আজ মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০২ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬০%

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সফল হাঁটু প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:46:11 pm, Tuesday, 15 September 2026
  • 9

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সফল হাঁটু প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রথমবারের মতো হাঁটু প্রতিস্থাপন (nee replacement) অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগে এ অস্ত্রোপচার করা হয়।

এর মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের সরকারি চিকিৎসাসেবায় জটিল ও আধুনিক হাঁটু প্রতিস্থাপন চিকিৎসার নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো। অস্ত্রোপচারের রোগী ৬০ বছর বয়সি বিবিজান। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে অস্টিওআর্থ্রাইটিসে ভুগছিলেন তিনি। রোগীর হাঁটুর ক্ষয় এতটাই গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, হাঁটু বেঁকে যাওয়ার পাশাপাশি তীব্র ব্যথা ও স্বাভাবিক চলাফেরায় মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়।

চিকিৎসকরা জানান, অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণে হাঁটুর জয়েন্টের ক্ষয় যখন অত্যন্ত বেশি হয়ে যায় এবং ওষুধ, ফিজিওথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না, তখন হাঁটু প্রতিস্থাপন আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়। রামেক হাসপাতালে প্রথমবারের এই অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন অর্থোপেডিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আলমগীর হোসেন।

তার সঙ্গে অস্ত্রোপচারে অংশ নেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনোয়ার তারিক সাবু, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সফিকুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইদ আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাতিউল ইসলাম, ডা. সালেহীনসহ বিভাগের আরও কয়েকজন চিকিৎসক। অস্ত্রোপচার শেষে অধ্যাপক ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, সফলভাবে হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর রোগী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক চলাফেরায় ফিরতে পারবেন।

তবে দ্রুত ও ভালোভাবে সুস্থ হওয়ার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। তিনি আরও বলেন, রামেক হাসপাতালে এখন থেকে হাঁটু প্রতিস্থাপনের এই চিকিৎসা কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের রোগীদের জটিল হাঁটুর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হবে না। একই সঙ্গে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতাও কমবে এবং অপেক্ষাকৃত কম খরচে সরকারি হাসপাতালেই আধুনিক এ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রামেক হাসপাতালে হাঁটু প্রতিস্থাপন চালু হওয়া শুধু একটি অস্ত্রোপচারের সফলতা নয়; এটি উত্তরবঙ্গের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত অস্থি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বাগাতিপাড়ায় ‘কালো জাদু’র ভয় দেখিয়ে ৩ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমবারের মতো সফল হাঁটু প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার

Update Time : 12:46:11 pm, Tuesday, 15 September 2026

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রথমবারের মতো হাঁটু প্রতিস্থাপন (nee replacement) অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগে এ অস্ত্রোপচার করা হয়।

এর মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের সরকারি চিকিৎসাসেবায় জটিল ও আধুনিক হাঁটু প্রতিস্থাপন চিকিৎসার নতুন দ্বার উন্মোচিত হলো। অস্ত্রোপচারের রোগী ৬০ বছর বয়সি বিবিজান। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে অস্টিওআর্থ্রাইটিসে ভুগছিলেন তিনি। রোগীর হাঁটুর ক্ষয় এতটাই গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, হাঁটু বেঁকে যাওয়ার পাশাপাশি তীব্র ব্যথা ও স্বাভাবিক চলাফেরায় মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়।

চিকিৎসকরা জানান, অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণে হাঁটুর জয়েন্টের ক্ষয় যখন অত্যন্ত বেশি হয়ে যায় এবং ওষুধ, ফিজিওথেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না, তখন হাঁটু প্রতিস্থাপন আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়। রামেক হাসপাতালে প্রথমবারের এই অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন অর্থোপেডিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আলমগীর হোসেন।

তার সঙ্গে অস্ত্রোপচারে অংশ নেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মনোয়ার তারিক সাবু, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সফিকুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইদ আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাতিউল ইসলাম, ডা. সালেহীনসহ বিভাগের আরও কয়েকজন চিকিৎসক। অস্ত্রোপচার শেষে অধ্যাপক ডা. আলমগীর হোসেন বলেন, সফলভাবে হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর রোগী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক চলাফেরায় ফিরতে পারবেন।

তবে দ্রুত ও ভালোভাবে সুস্থ হওয়ার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। তিনি আরও বলেন, রামেক হাসপাতালে এখন থেকে হাঁটু প্রতিস্থাপনের এই চিকিৎসা কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের রোগীদের জটিল হাঁটুর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হবে না। একই সঙ্গে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতাও কমবে এবং অপেক্ষাকৃত কম খরচে সরকারি হাসপাতালেই আধুনিক এ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রামেক হাসপাতালে হাঁটু প্রতিস্থাপন চালু হওয়া শুধু একটি অস্ত্রোপচারের সফলতা নয়; এটি উত্তরবঙ্গের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত অস্থি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।