প্রত্যেক শিশুর জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, শিশুদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারাই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলবে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এডিপি) অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য শুধু শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করলেই হবে না; তাদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় শিশুদেরও প্রস্তুত করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করে সেখানে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং শিশুদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার ওপর। বাংলাদেশে এখনো অনেক শিশু শিক্ষা, পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় সেবার বাইরে রয়েছে। এসব শিশুকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
রাজশাহীতে ওয়ার্ল্ড ভিশনের এ কর্মসূচিকে আশাব্যঞ্জক উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা বিস্তার, মাদক প্রতিরোধ এবং শিশুদের ঝুঁকি কমাতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিশুদের শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া রোধে পরিবার ও সমাজের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তাদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সভায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহী শহর এডিপির কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২৫ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্যায়ন ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়।
এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময়, শিশু উপদেষ্টা কমিটি গঠন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহ এবং শিশু ও যুব ফোরাম গঠন করা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার প্রায় ৫ লাখ ৫ হাজার ৩২৪ জন মানুষ এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। এর মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫০টি পরিবার। ইতোমধ্যে প্রায় ২৯ হাজার ৯১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার শনাক্ত করা হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর (অপারেশনস) চন্দন জেড. গমেজ। এ সময় রাজশাহীর সিভিল সার্জন এসআইএম রাজিউল করিম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর জ্যারেড বেরেন্ডস, ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাজশাহীর বিভাগীয় পরিচালক এ কে এম মুজাহিদুল ইসলাম, রাজশাহী ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশের ডিডি রেভারেন্ড বিশপ জের্ভাস রোজারিও, ওয়ার্ল্ড ভিশনের নর্দান বাংলাদেশ ক্লাস্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর-ফিল্ড অপারেশনস রাজু উইলিয়াম রোজারিওসহ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন এনজিও এবং শিশু ফোরামের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




















