বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশীয় জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে কয়লা উত্তোলন জোরদার করতে চায় সরকার। তাই আন্দোলনের মুখে ২০ বছর আগে বন্ধ হওয়া দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লা খনি প্রকল্পটি চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
দেশে স্থাপিত ৭ হাজার মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বছরে প্রায় ২ কোটি টন কয়লা আমদানি করতে ব্যয় হচ্ছে দেড়শ কোটি ডলারের বেশি। যদিও ৫ খনিতে প্রায় ৭৮০ কোটি টন কয়লা মজুদের তথ্য মিলেছে। অথচ বড়পুকুরিয়ায় ভূ-গর্ভস্থ পদ্ধতিতে সীমিত উত্তোলন হচ্ছে, সিদ্ধান্তহীনতায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে অন্য ৪ খনির কয়লা।
অর্থনীতির স্বার্থে দেশীয় কয়লার ব্যবহার বাড়ানোর চিন্তা করছে সরকার। এর মধ্যে ২০ বছর ধরে ঝুলে থাকা ফুলবাড়ী খনির কয়লা উত্তোলন ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা এসেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক কয়লা উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান জিসিএম রিসোর্সেসের ওয়েবসাইটে। আগে যার নাম ছিল এশিয়া এনার্জি। চুক্তি অনুযায়ী, চীনা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিমের মতে, দেশীয় কয়লা উত্তোলনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নিরপেক্ষ সমীক্ষা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আমলে নিতে হবে কয়লা উত্তোলনের অর্থনৈতিক লাভ, পুনর্বাসন ও পরিবেশগত ঝুঁকি। সম্ভাব্য ফুলবাড়ী কয়লা খনি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। যার ৮০ ভাগ এলাকা খোলা জমি বলে দাবি জিসিএম এর। ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, এতবড় এলাকার মানুষের পুনর্বাসন, প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতি বিবেচনায় নিতে হবে সবার আগে।
জিসিএম বলছে, ৫৭ কোটি টন মুজদ থাকা ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে বছরে দেড় কোটি টন পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে। বছরে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি জিডিপিতে যুক্ত করতে পারে প্রকল্পটি। এছাড়া প্রকল্প মেয়াদে কর, রয়্যালটি, বিভিন্ন ফিসহ মোট ৯০০ কোটি ডলারের বেশি পাবে সরকার। কর্মসংস্থান হতে পারে ১৭ হাজার মানুষের।



















