আজ মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০২ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৩%

ধ্বংসের মুখে রূপগঞ্জের ঐতিহাসিক মুড়াপাড়া জমিদারবাড়ি, বর্তমানে যুক্ত সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের সাথে

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:09:07 am, Tuesday, 15 September 2026
  • 14

ধ্বংসের মুখে রূপগঞ্জের ঐতিহাসিক মুড়াপাড়া জমিদারবাড়ি, বর্তমানে যুক্ত সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের সাথে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রূপগঞ্জের প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক মুড়াপাড়া জমিদারবাড়ি বর্তমানে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনার দেয়ালে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা এবং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কারুকাজ। এছাড়া ভবনের কোথাও ছাদ ভেদ করে গাছের শিকড় বেরিয়েছে এবং বিভিন্ন অংশ আগাছায় ঢেকে গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনের কিছু অংশে এখনো চলছে সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের পাঠদান। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে প্রায় ৫২ বিঘা জমির ওপর জমিদার রামরতন ব্যানার্জীর হাত ধরে এ প্রাসাদের নির্মাণযাত্রা শুরু হয়। পরে তার উত্তরসূরিদের হাতে এটি আরও বিস্তৃত হয়।

বিশাল এ জমিদারবাড়িতে রয়েছে ৯১টি কক্ষ, দুটি মন্দির, দুটি পুকুর, নৃত্যশালা, শান বাঁধানো পুকুরঘাট, পুরোনো লোহার বেষ্টনী, অন্দরমহলের জলাধার ও আমবাগানসহ নানা স্থাপনা। জমিদারি আমলে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের অন্যতম কেন্দ্র ছিল এ প্রাসাদ। স্থাপনার দেয়াল ও অলংকরণে তৎকালীন শিল্পবোধ ও স্থাপত্যশৈলীরও নিদর্শন রয়েছে।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে জমিদার পরিবার কলকাতায় চলে যায়। পরে প্রাসাদটি সরকারের অধীনে আসে। ১৯৬৬ সাল থেকে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৮৭ সালে মুড়াপাড়া জমিদারবাড়িকে প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর।

এরপর প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও স্থাপনাটির কাক্সিক্ষত সংস্কার ও সংরক্ষণ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে। অনেক জায়গায় খসে পড়েছে পলেস্তারা। পুরোনো সিঁড়িগুলোর কিছু অংশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশে গাছের শিকড় ঢুকে পড়েছে। কোথাও জানালা ও বারান্দার কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত।

ফলে ভবনটির ভেতরে চলাচল এবং পাঠদান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঝুঁকির কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ অন্দরমহলের কিছু অংশ বন্ধ রেখেছে। কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলেও প্রয়োজনের কারণে পুরোনো ভবনের কিছু অংশে এখনো পাঠদান চলছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে বসতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হাফিজুর রহমান বলেন, ভবনটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন।

ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি কক্ষ ইতোমধ্যে ব্যবহার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে জায়গার সংকটের কারণে কিছু পাঠ কার্যক্রম এখনো পুরোনো ভবনের অংশে চালাতে হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু বলেন, মুড়াপাড়া জমিদারবাড়িটি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় থাকায় স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের সংস্কার করা সম্ভব নয়। স্থাপনাটির সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

পাঁচ গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো

ধ্বংসের মুখে রূপগঞ্জের ঐতিহাসিক মুড়াপাড়া জমিদারবাড়ি, বর্তমানে যুক্ত সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের সাথে

Update Time : 06:09:07 am, Tuesday, 15 September 2026

রূপগঞ্জের প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক মুড়াপাড়া জমিদারবাড়ি বর্তমানে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনার দেয়ালে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা এবং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কারুকাজ। এছাড়া ভবনের কোথাও ছাদ ভেদ করে গাছের শিকড় বেরিয়েছে এবং বিভিন্ন অংশ আগাছায় ঢেকে গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনের কিছু অংশে এখনো চলছে সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের পাঠদান। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে প্রায় ৫২ বিঘা জমির ওপর জমিদার রামরতন ব্যানার্জীর হাত ধরে এ প্রাসাদের নির্মাণযাত্রা শুরু হয়। পরে তার উত্তরসূরিদের হাতে এটি আরও বিস্তৃত হয়।

বিশাল এ জমিদারবাড়িতে রয়েছে ৯১টি কক্ষ, দুটি মন্দির, দুটি পুকুর, নৃত্যশালা, শান বাঁধানো পুকুরঘাট, পুরোনো লোহার বেষ্টনী, অন্দরমহলের জলাধার ও আমবাগানসহ নানা স্থাপনা। জমিদারি আমলে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের অন্যতম কেন্দ্র ছিল এ প্রাসাদ। স্থাপনার দেয়াল ও অলংকরণে তৎকালীন শিল্পবোধ ও স্থাপত্যশৈলীরও নিদর্শন রয়েছে।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে জমিদার পরিবার কলকাতায় চলে যায়। পরে প্রাসাদটি সরকারের অধীনে আসে। ১৯৬৬ সাল থেকে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের সঙ্গে যুক্ত। ১৯৮৭ সালে মুড়াপাড়া জমিদারবাড়িকে প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর।

এরপর প্রায় চার দশক পেরিয়ে গেলেও স্থাপনাটির কাক্সিক্ষত সংস্কার ও সংরক্ষণ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে। অনেক জায়গায় খসে পড়েছে পলেস্তারা। পুরোনো সিঁড়িগুলোর কিছু অংশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশে গাছের শিকড় ঢুকে পড়েছে। কোথাও জানালা ও বারান্দার কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত।

ফলে ভবনটির ভেতরে চলাচল এবং পাঠদান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঝুঁকির কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ অন্দরমহলের কিছু অংশ বন্ধ রেখেছে। কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলেও প্রয়োজনের কারণে পুরোনো ভবনের কিছু অংশে এখনো পাঠদান চলছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে বসতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হাফিজুর রহমান বলেন, ভবনটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষও উদ্বিগ্ন।

ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি কক্ষ ইতোমধ্যে ব্যবহার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে জায়গার সংকটের কারণে কিছু পাঠ কার্যক্রম এখনো পুরোনো ভবনের অংশে চালাতে হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু বলেন, মুড়াপাড়া জমিদারবাড়িটি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় থাকায় স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের সংস্কার করা সম্ভব নয়। স্থাপনাটির সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে এবং দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।