জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা নিমাই শাহ মাজার এলাকায় মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ ও আড্ডায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাজার সংলগ্ন একটি ঘরে নিয়মিত মাদক সেবনের আসর বসে।
এতে মাজারের পরিবেশ যেমন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও। মাজার ঘেঁষে বয়ে গেছে তুলশীগঙ্গা নদী। প্রতিবছর এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী ‘বান্নি’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে নারীরা নদীতে স্নান শেষে পোশাক পরিবর্তনের জন্য সমস্যায় পড়তেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে নদীর তীরে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়।
উৎসবের সময় ওই ঘরে নারীরা গোসল ও পোশাক পরিবর্তন করতেন। তবে উৎসব শেষ হওয়ার পর ঘরটি সাধারণত বন্ধ থাকে। অভিযোগ, এই সুযোগে মাদকসেবীরা ঘরটির তালা ভেঙে সেটিকে মাদক সেবনের আখড়ায় পরিণত করেছে। সন্ধ্যার পর সেখানে একের পর এক মাদকসেবীর আনাগোনা শুরু হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত চলে আড্ডা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকসেবীদের এমন অবাধ বিচরণের কারণে মাজার এলাকায় চুরির ঘটনাও বেড়েছে।
কিছুদিন আগে মাজারের সিন্দুক ভেঙে দানের টাকা চুরি করা হয়। এর এক-দুই দিনের মধ্যে মাজার সংলগ্ন মসজিদ থেকেও ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটে। মাজার দেখভালের দায়িত্বে থাকা বৃদ্ধ কফিল উদ্দিন মন্ডল বলেন, মাজার এলাকায় নেশাখোরদের আড্ডা হওয়ায় চুরি বেড়েছে। তাদের কিছু বলাও যায় না। স্থানীরা পবিত্র মাজার ও ধর্মীয় স্থাপনার পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পাশাপাশি ভাঙা তালা মেরামত করে নারীদের পোশাক পরিবর্তনের ঘরটি নিরাপদ রাখার ও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।



















