আজ বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৫%

রাজধানীর সড়কে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:13:27 pm, Wednesday, 16 September 2026
  • 10

রাজধানীর সড়কে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজধানীর সড়কগুলোতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে হতাহতের সংখ্যা, যার মধ্যে সাধারণ পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। শহরের পাঁচটি ব্যস্ত এলাকাকে দুর্ঘটনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষ চালক, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন এবং ফুটপাত দখলের মতো নানাবিধ কারণে ঢাকা শহরের পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে জটিল হচ্ছে। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

৩৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাজধানী ঢাকা। নানা সমস্যায় জর্জরিত এই রাজপথে দুর্ঘটনার চিত্র হরহামেশাই দেখা যায়।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৬ বছরে রাজধানীর সড়কে সবচেয়ে বেশি হতাহতের শিকার সাধারণ পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহী। নিহতদের ৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশই পথচারী; আর মোটরসাইকেল আরোহী ৩৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। বাকি ২০ শতাংশ বাস, রিকশা এবং অটোরিকশার চালক ও যাত্রী। প্রতিবছরই বাড়ছে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর সড়ক-এই ৫টি ব্যস্ত এলাকা দুর্ঘটনার ‘হটস্পট’ বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনটের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘নানা ধরনের যানবাহন চলছে একই শহরে। ফলে এইখানে পথচারী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফুটপাতগুলো হকারদের দখলে চলে গেছে। রোডস এন্ড হাইওয়ে বলেন কিংবা বিআরটিএ বলেন–এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসলে প্রতিষ্ঠানিক কার্যকারীতা নেই, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অনেক ঘাটতি আছে, এগুলো প্রশ্নবিদ্ধ। এগুলো নিয়ে আসলে কোনো উদ্দোগ নেওয়া হচ্ছে না। সরকার তো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না।’

রাজধানীতে যানবাহন পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন, অদক্ষ চালক, যানজট, অটোরিকশার দৌরাত্ব্য, ফুটপাত দখলসহ বেশকিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সমস্যা সমাধানে সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর গবেষনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ‘ঢাকা শহরে যত দুর্ঘটনা ঘটে, তার মধ্যে অধিকাংশই পথচারী কেন্দ্রিক দুর্ঘটনা। লোকেশন ভিত্তিক যদি বলি তাহলে ইনটারসেকশে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। ঢাকা শহরে যতগুলো ইনটারসেকশ রয়েছে সবগুলোর একটা বিজ্ঞানভিত্তিক একটা গবেষণা প্রয়োজন। কোথায় কতটুকু সেফটি মেজার নিলে পথচারীরা নিরাপদে থাকবে সেটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনের চেয়েও দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরো ভয়াবহ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

রাজধানীর গণপরিবহন উন্নয়নে একনেকে ৩টি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন

রাজধানীর সড়কে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা

Update Time : 01:13:27 pm, Wednesday, 16 September 2026

রাজধানীর সড়কগুলোতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে হতাহতের সংখ্যা, যার মধ্যে সাধারণ পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। শহরের পাঁচটি ব্যস্ত এলাকাকে দুর্ঘটনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষ চালক, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন এবং ফুটপাত দখলের মতো নানাবিধ কারণে ঢাকা শহরের পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে জটিল হচ্ছে। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

৩৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাজধানী ঢাকা। নানা সমস্যায় জর্জরিত এই রাজপথে দুর্ঘটনার চিত্র হরহামেশাই দেখা যায়।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৬ বছরে রাজধানীর সড়কে সবচেয়ে বেশি হতাহতের শিকার সাধারণ পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহী। নিহতদের ৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশই পথচারী; আর মোটরসাইকেল আরোহী ৩৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। বাকি ২০ শতাংশ বাস, রিকশা এবং অটোরিকশার চালক ও যাত্রী। প্রতিবছরই বাড়ছে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর সড়ক-এই ৫টি ব্যস্ত এলাকা দুর্ঘটনার ‘হটস্পট’ বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনটের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘নানা ধরনের যানবাহন চলছে একই শহরে। ফলে এইখানে পথচারী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফুটপাতগুলো হকারদের দখলে চলে গেছে। রোডস এন্ড হাইওয়ে বলেন কিংবা বিআরটিএ বলেন–এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসলে প্রতিষ্ঠানিক কার্যকারীতা নেই, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অনেক ঘাটতি আছে, এগুলো প্রশ্নবিদ্ধ। এগুলো নিয়ে আসলে কোনো উদ্দোগ নেওয়া হচ্ছে না। সরকার তো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না।’

রাজধানীতে যানবাহন পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন, অদক্ষ চালক, যানজট, অটোরিকশার দৌরাত্ব্য, ফুটপাত দখলসহ বেশকিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সমস্যা সমাধানে সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর গবেষনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সাইফুন নেওয়াজ বলেন, ‘ঢাকা শহরে যত দুর্ঘটনা ঘটে, তার মধ্যে অধিকাংশই পথচারী কেন্দ্রিক দুর্ঘটনা। লোকেশন ভিত্তিক যদি বলি তাহলে ইনটারসেকশে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। ঢাকা শহরে যতগুলো ইনটারসেকশ রয়েছে সবগুলোর একটা বিজ্ঞানভিত্তিক একটা গবেষণা প্রয়োজন। কোথায় কতটুকু সেফটি মেজার নিলে পথচারীরা নিরাপদে থাকবে সেটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনের চেয়েও দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরো ভয়াবহ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।