানা তিন মেয়াদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৪ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এরদোগানের শাসনামলেই তুরস্কের রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসে। সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে দেশটি প্রেসিডেন্টকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায় যায়।

এরপর ২০১৮ ও ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও জয় পান এরদোগান। ২০২৩ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর এরদোগান সেই মেয়াদকে তার শেষ প্রেসিডেন্ট মেয়াদ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। সে সময় তিনি ভোটারদের কাছেও তাকে আরেকবার দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সংবিধানের একটি বিধান আগাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।

প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদ চলাকালে সংসদ আগাম নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিলে ওই প্রেসিডেন্ট পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এ কারণে ২০২৮ সালের নির্বাচন নির্ধারিত মে মাসে হবে, নাকি তার আগেই ভোট আয়োজন করা হবে—এখন তুরস্কের রাজনীতিতে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। আগাম নির্বাচন হলে এরদোগান আবার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবেন কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।