আজ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭১%

তিন মাসে নতুন কোটিপতি ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:12:41 pm, Monday, 14 September 2026
  • 12

তিন মাসে নতুন কোটিপতি ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চলতি বছরের জুন মাস শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে। এর আগে গত মার্চ মাস শেষে এ ধরনের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি।

অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা নতুন হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবগুলোতে মোট জমা ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ তিন মাসে এসব হিসাবে আমানত বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। এদিকে জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এসব হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাব ছিল ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি। ওই সময় এসব হিসাবে জমা ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২ কোটি টাকা।

সে হিসাবে তিন মাসে ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩টি। একই সময়ে মোট আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। তবে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বাড়লেও ব্যক্তি পর্যায়ে আমানতের পরিমাণ কমেছে। বিপরীতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবগুলোতে মোট অর্থের পরিমাণও বেড়েছে।

জুন শেষে ব্যক্তি শ্রেণির এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৭০১টি। এসব হিসাবে মোট জমা ছিল ৯০ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। মার্চ শেষে ব্যক্তি শ্রেণির এমন হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৬৩০টি। তখন এসব হিসাবে জমা ছিল ৯১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ব্যক্তি পর্যায়ে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৭১টি। তবে এসব হিসাবে মোট আমানত কমেছে ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা অর্থ ব্যাংকে জমা থাকছে। বিশেষ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি উচ্চ সুদহার ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগের পরিবর্তে অর্থ ব্যাংকে রেখে দিচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানের চলতি মূলধন, ব্যবসায়িক লেনদেনের অর্থ এবং সাময়িকভাবে অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকে জমা রাখার প্রবণতা বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর প্রভাব পড়েছে প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের আমানতে। অন্যদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যক্তি পর্যায়ে সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমেছে।

ফলে ব্যক্তি শ্রেণির কোটিপতি হিসাবগুলোতে আমানত কমলেও প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের অর্থ বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিকভাবে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের অর্থ বেড়েছে। তবে ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা দিয়ে দেশে প্রকৃত কোটিপতির সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। কারণ এসব হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার হিসাব রয়েছে।

একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাবও পরিচালনা করতে পারে। ফলে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা এবং কোটিপতি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক নয়। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে দেশে এক কোটি টাকার বেশি আমানতকারী হিসাব ছিল মাত্র পাঁচটি। ১৯৭৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭টিতে এবং ১৯৮০ সালে ৯৮টি হয়। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি এবং ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টিতে উন্নীত হয়।

২০০৮ সালে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯ হাজার ১৬৩টি। পরবর্তী সময়ে এ সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১ হাজার ৯৭৬টিতে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাব বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তা আরও বেড়ে হয় ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টি। আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। সবশেষ চলতি বছরের জুন শেষে দেশে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থানে এনসিটিবি

তিন মাসে নতুন কোটিপতি ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি

Update Time : 10:12:41 pm, Monday, 14 September 2026

চলতি বছরের জুন মাস শেষে দেশের ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে। এর আগে গত মার্চ মাস শেষে এ ধরনের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি।

অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা নতুন হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবগুলোতে মোট জমা ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ তিন মাসে এসব হিসাবে আমানত বেড়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। এদিকে জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এসব হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাব ছিল ১৮ কোটি ২৬ লাখ ১২ হাজার ১৫টি। ওই সময় এসব হিসাবে জমা ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২ কোটি টাকা।

সে হিসাবে তিন মাসে ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৩৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৭৩টি। একই সময়ে মোট আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। তবে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বাড়লেও ব্যক্তি পর্যায়ে আমানতের পরিমাণ কমেছে। বিপরীতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবগুলোতে মোট অর্থের পরিমাণও বেড়েছে।

জুন শেষে ব্যক্তি শ্রেণির এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৭০১টি। এসব হিসাবে মোট জমা ছিল ৯০ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। মার্চ শেষে ব্যক্তি শ্রেণির এমন হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৬৩০টি। তখন এসব হিসাবে জমা ছিল ৯১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ব্যক্তি পর্যায়ে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৭১টি। তবে এসব হিসাবে মোট আমানত কমেছে ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা অর্থ ব্যাংকে জমা থাকছে। বিশেষ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি উচ্চ সুদহার ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন এবং বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগের পরিবর্তে অর্থ ব্যাংকে রেখে দিচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানের চলতি মূলধন, ব্যবসায়িক লেনদেনের অর্থ এবং সাময়িকভাবে অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকে জমা রাখার প্রবণতা বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর প্রভাব পড়েছে প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের আমানতে। অন্যদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যক্তি পর্যায়ে সঞ্চয়ের সক্ষমতা কমেছে।

ফলে ব্যক্তি শ্রেণির কোটিপতি হিসাবগুলোতে আমানত কমলেও প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের অর্থ বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিকভাবে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের অর্থ বেড়েছে। তবে ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা দিয়ে দেশে প্রকৃত কোটিপতির সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। কারণ এসব হিসাবের মধ্যে ব্যক্তি ছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার হিসাব রয়েছে।

একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাবও পরিচালনা করতে পারে। ফলে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা এবং কোটিপতি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক নয়। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে দেশে এক কোটি টাকার বেশি আমানতকারী হিসাব ছিল মাত্র পাঁচটি। ১৯৭৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭টিতে এবং ১৯৮০ সালে ৯৮টি হয়। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি এবং ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টিতে উন্নীত হয়।

২০০৮ সালে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯ হাজার ১৬৩টি। পরবর্তী সময়ে এ সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১ হাজার ৯৭৬টিতে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাব বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তা আরও বেড়ে হয় ১ লাখ ২২ হাজার ৮১টি। আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪টি। সবশেষ চলতি বছরের জুন শেষে দেশে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি।